শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

দরিদ্রদের জন্য প্রয়োজন খাদ্য সহায়তা

মানুষ বাঁচতে চায়, ভালোভাবে বাঁচতে চায়। এমন আকাক্সক্ষাতেই মানুষ হয়েছে সমাজবদ্ধ। মানুষ শুধু সমাজবদ্ধ হয়নি, রাষ্ট্রগঠন করেছে, গড়ে তুলেছে আন্তর্জাতিক নানা সংস্থা এবং জাতিসংঘও। এতকিছুর পরও মানুষ ভালোভাবে বেঁচে থাকার মতো কোনো বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি। বর্তমান সভ্যতায় দেশে দেশে রাজনৈতিক সঙ্কট, অর্থনৈতিক সঙ্কট, সুশাসনের সঙ্কট, দুর্বলের ওপর নিপীড়নের সঙ্কট। আরো রয়েছে নানা অজাচার, অনাচারও বিকৃতির বিড়ম্বনা। আর দুর্বল দেশের ওপর বড় দেশের আগ্রাসিন তো চলছিলই। এসব অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি থেকে মানুষ মুক্তির প্রহর গুনছিল। এরই মধ্যে আবার আবির্ভূত হলো মহামারি করোনা।
করোনা ভাইরাস অবশ্য ধনী-গরিব, সবল দুর্বল সবাইকেই আক্রমণ করছে। পুরো মানব সভ্যতা এখন করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচার চেষ্টায় ব্যতিব্যস্ত। কোয়ারেন্টাইন, সাটডাউন, লকডাউনসহ নিরাপত্তামূলক কত ব্যবস্থাই না গ্রহণ করছে বিশ্ববাসী। তবুও করোনা থেকে নিরাপদ থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি চলছে মানুষের বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা। কোনো কোনো দেশ করোনা নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের উদাহরণ রাখতে সমর্থ হয়েছে। তারা বিশ্ববাসীকে তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে সাহায্য করার অভিপ্রায়ও ব্যক্ত করেছে। আশার বিষয় হলো, বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে এখনো অনেক দেশ থেকে ভালো আছে। এমন অবস্থায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে করোনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসলে বাংলাদেশ করোনা-বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে পারে। মহান আল্লাহর কাছে আমরা সেজন্য দোয়া করছি।
করোনার কারণে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের একটা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিল্পে, ক্ষেতখামারে কাজ না হলে অর্থনীতির চাকা ঘুরবে কেমন করে? বিশেষ করে যারা নিম্ন আয়ের মানুষ- রিকশা চালক, রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, হোটেল শ্রমিক, বিভিন্ন ছোট কারখানা ও দোকানের শ্রমিক-কর্মচারী ও ফেরিওয়ালাদের অবস্থা এখন করুন। আয়-রোজগার না থাকায় তারা অনেকেই এখন গ্রামে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত হবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়িয়ে গরিব মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়া। আর সহায়তা এমনভাবে দিতে হবে, যাতে তা সঠিকভাবে প্রান্তিক মানুষের হাতে পৌঁছে। সময়টা এখন মানবতার এবং নৈতিকতার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ