শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

অসমাপ্ত কাজ

খালেদা ফেরদৌস শারমিন : প্রায় দশ মিনিটের মত হলো এলার্ম বেজে চলেছে। মায়মুনা বেগম উঠি উঠি করেও নিজেকে নড়াতে পারছেন না। রাত সাড়ে তিনটা। প্রতিদিনের সাংসারিক কাজ সেরে ঘুমাতে ঘুমাতে সাড়ে এগারোটা বেজে যায়। তাহাজ্জুদ গুজার বান্দা তিনি। স্বামী, ছেলে, বৌমা আর দুই মেয়ে নিয়েই সংসার তার। বেশ অনেকক্ষণ চেষ্টা করে উঠতে সক্ষম হলেন। খাট থেকে নেমে ওয়াশরুমে যাবার জন্যে পা বাড়ালেন কিন্তু যেতে পারলেন না। পা যেন আর চলতেই চায় না। বুকের ভেতরটা কেমন ব্যাথা করছে। মাথা ঘুরে পড়ে যাবার উপক্রম হলো। হঠাৎ কারো শীতল স্পর্শ যেন তাকে রক্ষা করলো, চোখ মেলতেই দেখেন তার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করছেন মা। পরনে ধবধবে সাদা শাড়ি। মাকে দেখে মন্ত্রমুগ্ধ মায়মুনা! একটু পরেই মা হাতে ধরা লাল মলাটে বাঁধাই করা কোরআনের পাতা খুললেন, সূরা আ-তাহরীমের কিছু অংশ তেলাওয়াত করে শোনান। পড়া শেষ করে মায়মুনার কপালে চুমু খেয়ে মা উঠে দাঁড়ালেন। সামনে পা বাড়াতেই যেন প্রচন্ড বাতাসে উড়তে থাকে ঘরের সব পর্দা। ধবধবে সাদা পর্দাগুলো উড়ছে। দরজার কাছে এসে মায়মুনার দিকে একবার তাকালেন মা। এরপর বেরিয়ে গেলেন। আর তাকে দেখা যায় না। সব অন্ধকার লাগছে এবার, মায়মুনা মাকে ডাকছেন মা...মা...! কিন্তু কোথায়? মার কোন সাড়া শব্দ নেই। এরপরই মায়মুনা বেগমের ঘুমটা সত্যি সত্যি ভেঙে যায়, মায়মুনা ঘেমে একাকার হয়ে গেছেন। বুকের ভেতরটা এখনো ধক-ধক করছে, ভয়ে তিনি কুঁকড়ে যাচ্ছেন। কোন রকমে টেবিল ল্যাম্পটা অন করে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখেন কোথাও কেউ নেই, সবকিছু ঠিক-ঠাক আগের মতই আছে, নিজেকে একটু সামলে নিয়ে খাট নিয়ে খাট থেকে নেমে টেবিল থেকে গ্লাস নিলেন। ঢক ঢক করে পানি খেলেন। গলা যেন শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। একটু স্থির হয়ে জানালার কাছে এলেন, পর্দা সরিয়ে দেখেন  বাইরে এখনো অন্ধকার। জানালো খুলতেই হাসনা-হেনা ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ মনে করিয়ে দিলো আবার মায়ের কথা, মায়ের খুব পছন্দের ফুল ছিল হাসনা-হেনা, বাইরে তাকিয়ে দেখেন ল্যাম্প পোস্টের আলো জানালার গ্রীল গলে ভেতরে এসে পড়ছে, মায়মুনা ভাবতে থাকেন মায়ের কথা, মা যেমন মায়মুনাকে ভালোবাসতো তেমনি মায়মুনার পৃথিবী ছিল মাকে ঘিরেই। মায়মুনা হারিয়ে যান-স্মৃতির ভীড়ে, ছোট্ট মায়মুনাকে কোলে শুইয়ে মা প্রশ্ন করেন তিনি না থাকলে মায়মুনা কি করবে? মায়মুনা কাঁদকে কাঁদতে মাকে জড়িয়ে ধরে বলেন আমিও তোমার সঙ্গে যাবো। মাও তখন কেঁদেছিলেন। মা তো আজ সত্যিই নেই। সেই ৭১-এ বাবা যখন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন, তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে মায়মুনার মা সত্যিই বড় অসহায় ছিল, মায়মুনার বয়স তখন ৭ কি ৮ বছর। অনেক সংগ্রাম করে মা তাদের বড় করেছেন, একটা স্কুলে চাকুরী নিয়েছিলেন। তাই দিয়ে চলতো সংসার। বাবার কথা বেশী এতটা মনে নেই। তবে যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, এমন কি জীবন দিলেন সে স¦প্ন কি আজো পূরণ হয়েছে? জানে না মায়মুনা। ভাবতে ভাবতে মায়মুনার চোখে পানি এসে যায়, ফজরের আযান হতেই সম্বিত ফিরে পেলেন। আজ আর তাহাজ্জুদ পড়া হলো না, ওয়াশ রুমে গিয়ে ফ্রেশ হলেন। অজু করে নামায পড়তে দাঁড়ালেন। দুই হাত তুলে বাবা-মায়ের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন।
মায়মুনা ভাবলেন, কোরআন নিয়ে বসবেন, আজকে নাস্তার অত তাড়া নেই। মায়মুনার স্বামী আজাদ সাহেব সকাল সকাল নাস্তা খান। তিনি আজ বাসায় নেই। গত দুই দিন আগে ব্যবসার কাজে ঢাকার বাইরে গেছেন। আজকে তার ফেরার কথা। আজাদ সাহেব বাসায় না থাকলে মায়মুনার কেমন যেন উদাস উদাস লাগে। স্বামী-ভক্তি সংসার জীবনকে করেছে মধুময়। এখন ছেলে বিয়ে দিয়ে বৌ এনেছেন তবু তার অনুভূতিগুলো এখনো কত সতেজ। স্বামীর ফেরার কথা ভাবতে ভাবতে কোরআন হাতে চলে এলেন, তার বেডরুমের পাশেই থাকা সুন্দর ঝুল বারান্দায়। বিভিন্ন ধরনের গাছ আর টব দিয়ে সাজিয়েছেন বারান্দা। বারান্দার এককোণে ছোট একটা টেবিল আর দুটো চেয়ার, এসে বসলেন। ভোরের মিষ্টি বাতাস ভালোই লাগে। কোরআন খুললেন, সূরা আত-তাহরীম পড়ে বাংলা অনুবাদ পড়লেন। কতবার যে কোরআন পড়েছেন, তবুও আজ আবার কথাগুলো নতুন মনে হচ্ছে, ৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, “হে বিশ্বাসীগণ তোমরা নিজেদের এবং পরিবারবর্গকে অগ্নি হতে রক্ষা কর। যার ইন্ধন হবে মানুষ আর পাথর। যার নিয়ন্ত্রণ ভার রয়েছে নির্মম কঠোর ফেরেশতাগণের উপর যারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করেন না এবং যা করতে আদিষ্ট হয় তাই করে”। এটুকু পড়া শেষ করে আর পড়তে পারেন না। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চোখ মুছতে মুছতে ভাবেন বয়স তো হলো, কিন্তু বসকাজ তো সমাপ্ত হলো না, কি যে করবেন তিনি। তিনি নিজে ভীষণ পরহেযগার, স্বামীও নামাযী কিন্তু সন্তানরা তো দ্বীনের পথে নেই। তার আদরের সন্তানদের করুন পরিণতির কথা ভেবেই তিনি শঙ্কিত হন। কোরআন পড়া শেষ করতেই চা হাতে নিয়ে হাজির হলো তার আদরের বৌমা শায়লা। শায়লা এসে সালাম দিতেই মায়মুনা জিজ্ঞেস করেন আনিস কি উঠেছে? ফজরের নামায পড়েছে? বৌমা এবার মুখটা মলিন করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো, না মা অনেকবার ডেকেছি। রাতে ফেসবুকে সময় কাটিয়ে এখন ঘুমুচ্ছে। মায়মুনা চুপ করে ভাবেন। ছেলেটা ছোট বেলায় ভালোই তো ছিল। মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তো, মাঝে মাঝে পাড়ার মসজিদে আযান দিত। পড়া-শোনায় ও ভালো ছিল। হঠাৎ কিছু বাজে বন্ধুর আড্ডায় পড়ে অবাধ্য হয়ে গিয়েছিল। অনেক চেষ্টায় ছেলে সে পথ থেকে ফিরেছে। পড়া শেষ করে ভালো একটা কোম্পানীতে যোগ দেয়। এখন সবই ঠিক আছে শুধু নামাযটা ঠিক মত পড়ে না, ছেলেকে নামাযী বানাতে দ্বীনদার বৌ এনেছেন। আশা ছাড়েন নি এখনো, একদিন ছেলে আবার মসজিদে গিয়ে ৫ ওয়াক্ত নামায পড়বে। চা শেষ করে রান্নাঘরে এসে দেখেন বৌমা নাস্তা বানানোতে ব্যস্ত তাকে সাহায্য করছে সালেহার মা। বিগত দশ বছর ধরে এ বাড়িতে সে কাজ করে। তার ছেলেটা হাফেজ হতে চায় তাই একটা মাদরাসায় পড়ে, নামাযী ছেলে, এটাই সালেহার মায়ের গর্ব। মায়মুনা সালেহার মায়ের খোঁজ-খবর নিয়ে চলে যান মেয়েদের অবস্থা দেখতে। দুই মেয়ে নাদিয়া আর সাদিয়া। একজন অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে, অন্য জন ক্লাস নাইনে। সকাল হয়েছে সেই কখন অথচ ওরা এখনো ঘুমুচ্ছে। দরজায় টোকালেন। সাদিয়া এসে চোখ কচলাতে কচলাতে এসে দরজা খোলে। মায়মুনা একটু ধমকের সুরে বলেন, কখন সকাল হয়েছে এত বেলা পর্যন্ত কিসের ঘুম? জলদি উঠে ঘর গোছাও এরপর নাস্তা করতে এসো তোমার আপুকে ডেকে ওঠাও। নিজের ঘরে এসে মায়মুনা মোবাইল হাতে নিতেই দেখেন স্বামী আজাদ সাহেব ফোন দিয়েছেন। কলটা রিসিভ করতেই আজাদ সাহেব জানান তিনি গাড়িতে রওয়ানা হয়েছেন, হয়তো জুমুয়ার আগেই পৌঁছুতে পারবেন। কথা শেষ করে মায়মুনা ফোনবুকটা দেখেন। হঠাৎ চোখে পড়ে বড় আপার নাম্বারটা। অনেকদিন আপাকে ফোন দেয়া হয় না। আপার বাড়িতে শেষ কবে গিয়েছেন তাও মনে নেই। সেই ঘটনার পর থেকে দুই পরিবারের সম্পর্কে বেশ ভাটা গেছে। অবশ্য এরপরও মায়মুনা তিন-চার বার ফোনে বোনের সাথে যোগাযোগ করেছেন। ঘটনাটা মনে হলেই মায়মুনা এখনো লজ্জায়-ভয়ে আঁতকে উঠেন। বছর দুয়েক আগের কথা। মন ছুটলেই দুই বোন দেখা করতে ছুটে যেতেন। আপার যখন ইচ্ছা চলে আসতো। মা মারা যাওয়ার পর মায়মুনা আপাকেই একমাত্র সান্তনা হিসেবে বেছে নেয়। সেই সুবাদে দুই পরিবারের ছেলে-মেয়েদের মধ্যেও ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে। আপার তিন ছেলে। এ বাসায় বেশি আসতো মেঝো ছেলে সাব্বির। তখন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। দেখতে বেশ হ্যান্ডসাম ছিল। সুযোগ পেলেই নীল রঙের মোটর সাইকেলটা নিয়ে চলে আসিতো খালার বাসায়। মায়মুনাও খুশি হতেন ওকে পেয়ে। মেয়েরাও গল্প করতো জমিয়ে, তিনি কিছু মনে করতেন না ভাবতেন দুধ ভাই-বোন ওরা, আপন ভাই-বোনের মতই। তখনো ভাবতে পারেন নি শয়তানের ওয়াস-ওয়াসা কাকে বলে। মেয়েরা তখনো বাইরে যেতে পর্দা করতো। কিন্তু পর্দার আসল উদ্দেশ্য কতটুকুই বা বোঝে এখনকার ছেলে-মেয়েরা? আর এভাবে কেটে যায় কিছু দিন। সাব্বিরের আনাগোনা বাড়তে থাকে।
একদিন সকালের ঘটনা, মায়মুনা ফজরের নামায পড়ে শুয়েছেন। কিছুক্ষণ পর সাদিয়া এসে খবর দিল আম্মু আপুকে দেখছি না। মায়মুনা বেগমের স্বামী আজাদ সাহেব বলেন, ভালো করে দেখ হয়তো বারান্দায় বা ওয়াশরুমে আছে। মায়মুনার বুক হঠাৎ ধক করে উঠে। তারাতারি বিছানা ছেড়ে উঠে পড়েন। সবাই চারদিকে খুঁজতে থাকে। না, কোথাও নেই। তাহলে গেল কোথায়। বাইরের দরজাটা খোলা পাওয়া গেল। বাসার দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করতেই বললো, আপুমনি ভোরে বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বেরিয়েছে। আজাদ সাহেব জিজ্ঞেস করেন, কার সাথে গেছে এত ভোরে। দারোয়ান বলে সাব্বির ভাইয়ের সাথে মোটর সাইকেলে গেছে। আজাদ সাহেব এবার রেগে গিয়ে মায়মুনাকে জিজ্ঞেস করেন এসবের মানে কি? মায়মুনা এতক্ষণে জমে বরফ হওয়ার উপক্রম। আজাদ সাহেব ভীষণ মেজাজী। বড় আপাকে ফোন করে কিছু জানা গেল না। এদিকে সাব্বিরের ফোনটা বন্ধ পাওয়া গেল আর নাদিয়ার তো কোন ফোনই সঙ্গে নেই। এখন কি হবে। দিন যত গড়াবে ঘটনটা জানাজানি হয়ে যাবে। মায়মুনা বেগম এসব ভাবতে ভাবতে মাথা ঘুরে পড়ে যান। এরপর যখন জ্ঞান ফিরল দেখেন তিনি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন। আশে-পাশে  সবাইকে দেখলেন নেই শুধু নাদিয়া। অনেক কষ্টে নাদিয়ার কথা জানতে চাইলেন। আনিস বললো, চিন্তা করো না মা, ওকে এখনো পাইনি তবে খুঁজছি, থানায় জিডি করেছি সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ লাগিয়েছি, পেয়ে যাবো। মায়মুনা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন আর তার চোখ গড়িয়ে বেরিয়ে আসে অশ্রুজল। পরদিন শরীরটা নরমাল হতেই রিলিজ নিয়ে বাসায় আসেন। বাসায় এসেই সবার চোখ কপালে উঠল। যাকে এত খোঁজা-খুঁজি হচ্ছে সেই নাদিয়া দরজার সামনে বসে কাঁদছে। সবাই এবার ইচ্ছে মত ওর উপর রাগ ঝাড়ল। মায়মুনা নরম মনের মানুষ। স্বামী ও ছেলেকে বুঝিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বুকে জড়িয়ে ধরেন। নাদিয়ার মুখে ভাষা নেই শুধুই কাঁদছে। অনেক্ষণ পর শান্ত হয়ে বলতে শুরু করলো এতকিছু হবে ও ভাবতে পারে নি। সাব্বির ভাই ওর সাথে বেড়াতে যেতে বলেছিল। যার কথা বলতেই নিষেধ করে বলে তাহলে খালা যেতে দেবে না। পরে বান্ধবীর বাসায় যাবো বলে বেরিয়েছি, হোটেলে নাস্তা খেতে নেমে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এবার বুঝলাম কি ভুল আমি করেছি। পরে দেখা যাবে বলে আমি বান্ধবীর বাসায় চলে আসি। সন্ধ্যায় রিনির কাছে খবর পাই আম্মু অসুস্থ হাসপাতালে। রাত হয়ে যাওয়ায় আর বের হইনি। সকালে এসে দেখি দরজায় তালা, সব কথা শুনে আজাদ সাহেব বড় আপাকে ফোন দিয়ে অনেক মেজাজ দেখালেন। আপা এসবের কিছুই জানতেন না। পরে ছেলেকে অবশ্য বিদেশ পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। সম্পর্কটা আর ঠিক হয়নি। নাদিয়া এখন নিজেকে অনেকটাই গুছিয়ে নিয়েছে। ভাবতে ভাবতে নাদিয়ার ডাকে তার হুঁশ হলো। নাস্তা খেতে গেলেন। এদিকে জুমুয়ার আগেই ফিরে এলেন আজাদ সাহেব, খাবার টেবিলে মায়মুনা সবাইকে জানালেন বিকেলে ড্রয়িং রুমে সবার সাথে বসতে চান জরুরী কিছু কথা বলবেন। খাওয়া শেষ যে যার মত বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে ড্রয়িং রুমে আসতে লাগলো, পরিপাটি করে সাজানো ছিমছাম ড্রয়িং রুম। সবাই এসে বসলো। মায়মুনা নামায সেরে এলেন। বৌমা এলো নাস্তা নিয়ে। সবাইকে বসতে বলে বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করলেন। মায়মুনা ছেলে-মেয়েদের উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমরা এখন অনেক বড় হয়েছো। আমাদেরও বয়স হয়েছে। এই জীবনে অনেক চড়াই-উৎড়াই পেরিয়েছি। বিপদে ধৈর্য্য ধারণ করেছি, সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে দেইনি। আল্লাহকে সব সময় স্মরণ করেছি। আল্লাহর বিধান মেনে চলার চেষ্টা করেছি, তোমাদের ছাড়েনি। তোমাদের সামনে পুরো জীবনটা পড়ে আছে। আরো অনেক দুঃখ-মুসিবত আসতে পারে, তখন হয়তো আমরা থাকবো না, তোমরা কি তৈরি আছো? একজন মুসলিমের জন্য ঈমান আনার পর নামায পড়া ফরজ হয়ে যায়। আমার একেকটা বাচ্চা হবার আগে নেক সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি। আর তোমাদের প্রত্যেকের জন্মের আগে আল্লাহকে বলেছি যেন আমার সন্তানদের মুখ দেখে মরতে পারি, ওদের বড় করে সঠিক শিক্ষা দেয়া পর্যন্ত আল্লাহ যেন আমাকে অবকাশ দেন। তিনি আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন ঠিকই কিন্তু আমি কি পেরেছি আমার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে? কখন ডাক আসবে আর আমাকেও চলে যেতে হবে জানি না। একথা বলতে বলতে তার কন্ঠ ভারী হয়ে আসে, চোখ মুছে তাকিয়ে দেখেন সন্তানদের চোখে পানি। এ দৃশ্য দেখে আর কিছু বলতে পারলেন না। শুধু আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে সন্তানদের মঙ্গলের জন্য দোয়া করলেন। সন্তানরা মাকে জড়িয়ে ধরলো। মাগরিবের আযান শোনা যায়। এবার সবাই নামায পড়তে গেল। মায়মুনা ভাবেন যদি প্রতিদিন এমন হতো...।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ