শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গেছে সেচকার্য ব্যাহত

খুলনা অফিস : খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষিজ অঞ্চল বলে খ্যাত শোভনা ইউনিয়নে বেশিরভাগ নলকূপে পানি উঠছে না। ব্যাহত হচ্ছে নিত্যদিনে দৈনন্দিন জনজীবন। জমিতে ঠিকমত সেচ দিতে পারছেন না চাষীরা। এছাড়া বিভিন্নজনের বাড়িতে বসানো গভীর নলকূপ থেকেও উঠছে না কাঙ্খিত পানি। বর্ষা মওসুম শুরুর আগ পর্যন্ত এমন অবস্থা থেকে মুক্তি মিলছে না। ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের বেশিরভাগ গভীর নলকূপের পানি না উঠায় তাতে মরিচা ধরেছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় দূর দূরান্ত থেকে আনতে হচ্ছে খাবার পানিসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি। এই ইউনিয়নের শোভনা, মলমরিয়া, বাদুরগাছা, মাদারতলা, জিয়েল তলাসহ আশপাশের এলাকায় দেখা দিয়েছে এই অবস্থা। বৃষ্টির মওসুম শেষ হওয়ার পর মাঘ থেকে বৃষ্টি শুরুর পূর্ব পর্যন্ত চলে এই অবস্থা। 

শোভনা গ্রামের পার্থ কুমার পাল বাড়ির পাশের একটি গভীর নলকূপ দেখিয়ে বলেন, অগ্রহায়ণ মাস থেকে এই নলকূপ থেকে পানি উঠছে না। শোভনার কড়ির বিলে বোরো ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত রতন বিশ্বাস বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে খাল থেকে পাইপের মাধ্যমে জল আনতে ড্রেন স্থাপন করা হয়। কিন্তু কোন কাজে আসছে না। বোরো ক্ষেতে জল নেই। শোভনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার আব্দুল গণি জানালেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রায় তিনকোটি টাকা খরচ করে সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু সেটি কোন কাজে আসছে না। যত্রতত্র বেআইনীভাবে গভীর নলকূপ বসিয়ে বিদ্যুতের মোটরের মাধ্যমে পানি ঊঠানো হচ্ছে। তাই আশপাশের নলকূপে পানি উঠছে না। 

শোভনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত কুমার বৈদ্য বলেন, ভূগর্ভস্ত পানির স্তর স্বাভাবিক রাখতে পরিকল্পিতভাবে নলকূপ স্থাপনের নিয়ম থাকলেও তা কেউ মানছেন না। যে যার মত জনবসতি এলাকায় নলকূপ বসাচ্ছেন। তাছাড়া নলকূপ স্থাপনের সরকারী নীতিমালাও মানছেন না এলাকাবাসী। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। যার দরুণ অদূর ভবিষ্যতে পানি সঙ্কট ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে।  জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পৃথ্বীশ কুমার মন্ডল বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির একাধিক স্তর থাকে। সেচ কাজে ব্যবহার করা বড় ব্যাচের পাইপ দিয়ে যখন পানি উত্তোলন করা হয় তখন হাতে পালিত নলকূপে পানির স্তর পায় না। এজন্য নিয়ম নীতি মেনে ও পরিকল্পিভাবে নরকূপ স্থাপন করা হলে ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্কট হবে না।  কৃষিবিদ মো. মোসাদ্দেক হোসেন উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, খুলনা জেলার মধ্যে ডুমুরিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি কৃষিজ পণ্য উৎপাদিত হয়। রবি মওসুমের কৃষিজ পণ্যে সেচ না প্রয়োজন হলেও খরিপ মওসুম ও বোরো আবাদে অবশ্যই সেচ প্রয়োজন হয়। ডুমুরিয়া উপজেলার মধ্যে শোভনা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি কৃষিজ পণ্য উৎপাদন হয়। ভূগর্ভস্ত পানির স্তর নেমে যাওয়ায় এবার সেচ নির্ভর বোরো আবাদ অন্যবারের চেয়ে কম হয়েছে। এবার দুই হাজার ৫ হেক্টর (১ হেক্টর= ২.৪৭ একর) জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যা গতবারের চেয়ে ২০০ হেক্টর কম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ