শুক্রবার ০৫ মার্চ ২০২১
Online Edition

করোনায় মৃত্যু সাড়ে ১৫ হাজার আক্রান্ত সাড়ে ৩ লাখ

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ হাজার ৩০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যে শুধু ইতালিতেই মারা গেছেন পাঁচ হাজার ৪৭৬ জন। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জরিপ পর্যালোচনা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওমিটার এই পরিসংখ্যান জানিয়েছে। বৈশ্বিক মহামারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৯২টি দেশ ও অঞ্চলে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার ৬৪৬ জন।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক চীনের বাইরে করোনা ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ১১ মার্চ পৃথিবীব্যাপী মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওমিটারের ওয়েবসাইটে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা চীনে। সেখানে মোট ৮১ হাজার ৫৪ জন ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছ ৩ হাজার ২৭০ জনের। তবে মৃতের হিসেবে চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে ইতালি। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৭৬, আর আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ হাজার ১৩৮ জন।
মৃতের হিসেবে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৩৩ হাজার ৮৯ জনের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২১৮২ জনের। স্পেনের পর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইরান। দেশটিতে ২৩ হাজার ৪৯ জন আক্রান্তের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৮১২ জনের। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছে ৩৫ হাজার ৭০ জন মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৪৫৮ জনের। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিনিদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের নেতৃত্ব গঠিত হোয়াইট হাউস করোনা ভাইরাস টাস্ক ফোর্সের এক কর্মী ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এরপর মাইক পেন্স ও তার পরিবারের করোনা ভাইরাস এর জন্য পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে নতুন করে আরও ছয় জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত রোগী ৩৩ জন। নতুন ছয় রোগীর মধ্যে পুরুষ তিন জন, নারী তিন জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। প্রতিবেশী দেশ ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪২৫ জন। এর মধ্যে প্রাণ হারিযেছেন ৮ জন। আর পাকিস্তানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮০৪ জন। তার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।
স্পেনে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৬২ জনের প্রাণহানি: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় স্পেনে আরও ৪৬২ জন মারা গেছেন। সোমবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ফরাসি সংবাদমাধ্যম এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, স্পেনে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৬২জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় প্রাণ হারালেন ২ হাজার ১৮২ জন।
ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালি এবং স্পেনে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাসের প্রকোপ। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদ্রিদের একটি হাসপাতালের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে শত শত মানুষ বারান্দায়, ব্যালকনিতে কিংবা হাসপাতাল কক্ষের সামনে শুয়ে আছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই হাঁচি-কাশি দিচ্ছেন, অনেকেই অক্সিজেন নিচ্ছেন। এছাড়া আরও শত শত মানুষকে হাসপাতালের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করতে দেখা যায়, যারা চিকিৎসা নেয়ার জন্য মাদ্রিদের ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে স্পেন। হাসপাতাল কর্মীদের সংগঠন জেনারেল ইউনিয়ন অব ওয়ার্কারের নেতা জাভিয়ার গার্সিয়া স্থানীয় দৈনিক এল মুন্ডকে বলেন, হাসপাতালের এমার্জেন্সি ওয়ার্ডগুলোর ধারণক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই শয্যা না পেয়ে মেঝেতে অথবা প্ল্যাস্টিকের চেয়ারে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বসে আছেন।
একদিন আগে রোববারই দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৩৯৪ জন মারা যান এবং নতুন করে আক্রান্ত হন কমপক্ষে ৩ হাজার ৬৪৬। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৯ এবং মারা গেছেন ২ হাজার ১৮২ জন। তবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৩৫৫ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখের বেশি: বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ হাজার ৩০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যে শুধু ইতালিতেই মারা গেছেন পাঁচ হাজার ৪৭৬ জন। আর সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিশ্বের ১৯২টি দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৬৭৬ জন।
করোনার উৎপত্তিস্থল চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ইতালিতে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯ হাজার ১৩৮ জন, আর পাঁচ হাজার ৪৭৬ জন। ইতালির পরেই রয়েছে স্পেন। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৯ জন, মারা গেছেন ২ হাজার ১৮২ জন। অন্যদিকে, ইরানে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ২২০ জন, মারা গেছেন ১ হাজার ৮১২ জন।
গত বছরের শেষদিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। যাতে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু সংখ্যা। প্রায় প্রতিদিনই ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল উহানে যেমন নতুন রোগী বাড়ছে, তেমনি নতুন দেশ থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীর তথ্য জানানো হচ্ছে। সবশেষ তথ্যানুযায়ী ভাইরাসটি এরইমধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৯২টি দেশে ছড়িয়েছে। এসব দেশ থেকে নতুন রোগীর তথ্য জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি যোগ হচ্ছে নতুন দেশের নাম।
কলকাতায় প্রথম মৃত্যু, বহু আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় প্রথমবার একজনের মৃত্যু হয়েছে। ৫৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি সোমবার সল্টলেকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, মৃত ওই ব্যক্তির সাম্প্রতিক বিদেশযাত্রার কোনও রেকর্ড নেই। তবে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এক আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে বিলাসপুর গিয়েছিলেন এবং ২ মার্চ পুনে-হাওড়া চলাচলকারী একটি ট্রেনে কলকাতায় ফেরেন। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনেই কারও মাধ্যমে ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।
করোনায় মৃত ওই ব্যক্তি কলকাতা রেলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। কলকাতায় ফিরে তিনি পাঁচদিন অফিস করেছেন। ১০ মার্চ অসুস্থ হয়ে পড়ার আগে স্ত্রীর সঙ্গে শপিংমলে গেছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে দুই চিকিৎসক তাকে দেখেছেন। একজন ল্যাবকর্মী বাড়িতে এসে তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। এক্স-রে করাতে পাশের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও যান ওই ব্যক্তি। সেসময় রিকশাচালক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মীরা তার সংস্পর্শে আসেন। এছাড়া বিয়েবাড়িতে কয়েকশ মানুষের সংস্পর্শে গেছেন ওই ব্যক্তি। তাদের মধ্যেও অনেকে একই ট্রেনে ফিরেছেন। তাদের সবাইকে দ্রুত চিহ্নিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই বৃদ্ধের আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যেও কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাকিদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তবে তার সংস্পর্শে ঠিক কতজন এসেছেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ