শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

আজ ২৬ মার্চ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের প্রদেশ ‘পূর্ব পাকিস্তানের’ সবচেয়ে জনসমর্থিত রাজনৈতিক দল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের অবস্থান অর্জন করেছিল। এর নেতা ছিলেন স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান। গণতন্ত্রের নিয়ম ও নির্দেশনা অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর কর্তব্য হলেও এবং আগে থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান গড়িমসি করতে থাকেন। জাতীয় পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকেন তিনি পরের বছর, ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ। ওদিকে গণতন্ত্রের শত্রু হিসেবে সঠিকভাবে চিহ্নিত সেনাবাহিনীর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন পাকিস্তান পিপল্স পার্টির নেতা এবং পতিত স্বৈরাচার আইয়ুব খানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো। আওয়ামী লীগের ১৬৭ আসনের তুলনায় অনেক কম হলেও ৮৮টি আসনে জিতে ভুট্টোর দল পিপিপি ‘পশ্চিম পাকিস্তানের’ প্রধান দলের অবস্থান অর্জন করেছিল। ভুট্টো দুই প্রদেশের দুই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের অশ্রুতপূর্ব ও উদ্ভট দাবি জানিয়ে সংকটের সূচনা করেছিলেন।
৫৬ শতাংশ জনগণের প্রদেশ ‘পূর্ব পাকিস্তানের’ প্রতি চরম অসম্মান দেখিয়ে এবং সেনাবাহিনীর গোপন পরামর্শে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানও ভুট্টোর দাবিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। ৩ মার্চ থেকে অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশনকে স্থগিত করার মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট সংকটকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরই প্রতিবাদে সমগ্র ‘পূর্ব পাকিস্তানে’ স্বাধীনতার দাবি উঠেছিল। প্রধান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানও তার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানালেও শেখ মুজিব অবশ্য শেষ পর্যন্তও সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের দায়িত্বশীল নেতার ভূমিকা পালনের চেষ্টা করেছেন। ১৬ মার্চ থেকে তিনি ইয়াহিয়া খান ও তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভুট্টোর সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে তার। এসব বৈঠকে প্রথমে দুই প্রদেশের জাতীয় পরিষদের পৃথক অধিবেশন অনুষ্ঠানসহ ‘পূর্ব পাকিস্তানের’ জন্য সর্বাধিক স্বায়ত্তশাসনের বিধান সংবলিত সংবিধান রচনার ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কথা ছিল, প্রেসিডেন্ট এসব বিষয়ে অবহিত করে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। সেজন্য ২৫ মার্চ সারাদিন অপেক্ষায় কাটিয়েছেন শেখ মুজিবসহ আওয়ামী লীগের নেতার। অন্যদিকে ২৫ মার্চ রাত থেকেই ইয়াহিয়া খান তার সেনাবাহিনীকে গণহত্যার ভয়ংকর অভিযানে নামিয়েছিলেন। এ গণহত্যার বিরুদ্ধেই শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধ। সে যুদ্ধে আমরা গৌরবোজ্জ্বল বিজয় অর্জন করেছি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু স্বাধীন হলেও স্বাধীনতার সম্পূর্ণ সুফল এখনো জনগণ ভোগ করতে পারেনি। যে গণতন্ত্র ছিল স্বাধীনতার প্রধান উদ্দেশ্য তা নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে বারবার। সুচিন্তিতভাবে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলা হয়েছে। জনগণ নির্বাচনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অর্থনৈতিক মুক্তিও অর্জন করতে পারেনি জনগণ। আমরা মনে করি, ৪৯ বছরের ভুল ও অন্যায় থেকে শিক্ষা নেয়া হবে এবং দেশের রাজনৈতিক নেতারা আরো একবার জনগণের মধ্যে আশার আলো জ্বালিয়ে তুলবেন। আমরা চাই, এবারের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সম্ভাবনাময় সে লক্ষ্যেই জাতি নতুন করে যাত্রা শুরু করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ