ঢাকা, সোমবার 13 July 2020, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ২১ জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

সেরে ওঠা রোগীদের এন্টিবডি দেখাচ্ছে আশার আলো

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: করোনা ভাইরাস রোগ থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তির শরীরে তৈরি হয় ভাইরাসপ্রতিরোধী এন্টিবডি।আর এই অ্যান্টিবডি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ভাল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন গবেষক।এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ব্লাড-প্লাজমা থেরাপি’।তিনি বলেছেন, চীন এই পদ্ধতির পরীক্ষা করে ফল পেয়েছে। এই পদ্ধতিতে রোগীর চিকিৎসা করা অবশ্য নতুন নয়।এন্টিবায়োটিক আবিষ্কারের আগে এই ‘ব্লাড-প্লাজমা থেরাপি’ দিয়েই চিকিৎসা দেয়া হতো।তাই করোনা ভাইরাসের এন্টিবায়োটিক আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত এই পদ্ধতি কাজে লাগানো যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞগণ।

এই পদ্ধতি নিয়ে করোনা চিকিৎসায় আশার আলো দেখছেন তারা।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কে সম্প্রচারিত ‘লো ডবস টুনাইট’ নামের চ্যাট শো'তে নতুন এই থেরাপির কথা জানিয়েছেন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ইয়ান লিপকিন।

কভিড-১৯ প্রতিরোধে নতুন উপায় আবিষ্কারে জানুয়ারিতে তিনি চীন ভ্রমণ করেছিলেন। সেখান থেকে সম্প্রতি একটি গবেষণা পেয়েছেন, যাতে দেখা গেছে, রোগীরা প্লাজমা থেরাপি চিকিৎসায় সফল হয়েছেন।

নিউরোলজি ও প্যাথলজি বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে আমি এক বন্ধু, যিনি একজন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তার কাছ থেকে একটি গবেষণাপত্র পেয়েছি।যাতে দেখা যায়, প্লাজমা থেরাপি নিয়ে ১০ রোগীর চিকিৎসা করা হয়। এ পদ্ধতিতে করোনা রোগে সেরে ওঠা ব্যক্তির কাছ থেকে অ্যান্টিবডি নেওয়া হয়। ওই ১০ জনের ক্ষেত্রেই তা কাজ করেছিল। তারা এখন ভালো আছেন।’

ইয়ান লিপকিন জানান, তবে এই পদ্ধতি একেবারে নতুন নয়। অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের আগে এটি ব্যবহার করা হতো। এখন করোনা চিকিৎসাও কাজ করেছে।

ইতিমধ্যে নিউইয়র্কে ব্লাড-প্লাজমা থেরাপি নিয়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই মার্কিন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘ভাইরাস থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান করা হবে, স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে তারা যাতে প্লাজমা দান করেন। তাহলে আক্রান্ত অন্যান্য ব্যক্তির চিকিৎসায় আমরা এটি ব্যবহার করতে পারে। বিষয়টি অসুস্থতা ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে বিশাল পার্থক্য তৈরি করে দিতে পারে।

এক ব্যক্তির কাছ থেকে গৃহীত প্লাজমা দিয়ে তিনজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।গবেষণা করে বিষয়টি দেখা গেছে। ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত আক্রান্তদের সুস্থ করে তুলতে এটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ব্লাডপ্লাজমা দিয়ে করোনা ভাইরাস রোগীদের চিকিত্সাপদ্ধতি নিউ ইয়র্কে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে। নিউ ইয়র্কের চিকিত্সকেরা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে হাসপাতালে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখবেন। যারা ইতিমধ্যে সেরে উঠেছেন তাদের রক্ত প্রচুর অ্যান্টিবডির উত্স হতে পারে। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা যে প্রোটিন তৈরি করে, তা ভাইরাসকে আক্রমণ করতে পারে। যে রক্তে ঐ অ্যান্টিবডি থাকে তাকে বলা হয় ‘ক্যানভ্যালসেন্টস প্লাজমা’। এটি কয়েক দশক ধরেই ইবোলা, ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সংক্রামক রোগে ব্যবহূত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড এল রেইচ বলেন, হাসপাতালে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে তারা এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখবেন। তবে একেবারে রোগের চূড়ান্ত দশায় থাকা কারো ক্ষেত্রে এটা প্রয়োগ করবেন না তারা। গত মঙ্গলবার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) পক্ষ থেকে প্লাজমা ব্যবহার করে জরুরি অবস্থায় পরীক্ষামূলক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নিউ ইয়র্ক ব্লাড সেন্টার প্লাজমা সংগ্রহ, পরীক্ষা ও বিতরণে কাজ করবে।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, করোনা প্রতিরোধে ২০টি ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে।এরই মধ্যে কিছু ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়ে গেছে।কভিড–১৯–এর জিন সিকোয়েন্স তৈরির মাত্র ৬০ দিনের মাথায় এসব ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

তবে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গবেষণা শেষে একটি নিরাপদ ওষুধ তৈরি করতে ১৮ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ