রবিবার ৩১ মে ২০২০
Online Edition

চিকিৎসার সার্বিক তত্ত্বাবধান করবেন ডা. জোবায়দা রহমান 

স্টাফ রিপোর্টার : বেগম জিয়ার চিকিৎসার সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন তার ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান। আর চিকিৎসা করছে দলের গঠিত ৬ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। দীর্ঘ ২৫ মাস পর মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন খালেদা জিয়া। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তিনি। এজন্য তাকে বাসাতেই চিকিৎসা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তার বোন সেলিমা ইসলাম।

সেলিমা ইসলাম বলেন, উনা’র (খালেদা জিয়া) তো শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, কথা বলতে পারছেন না, উঠে দাঁড়াতে পারছেন না। হাঁটতে পারছেন না, বেশিক্ষণ বসে থাকতেও পারছেন না, গায়ে হাত দিলেই ব্যথা লাগছে তার। খাওয়া দাওয়াও করতে পারছেন না, খেলেই বমি হয়ে যাচ্ছে। মুভ করানোর মতো অবস্থা নাই। আর তারও মতামত বাসাতেই থাকবেন। খালেদা জিয়ার জন্য দলের গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, অন্য যেসব চিকিৎসকরা আগে তাকে দেখতেন, তাদেরকে দিয়েই এই বোর্ড করা হয়েছে।

এদিকে খালেদা জিয়া আগামী ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে ফিরোজায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।

জাহিদ হোসেন বলেন, আপনারা দেখেছেন যে, উনি (খালেদা জিয়া) দারুনভাবে অসুস্থ। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার পর (নিজের পরিবেশে আসার পর) উনি মানসিকভাবে যে অস্থিরতা ছিল, তা থেকে পরিত্রাণ পেয়েছেন। তবে উনা’র শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। কিন্তু যেহুত উনি ১৪দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন, সেহুত উনা’র শারীরিক অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা হোম কোয়ারেন্টিনের পরে করা হবে।

এর আগে গতকাল দুপুরে ১২টা ২০ মিনিটে বেগম খালেদা জিয়ার দেখা করতে তার বাসভবনে যান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. মামুন এবং ১২টা ২৫ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতিমা প্রবেশ করেন। পরে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ আরো তিনজন খালেদা জিয়ার ফিরোজায় প্রবেশ করে। খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা হওয়ার পর সাংবাদিকদের জাহিদ বলেন, ম্যাডাম অসুস্থ। ম্যাডাম হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। আর উনাকে তার চিকিৎসকরা যেভাবে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, উনি সেভাবেই আছেন।

তিনি জানান, উনাকে সার্বক্ষনিক ঔষধ দেয়ার জন্য এখানে নার্সরা আছেন। যারা কখনো বাইরে যান না। এই বাইরে উনি অন্য কারো সঙ্গে দেখা করছেন না। আর উনা’র চিকিৎসকরা যেভাবে বলেছেন, উনি সেভাবেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ১৭ বছরের কারাদ- নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি হন খালেদা জিয়া। প্রথমে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছর ১ এপ্রিল থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। অর্থাৎ প্রায় ১১ মাস ধরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ মার্চ তিনি মুক্তি পেয়েছেন।

মুক্তি পাওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরের ৭৯ নম্বর সড়কের ‘ফিরোজা’ নিজ বাড়িতে উঠেন। বর্তমানে তিনি ফিরোজাতেই রয়েছেন।

এদিকে বেগম জিয়ার হাতের আঙুল বেঁকে যাওয়ার কারণে হ্যান্ড গ্লাভস পরানো সম্ভব হয়নি। যদিও পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণভাবে করোনা থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করে হাসপাতাল থেকে যেন বের করা হয়।  খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে বের করার সময় উপস্থিত ছিলেন- পরিবারের সদস্য, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি ডা. হারুন আল রশিদসহ অনেকই।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. হারুন আল রশিদ বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, বেগম খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে বের করার সময় হ্যান্ড গ্লাভস পরিয়ে বের করার জন্য। কারণ আমরা জানতাম, আমরা নিষেধ করার পরও খালেদা জিয়ার অনুসারীরা তাকে দেখার জন্য আসবে। অনুসারীরা বাধা-নিষেধ মানবে না। এই অবস্থায় ওনার শারীরিক নিরাপত্তার ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এ কারণে আমরা চিকিৎসক হিসেবে বলেছিলাম, করোনা থেকে ওনাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিয়ে বের করার জন্য। কিন্তু তার হাতের আঙুল বেঁকে যাওয়ার কারণে হ্যান্ড গ্লাভস পরতে পারেননি।’ তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতাল থেকে হুইলচেয়ারে বের হয়েছেন। সে সময় পরনে গাউন ছিল, মুখে মাস্ক ছিল। কিন্তু হাতে হ্যান্ড গ্লাভস ছিল না। এ সময় ওনার হাত কাপড়ে ঢাকা ছিল। যেসব চিকিৎসকরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দিয়েছেন তাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, ওনার হাত বেঁকে যাওয়ার কারণে উনার জন্য হ্যান্ড গ্লাভস পরা সম্ভব হয়নি।’

এ ডাক্তার নেতা বলেন, ‘অতীতে আপনারা সবসময় দেখেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া যখন গাড়িতে ওঠেন তখন ওনার ভক্ত, অনুসারী, দলীয় নেতাকর্মীদের হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানাতেন। কিন্তু এবার হাসপাতাল থেকে বাসায় যাওয়ার পথে এটা দেখা যায়নি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ