শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

ব্যাংকের সুদ এবং সরকারের ঋণ

আশিকুল হামিদ : দিনকয়েক আগের কথা। আমার এক ঘনিষ্ঠজন খুবই হতাশার সঙ্গে জানালেন, দু’-একটি নয়, চার-চারটি ব্যাংকে গিয়েও তিনি মাত্র পঁচিশ হাজার টাকা ওঠাতে পারেননি। ব্যাংকের অফিসাররা যথেষ্ট বিনয়ের সঙ্গে জানিয়েছেন, একজন গ্রাহককে দেয়ার মতো ‘এত বেশি টাকা’ তাদের ‘ক্যাশে’ নেই! পরিমাণ কিছু কম হলে তারা ‘ব্যবস্থা’ করতে পারেন। কতটা ‘কম’ জানতে চাইলে সর্বশেষ ব্যাংকের ম্যানেজার এক কাপ চা খাইয়ে বলেছেন, তার পক্ষে দশ হাজার টাকার বেশি দেয়া সম্ভব নয়! অগত্যা আমার ওই ঘনিষ্ঠজন চেকে কাটাকাটি করে দশ হাজার টাকা নিয়েই ফিরেছেন। এরপর তার বুদ্ধি খুলে গেছে। একইভাবে তিনি অন্য একটি ব্যাংক থেকেও দশ হাজার টাকা উঠিয়েছেন। তৃতীয় কোনো ব্যাংকে কেন যাননিÑ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, সময় ছিল না। তাছাড়া সরকার হঠাৎ ছুটি ঘোষণা করায় তার মধ্যেও বাসায় ফিরে যাওয়ার তাগিদ সৃষ্টি হয়েছিল। অন্য কিছু কথাও তিনি বলেছেন। উদ্দেশ্য যেহেতু ছিল এটিএম বুথ থেকে টাকা ওঠানো, সে কারণে সব ব্যাংকের চেক বইও তার সঙ্গে ছিল না। উল্লেখ্য, আমার ওই ঘনিষ্ঠজন বহু বছর ধরেই প্রধানত এটিএম বুথ থেকে টাকা উঠিয়ে থাকেন।
পাঠকরা অবাক হতে পারেন, কিন্তু এভাবে নিবন্ধের শুরু করার পেছনে বিশেষ কারণ রয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে খলাপি ঋণ এবং ঋণখেলাপিদের পাশাপাশি দেশের ব্যাংক খাত সম্পর্কেও নিয়মিতভাবে আলোচনা চলছে। এখনো চলমান সে আলোচনায় সুদ এবং সুদের হার এসেছে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে। এর কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সুদের হার একক সংখ্যায় বা সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জন্য সরকার এমন কিছু নির্দেশনা জারি ও কার্যকর করেছে, যেগুলোর ফলে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা নন, লাভবান হয়েছেন ব্যাংক মালিকরা। অন্যদিকে লোকসানের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ তথা আমানতকারীরা। কারণ, শিল্প-বাণিজ্যের ঋণের বিপরীতে সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চয়ী আমানতের বিপরীতে সুদের হারই শুধু ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়নি, এ ব্যাপারে নিজেদের লাভ ও সুবিধার জন্য ব্যাংকগুলোকে স্বাধীনতাও দেয়া হয়েছে। যে কোনো ব্যাংক চাইলে সুদের হার আরো কমাতে পারবে। বাস্তবে কমাচ্ছেও কোনো কোনো ব্যাংক।
বলা বাহুল্য, সরকারের এমন নির্দেশনার সুযোগ নিতে কোনো ব্যাংকই পিছিয়ে থাকেনি। সব ব্যাংকই যার যার লাভ ও সুবিধার জন্য সুদের হার নির্ধারণ ও পরিবর্তন করে চলেছে। এর ফলে আমানতকারীরা ব্যাংকে টাকা রাখার ব্যাপারে আগ্রহ তো হারাচ্ছেনই, তারা সেই সাথে নিজেদের গচ্ছিত অর্থও উঠিয়ে নিতে শুরু করেছেন। এ অবস্থার কারণেই ব্যাংকগুলো তারল্য তথা নগদ অর্থের সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। ব্যাংকগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। এ প্রসঙ্গে আমার ওই পরিচিতজনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করা যেতে পারে।
কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, ব্যাংকগুলো সংকটের মুখে পড়ে বিপন্ন হলেও ব্যাংকের মালিকরা কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না। তারা বরং লাভবান হচ্ছেন, সর্বতোভাবে সুবিধাও ভোগ করছেন। গত ৫ মার্চ ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক কর্মশালায় অর্থনীতিবিদসহ বিশিষ্টজনদের উপস্থাপিত বক্তব্যের উল্লেখ করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ব্যাংক ব্যবসায় সাধারণভাবে লাভ বহুগুণ কমলেও ব্যাংক মালিকরা অন্য ব্যাংকগুলো থেকে যথেচ্ছ পরিমাণে ঋণ নিয়ে লাভজনক অবস্থায় রয়েছেন। কারণ, এক ব্যাংকের মালিক ঋণ নিচ্ছেন অন্য ব্যাংকগুলো থেকে এবং কোনো মালিককেই তার নেয়া ঋণের অর্থ ফেরৎ দিতে হচ্ছে না। সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকও তাদের কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সাধারণত নেয়ও না। এর ফলে পুরনোদের পাশাপাশি নতুন অনেকেও ব্যাংকের মালিক হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের ওই কর্মশালায় উদ্বেগজনক অন্য কিছু তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। এরকম একটি প্রধান তথ্য হলো, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকার যে ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে তার মোট পরিমাণ গত ৪৮ বছরে নেয়া ঋণের সমান। এখানে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা দরকার, আগামী পহেলা এপ্রিল থেকে শিল্প-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুদের হার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও সরকার যে ঋণ নেবে তার বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করা হবে।
এদিকে সরকার অনেক বেশি হারে সুদ দেবে বলে ব্যাংকগুলোও সরকারকে ঋণ দেয়ার ব্যাপারেই বেশি আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে। ফলে বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা। তারা আসলে ঋণ পাচ্ছেন না বললেই চলে। ওদিকে রয়েছেন সাধারণ আমানতকারীরা, যাদের সুদের হার ব্যাপকভাবে কমানো হয়েছে। এমন অবস্থায় সমগ্র ব্যাংক খাতেই তীব্র সংকট অনিবার্য হয়ে উঠবে। এজন্যই উদ্বিগ্ন বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, সেরকারি খাতের পাশাপাশি গোটা দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার পরিবর্তে মহা সংকটের মুখে পড়বে। এর সঙ্গে করোনা যুক্ত হবে সর্বনাশের বিশেষ কারণ হিসেবে। ফলে সব মিলিয়ে সৃষ্টি হবে ভারসাম্যহীন অবস্থার।
বলার অপেক্ষা রাখে না, জাতীয় অর্থনীতির জন্য এমন অবস্থা ধ্বংসাত্মক হতে বাধ্য, যা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার নিজেই অনেক বেশি পরিমাণে ঋণ নেয়ার ফলে এরই মধ্যে দেশের ব্যাংক খাত কঠিন সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত  এক রিপোর্টে জানা গেছে, গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। এটা চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের পুরো সময়ের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চাইতেও তিন হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা বেশি। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে যে পরিমাণ ঋণ নেয়ার সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা ছিল সাড়ে পাঁচ মাস বাকি থাকতেই সরকার সে পরিমাণের চাইতে তিন হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়ে ফেলেছে।
এ পর্যন্ত এসে থেমে গেলেও হয়তো কথা বাড়ানোর প্রয়োজন পড়তো না। কিন্তু সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকার গত ৪৮ বছরের সমান অর্থ ঋণ নেবে বলে পরিকল্পনা করেছে। এমন তথ্য ও সম্ভাবনা নিঃসন্দেহে গুরুতর এবং অত্যন্ত ভীতিকর। কারণ, এর  ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট আরো মারাত্মক হবে। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোকে নগদ অর্থের তীব্র সংকটের সম্মুখীন হতে হবে এবং কোনো ব্যাংক চাইলেও তার পক্ষে বেসরকারি খাতের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন বা বাণিজ্যের জন্য ঋণ দেয়া সম্ভব হবে না। এসব কারণেই বিশেষজ্ঞরা ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়া বন্ধ করার এবং কমিয়ে আনার জন্য সরকারকে পরামর্শ ও তাগিদ দিয়েছেন।
অর্থনীতিবিদসহ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের উচিত উন্নয়ন কর্মকান্ডের আড়ালে ব্যয়বহুল প্রকল্পের সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং এমন সব উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, যেগুলোর মাধ্যমে একদিকে দেশে শিল্পায়ন হবে এবং অন্যদিকে বেকারদের জন্য সৃষ্টি হবে চাকরির সুযোগ। বলা দরকার, সরকার নিজেই যদি ঋণ নিয়ে ব্যাংকগুলোকে সংকটের মুখে ঠেলে দেয় তাহলে দেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে। তেমন অবস্থায় উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে না। এজন্যই সরকারকে যেমন ঋণ নেয়া কমাতে হবে, তেমনি সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে বেসরকারি খাতের জন্যও। ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সুদের হার পুনঃনির্ধারণের ব্যাপারেও বিকল্প সিদ্ধান্ত নেয়া ও কার্যকর করা দরকার। দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞরা চান না, দেশের অর্থনীতি একেবারে স্থবির হয়ে পড়ুক এবং উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি ঘটুক কেবলই কাগজে-কলমে।
শেষ করার আগে সাধারণ মানুষের দুরবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বলা দরকার। গণমাধ্যমের বিভিন্ন রিপোর্টে জানা গেছে, সরকার সঞ্চয় ও আমানতে সুদের হার অনেক কমিয়ে দেয়ায় বিপদে পড়েছেন বিশেষ করে মধ্যবিত্তরা, এতদিন যারা ব্যাংকে জমানো অর্থের বিনিময়ে প্রাপ্ত সুদ বা মুনাফার টাকার ওপর নির্ভরশীল থেকেছেন। কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রকাশিত সকল রিপোর্টেই জানানো হয়েছে, নিকট অতীতেও যেখানে ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যেতো, সেখানে সরকারের ‘নয়-ছয়’ সিদ্ধান্তের কারণে সুদের হার নেমে এসেছে মাত্র ছয় শতাংশে। এখানেও শেষ নয়। একই সঙ্গে আবার নানা নামে শুল্ক কেটে রাখারও নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রিপোর্টে জানা গেছে, কোনো ব্যক্তি যদি এক লাখ টাকা এফডিআর বা মেয়াদী আমানতে জমা রাখেন তাহলে ছয় শতাংশ হারে সুদসহ বছরশেষে তিনি পাবেন এক লাখ ছয় হাজার টাকা। কিন্তু এটা পাবেন কেবলই কাগজে-কলমে। এর সঙ্গে উৎস কর কাটবে ব্যাংক।
সেখানেও কথা আছে। ওই ব্যক্তি যদি টিআইএনধারী বা করদাতা হন তাহলে তার হিসাব থেকে ১০ শতাংশ হারে ছয়শ’ টাকা উৎস কর কেটে রাখা হবে। আর তার যদি টিআইএন না থাকে তাহলে উৎস কর হিসেবে ১৫ শতাংশ হারে অর্থ কেটে রাখবে ব্যাংক। ১০ শতাংশ হারে ছয়শ’ টাকা উৎস কর কেটে রাখা হলে আমানতকারী পাবেন এক লাখ পাঁচ হাজার চারশ টাকা। শুধু তা-ই নয়, আবগারী শুল্ক হিসেবেও ব্যাংক ১৫০ টাকা কেটে রাখবে। আবগারী শুল্কের আইনটি এমন সকল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যাদের অ্যাকাউন্টে একদিনের জন্য হলেও এক লাখ বা তার বেশি টাকা জমা পড়েছে। এর ফলে এক লাখ টাকার বিপরীতে আমানতকারীরা পাবেন মাত্র এক লাখ পাঁচ হাজার ২৫০ টাকা। 
এমন অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই সঞ্চয়ের বিকল্প নিয়ে ভাবনার কথা প্রাধান্যে এসেছে। স্থায়ী আমানতের একটি বিকল্প হিসেবে সঞ্চয়ী হিসাবে বা সেভিংস অ্যাকাউন্টের কথা বলা হলেও এর নেতিবাচক বিভিন্ন দিক সম্পর্কেও তথ্য রয়েছে রিপোর্টে। দেখা গেছে, স্থায়ী আমানতের বিপরীতে যেখানে ৬ শতাংশ হারে সুদ বা মুনাফা দেয়া হয়, সেখানে সঞ্চয়ী হিসাবের জন্য ব্যাংক ভেদে মুনাফার হার মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ। কিন্তু সঞ্চয়ী হিসাবের অর্থ যেহেতু মাঝে-মধ্যে জমা দেয়ার পাশাপাশি উত্তোলনও করা হয় সেহেতু ব্যাংকগুলো সেবার জন্য পৃথক মাশুল কেটে রাখে। সেই সাথে আবগারী শুল্ক যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে সুদের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সমন্বয়ের বিষয়। ফলে অনেক আমানতকারী বছরশেষে এমনকি তার আসল টাকারও হদিস পাবেন না। মুনাফার সব অর্থই ব্যাংকগুলো বিভিন্ন সেবার নামে কেটে নেবে।
জানা গেছে, বেসরকারি ব্যাংকে একটি হিসাবের বিপরীতে প্রতি বছর কেবল সার্ভিস চার্জ হিসেবেই দেড় থেকে দু’ হাজার টাকা পর্যন্ত কেটে রাখা হচ্ছে। ব্যাংকগুলো হিসাব পরিচালনার জন্য চার্জ বা ফি তো আদায় করছেই, একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে এসএমএস পাঠানো এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং-এর জন্যও বছরে ৫৭৫ টাকা পর্যন্ত কেটে নিচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বেশি বিপদে আছেন তারাÑ যারা কোনো ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন। বিশেষ করে বিদেশি ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডের সুদ আদায়ের ক্ষেত্রে রীতিমতো চৌর্যবৃত্তি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, একবার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার শুরু করলে কারো পক্ষেই ব্যাংকের কবল থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব হয় না। সুদে আর আসলে টাকার পরিমাণ শুধু বাড়তেই থাকে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সেবার নামে দেশের ব্যাংকগুলো আসলে আমানতকারীদের সঙ্গে চাতুরিপূর্ণ প্রতারণা করছে। একই কারণে সরকারের উচিত এমন ব্যবস্থা নেয়া, আমানতকারী সাধারণ মানুষকে যাতে বিপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত না হতে হয়। এ উদ্দেশ্যে সুদ বা মুনাফার হার যেমন বাড়ানো দরকার, তেমনি দরকার আবগারী শুল্ক ও উৎস কর ধরনের বাড়তি ব্যয়ের কবল থেকে আমানতকারীদের নিষ্কৃতি দেয়া। এমন আয়োজন নিশ্চিত করা দরকার, যাতে কোনো আমানতকারীকেই আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার না হতে হয়। যাতে মুনাফার ব্যাপারে আমানতকারীরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, আইন সংশোধন করার এবং সুদের হার বাড়ানোর মতো ব্যবস্থা নেয়া হলে মধ্যবিত্তসহ সাধারণ মানুষ আবারও ব্যাংকমুখী হবেন। এর ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট যেমন কাটিয়ে ওঠা যাবে তেমনি গতিশীল হবে জাতীয় অর্থনীতিও। দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই সরকারের উচিত এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়ে ওঠা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ