বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

মংলায় ভারতগামী শত শত লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ ॥ শ্রমিক ভোগান্তি

খুলনা অফিস : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মংলা বন্দর থেকে ভারতগামী লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক নৌ প্রটোকলভুক্ত সুন্দরবনের অভ্যন্তর দিয়ে চলাচলকারী মংলা-আংটিহারা-ঘষিয়াখালী অভ্যন্তরীণ চ্যানেল দিয়ে ভারতগামী শত শত লাইটার জাহাজ (কার্গো, কোস্টার) চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বিপুল সংখ্যক নৌযান কর্মচারী। এসব কর্মচারীরা নিষেধাজ্ঞার কারণে লোকালয়ে যাতায়াত না করতে পারায় খাবার, চিকিৎসা সংকটসহ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। মংলা বন্দরেই এখন পর্যন্ত প্রায় তিনশ’ ভারতগামী লাইটার জাহাজ অবস্থান করছে। এতে অলস সময় পার করছেন নৌযান স্টাফরা। এদিকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সাময়িকভাবে সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ কারণে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে পর্যটন খাতে নিয়োজিত বিপুল সংখ্যক লোক মোটা অংকের আর্থিক টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিআইডব্লিউটিএ এর নির্দেশনা মোতাবেক গত ২৪ মার্চ থেকে আপাতত ভারতের কলকাতা, বজবজ ও হলদিয়া বন্দরের সাথে পণ্যবাহী লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক নৌ প্রটোকলভুক্ত সুন্দরবনের অভ্যন্তর দিয়ে চলাচলকারী মংলা-আংটিহারা-ঘষিয়াখালী অভ্যন্তরীণ চ্যানেল দিয়ে ভারতগামী সব ধরনের লাইটার জাহাজ (কার্গো, কোস্টার ও ট্যাংকার) চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের অভ্যন্তরীণ অন্য জায়গায় পণ্যবাহী নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ছাড়া মংলা বন্দরে অবস্থানরত সকল জাহাজ ও জেটিতে যথারীতি পণ্য ওঠানামাও করছে।

বাংলাদেশ লাইটার শ্রমিক ইউনিয়নের মংলা শাখার সভাপতি মো. ফিরোজ আলম মাস্টার জানান, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশ-ভারত অভ্যন্তরীণ আন্তর্জাতিক রুট দিয়ে লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্য বোঝাই বা খালাসে যাওয়া প্রায় ৫ শতাধিক লাইটার জাহাজ আটকা পড়ে রয়েছে। দেশের মধ্যে মংলা বন্দর ও আংটিহারায় বিপুল সংখ্যক লাইটার জাহাজ ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। অপরদিকে ভারতের অংশে প্রায় দু’শতাধিক লাইটার জাহাজ বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। ভারতে অবস্থানরত লাইটার জাহাজের স্টাফরা সবচেয়ে বেশী কষ্টে রয়েছেন।তাদের নৌযানে থাকা খাবার প্রায় ফুরিয়ে গেছে। ভারত সরকার লক ডাউন করে দেয়ায় স্টাফরা নৌকায় লোকালয়ে যাতায়াত করতে পারছেন না। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নিতে পারছেন না। এ ছাড়া বাড়িতে স্বজনদের সাথে তাদের যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নৌ স্টাফরা দারুণ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

বাংলাদেশ লাইটার শ্রমিক ইউনিয়নের মংলা শাখার সহ-সভাপতি মাইনুল হোসেন মিন্টু বলেন, মংলা বন্দরে অবস্থানরত মাদার ভ্যাসেল থেকে যখন লাইটার শ্রমিকরা পণ্য বোঝাই খালাসে যায় তখন নৌযান স্টাফদের করোনা ভাইরাস রোধে প্রয়োজনীয় মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম দেয়া হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, মংলা বন্দরে আগত জাহাজগুলোর অধিকাংশই বিদেশী। বিদেশীদের সাথে স্টাফদের পণ্য লোড আন লোডের কারণে সম্পৃক্ত হতে হচ্ছে। এতে করে নৌযান স্টাফদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকি রয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ