বুধবার ০২ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

শাবান মাসে রোজা রাখার ফযিলত

উম্মে রুম্মান : আমরা আমাদের এ ব্যস্ততম জীবনে যতটুকু ইবাদত করি তার বেশীর ভাগই অন্যের দোষ বর্ণনা করে, অপরের জীবন কঠিন করার পিছনে, নানা ধরনের অনর্থক কাজে নষ্ট করে ফেলি না জেনেই। মানুষের এ সহজাত প্রবৃত্তির পুনরাবৃত্তির কারণেই আল্লাহ কাছে ক্ষমার উদ্দেশ্যে আমাদের কিছু অতিরিক্ত ইবাদত করা উচিত।  যাকে আমরা নফল ইবাদত বলি। নফল ইবাদতের মধ্যে রোযা অন্যতম।  আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য, ফরজ-ওয়াজিব নয়, এমন রোজা পালনকেই নফল রোজা বলে। নফল রোজার অনেক বড় ফজিলত ও সাওয়াব রয়েছে।
আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে কুদসীতে এসেছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আদম সন্তানের প্রতিটি আমলের ছাওয়াবই দ্বিগুণ করে দেয়া হয়।  পুণ্যকর্মের ছাওয়াব দশগুণ থেকে সাতশগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, তবে রোজা ব্যতীত; কারণ রোজা আমার আর আমিই এর প্রতিদান দিই। (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)। আলহামদুলিল্লাহ্, কি অভাবনীয় সুযোগ। ব্যাপারটা আনেকটা স্বয়ং আল্লাহর কাছে আমাদের সারপ্রাইজ গিফট পাওয়ার মতো।  মহিমান্বিত শাবান মাস আমাদের সামনে সমাগত। মাহে রমজানের আগমনি বার্তা নিয়ে আসে শাবান মাস। রমজানের আগাম প্রস্তুতির তাগিদ নিয়ে আসে শাবান মাস। ইসলামের দৃষ্টিতে শাবান মাস বিভিন্ন কারণে বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ।
এ মাসকেই মহানবী (সা.) শাবানু শাহরি (শাবান আমার মাস) বলে অবহিত করেছিলেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শাবান মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতেন। রজব ও শাবানজুড়েই তিনি রমজানের অধীর অপেক্ষায় থাকতেন। এর ধারাবাহিকতায় রজবের শুরু থেকেই রাসুল (সা.) দোয়া করতেন, আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রমাজান। (শুআবুল ইমান : ৩৫৩৪). হে আল্লাহ, আপনি আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দিন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন (রমজান পর্যন্ত আমাদের আয়ু বৃদ্ধি করে দিন, যাতে আমরা রমজানে যথাযথ আমল করতে পারি)।
রমজানের আগমনের জন্য মহানবী (সা.) দিনক্ষণ গণনা করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের (দিন-তারিখের হিসাবের) প্রতি এত অধিক লক্ষ্য রাখতেন, যা অন্য মাসের ক্ষেত্রে রাখতেন না। (আবু দাউদ: ২৩২৫). মহানবী (সা.) শাবান মাসে অধিক হারে নফল রোজা রাখতেন। হজরত উম্মে সালমা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে শাবান ও রমজান মাস ছাড়া অন্য কোনো দুই মাস একাধারে রোজা রাখতে দেখিনি (আবু দাউদ: ২৩৩৬). হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি নবী করিম (সা.)-কে শাবান মাসের মতো এত অধিক (নফল) রোজা আর অন্য কোনো মাসে রাখতে দেখিনি। এ মাসের সামান্য কয়েক দিন ছাড়া সারা মাসই তিনি রোজা রাখতেন (তিরমিজি: ৭৩৭)  অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রমজানের পর কোন মাসের রোজা সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ? উত্তরে তিনি বলেন, শাবানের রোজা রমজানের সম্মানার্থে। (তিরমিজি: ৬৬৩)
উসামা ইবনে যায়েদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনাকে শাবানের মতো অন্যকোনো মাসে রোজা রাখতে দেখি না? তিনি বললেন, রজব ও রমজানের মাঝের এ মাসটি সম্পর্কে মানুষ গাফেল থাকে। আর এ মাসে রাব্বুল আলামীনের দরবারে আমল ওঠানো হয়। রোজা পালন অবস্থায় আমার আমল ওঠানো হোক এটা আমার পছন্দ (বর্ণনায় নাসায়ী). এ ছাড়া শাবান মাসে রয়েছে ফজিলতপূর্ণ একটি রাত। কোরআনের ভাষায় এটিকে  লাইলাতুম মুবারকহ আর আমাদের এ অঞ্চলের পরিভাষায় শবেবরাত বলা হয়। বিভিন্ন হাদিসে এ রাতের ফজিলতের বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে (শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫).  পরিশেষে আল্লাহ আমাদের এ বরকতময় মাসের সুযোগ লাভের এবং রমযান পর্যন্ত পৌঁছানোর তৌফিক দিন যাতে আমরা আমাদরে কাক্সিক্ষত জান্নাতুল ফেরদৌস লাভ করতে পারি। আমিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ