শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

করোনা আক্রান্ত পৃথিবীর হালচাল

জুবায়ের আহমেদ : ডিসেম্বর ২০১৯ এর শেষের দিকে চীনের উহান প্রদেশে প্রথম নোভেল করোনা ভাইরাসে (কোভিন ১৯) আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। শুরুতে বেশ কয়েকদিন শুধুমাত্র চীনেই করোনা ভাইরাস সীমাবদ্ধ থাকলেও ধীরে ধীরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। চীনে করোনা ভাইরাস শনাক্তের পর বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের খবর প্রকাশ হলেও শুরু থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কিংবা নাগরিকদের মধ্যে করোনা ভাইরাস নিয়ে তেমন শংকা দেখা যায়নি। উল্টো কতেক অসচেতন ব্যক্তি করোনা ভাইরাস নিয়ে বিভিন্ন অযাচিত মন্তব্য করার মাধ্যমে হাস্যরসে নিমজ্জিত ছিলেন। যার ফলে বাংলাদেশেও এখন করোনা ভাইরাসের রোগী বাড়ছে।
শুরুতে চীন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও সারা বিশ্ব সতর্কতা অবলম্বন করেনি। ইতালি, ইরান, স্পেনসহ বহু দেশে করোনা এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হচ্ছে বহু প্রাণ। গত ৯ই মার্চে বাংলাদেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর এ পর্যন্ত ২৭ জন রোগী শনাক্তের পাশাপাশি ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিদেশ ফেরত লাখ লাখ মানুষের মাঝে মাত্র গুটিকয়েক প্রবাসী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মাফিক হোম কোয়ারেন্টাইন (গৃহবন্দী) করছে। বহু প্রবাসী দেশে এসে অবাধ মেলামেশা করছে, যাদেরকে পুলিশ আসামী ধরার মতোই পাকড়াও করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠাচ্ছে। বিশ্ব পরিস্থিতি কিংবা বাংলাদেশে দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার কারণে বাংলাদেশের পরিস্থিতিও ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
করোনা ভাইরাস (কোভিড ১৯) এর কারণে সারা বিশ্বের যত পর্যটন কেন্দ্র আছে, সব বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। থেমে গেছে সারা পৃথিবীর সব আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া খেলাধূলা। সারা বিশ্বের মুসলিমদের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত মক্কা শরীফে ও মদিনায় জামায়াতে নামাজ বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও বহু দেশ লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কানাডার সরকার প্রধান জাস্টিন ট্রুডো ইতিমধ্যে দেশের নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়ে এই সময়ে সকল নাগরিকদের ভরণ পোষণ এবং বেতন প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। এমনকি যারা পরিপূর্ণ নিয়ম মানবে, তাদেরকে বোনাস দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে থমকে গেছে পুরো বিশ্ব। প্রত্যেকটি দেশে অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়ে গেছে। থমকে গেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ব্যবসা বাণিজ্য। বাংলাদেশের অসাধু ব্যবসায়ী দ্রব্যমূল্য ও চিকিৎসা সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি করে বিপাকে ফেলছে সাধারণ মানুষজনকে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখা প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো আশংকাজনক ভাবে কমে গেছে। বাংলাদেশের গৌরবের গার্মেন্টস শিল্প চরম বিপর্যয়ে পড়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার অর্ডার বাতিল হয়ে গেছে। বাংলাদেশের দরিদ্র শ্রেণীর মানুষদের দুমুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকাতেও অনিশ্চয়তার কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাওয়ার বিপরীতে সরকার উপজেলা শহরভিত্তিক লকডাউনের মাধ্যমে এগুলেও সারাদেশ লকডাউনের সিদ্ধান্ত এখনো গ্রহণ করেনি। যার ফলে আল্লাহ না করুক, বাংলাদেশের পরিস্থিতি চীন ও ইতালির চেয়েও ভয়াবহ রূপ নেয়ার আশংকা আছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে দিন দিন পরিস্থিতি খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছে। খেলাধূলার আসরগুলো স্থগিত ঘোষণা করলেও এখনো জনসমাগম হয় এমন বহু মাধ্যমে কাজ চলমান রয়েছে, যার ফলে খারাপ পরিস্থিতির আশংকা বিদ্যমান।
সারা বিশ্ব এখন করোনা ভাইরাসের প্রভাবে স্তম্ভিত। এখন আর নেই কোন দেশে দেশে দৃশ্যমান বিরোধ। পৃথিবীর বেপরোয়া মানুষজন এখন শৃঙ্খলায় আবদ্ধ হচ্ছে। করোনা ভাইরাসকে বহু মানুষ গজব হিসেবে আখ্যায়িত করার পাশাপাশি অনেকেই আশির্বাদ হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন করোনা পুরো পৃথিবীতে শৃঙ্খলা এনেছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে। করোনা ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী বহু মানুষের মৃত্যু হলেও সুস্থ হওয়া মানুষের সংখ্যাই বেশি।
তবে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তিদের সমাহিত করার বিধিনিষেধ গুলোতেই ভীত মানুষ। সারা পৃথিবী জুড়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে এর থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রার্থনা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড-১৯ থেকে নিরাপদে থাকার জন্য যে বিধিনিষেধ তৈরি করেছে, সে বিধিনিষেধ মেনে চলার কোন বিকল্প নেই। দেশের সরকার ও সকল নাগরিকদের একযোগে সচেতন হওয়া এবং সাধারণ মানুষজনের প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই একযোগে করোনা ভাইরাসকে প্রতিহত করতে হবে। সকলের ঐক্যবদ্ধতা এবং দায়িত্বশীলতার মাধ্যমেই পৃথিবী আবারো হাস্যোজ্জ্বল হবে, কেটে যাবে সব শংকা ও ভয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ