শুক্রবার ০৫ মার্চ ২০২১
Online Edition

দেশে আরও একজনের মৃত্যু ॥ আক্রান্ত ৩৩

গতকাল সোমবার মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করে করোনা পরিস্থিতি বর্ণনা করেন আইইউডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সাব্রিনা ফ্লোরা -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত আরও একজন মারা যাওয়ার কথা জানিয়েছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। এ নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছাল তিনজনে। আইইডিসিআর বলছে, আর গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে নতুন করে সংক্রমণ ঘটেছে ৬ জনের। সব মিলিয়ে দেশে এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৩ জন। গতকাল সোমবার রাজধানীর মহাখালীতে আইইডিসিআরের কার্যালয়ে সংস্থাটির পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কথা জানান।
তবে কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও রাজশাহীর গোদাড়াড়ীতে আরও দুই জন বিদেশ ফেরত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের ধারনা করোনায় আক্রান্ত হয়ে তারা মারা গেছেন।
আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ছয়জনের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও দুজন নার্স রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে একজনের অবস্থা সংকটপূর্ণ হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। তিনি কিডনি সংক্রান্ত জটিলতায় আগে থেকেই ভুগছিলেন। মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, আক্রান্ত ৩৩ জন রোগীর মধ্যে ১০ বছরের নিচে আছে দুজন, ১০ থেকে ২০ বছর বয়সীদের মধ্যে একজন, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে নয়জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে নয়জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সীর মধ্যে পাঁচজন, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে একজন এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে আছেন ছয়জন।
কোন কোন জেলার ব্যক্তিরা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তা জানতে চাইলে মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, ৩৩ জন আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ঢাকা শহরে বাস করতেন এমন ব্যক্তি রয়েছেন ১৫ জন। এরপর মাদারীপুরের ১০ জন, নারায়ণগঞ্জের তিনজন, গাইবান্ধায় দুজন, কুমিল্লাতে একজন, গাজীপুরে একজন এবং চুয়াডাঙ্গায় একজন রয়েছেন। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ১৩ জন বিদেশ থেকে ভ্রমণ করে এসেছেন। বাকিরা এঁদের মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে সংক্রমিত হয়েছেন। মীরজাদী সেব্রিনা আরও বলেন, বিদেশ থেকে যাঁরা এসেছেন তাদের মধ্যে ইতালি থেকে ছয়জন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুজন, ইতালি বাদে ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে দুজন, বাহরাইন থেকে একজন, ভারত থেকে একজন ও কুয়েত থেকে একজন এসেছেন। আক্রান্তদের একজন বাদে সবার অবস্থা স্থিতিশীল। এই ৩৩ জনের মধ্যে পাঁচজন সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরে গেছেন। আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে আজ বলা হয়, যথেষ্ট পরিমাণ পারসোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) রয়েছে। প্রতিদিন এটি বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে। ফলে পিপিই ঘাটতি হবে না।
আইইডিসিআর পক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আরও জানানো হয়, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে করোনা ভাইরাস ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার এখন কক্সবাজারে রয়েছে। সেখানে আক্রান্ত হলে শনাক্তকরণের জন্য পরীক্ষা করা যাবে এবং চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আইইডিসিআরের দেওয়া তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ৬২০ ব্যক্তিকে পরীক্ষা করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে ছয়জন করোনা রোগী পাওয়া গেছে। আইইডিসিআরের ভিডিও কনফারেন্সের সময় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভৈরবে ইতালি-ফেরত এক ব্যক্তির মৃত্যু: বাজিতপুর সংবাদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ইতালি থেকে আসা আব্দুল খালেক নামের এক ব্যক্তির (৬০) জ্বর-শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তিনি জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ, তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন মৃত ব্যক্তির চারপাশের ১০টি করে মোট ৪০ টি ঘর এবং দুটি বেসরকারি হাসপাতালের মানুষের চলাচল সীমিত করেছে। ঘটনার রাতে দুই হাসপাতালে যাঁরা কর্মরত ছিলেন, তাদের হাসপাতালের ভেতরেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে মৃত ব্যক্তির বাড়ির চারপাশে। এছাড়া মৃত ব্যক্তির বাড়ির চারপাশের বেশ কিছু বাড়িঘরে মানুষের চলাচল সীমিত ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয়রা  জানান, ওই ব্যক্তি  প্রায় প্রায় আঠারো বছর আগে ইতালিতে যান। তার দুই ছেলে বর্তমানে ইতালিতে আছেন। ইতালিতে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হলে তিনি সিদ্ধান্ত নেন বাড়ি ফিরে আসার এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি বাড়ি ফিরে  আসেন। ইতালি থেকে ফেরার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কোনো হাসপাতালেও যাননি এবং এলাকায় স্বাভাবিক চলাফেরা করছিলেন। তিনি নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়েতেন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা করেতেন। প্রতিবেশীরা এই নিয়ে শঙ্কিত থাকলেও লোকলজ্জার কারণে সরাসরি কিছু বলেননি। শনিবার থেকে ওই ব্যক্তি জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে রাত নয়টার দিকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পর চিকিৎসকেরা তার পরিবারের সদস্যদের তাকে হৃদ্রোগের চিকিৎসা করাতে পরামর্শ দেন। এ অবস্থায় ওই হাসপাতাল থেকে তাকে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুবনা ফারজানা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, ওই ব্যক্তি আমাদের তালিকার বাইরে ছিলেন। জেনেছি, তিনি নিজে হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জেনেছি তার জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছিল। এ কারণে ওই ব্যক্তির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে আইইডিসিআর। পরীক্ষার পর করোনা ভাইরাসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গোদাগাড়ীতে ভারতীয় নারীর মৃত্যু করোনা : রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ডাইং গ্রামে গতকাল সোমবার নবিজান বেগম (৬০) নামের এর ভারতীয় নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের শিবধাত গ্রামের মহিবুলের স্ত্রী। মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা হৃদরোগ উল্লেখ করলেও এলাকাবাসীর মধ্যে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, গত ১১ মার্চ নবিজান বেগম ভারতীয় পাসপোর্টে উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের গণকের ডাইং গ্রামে মৃত পিতা দুখুর বাড়িতে আসেন। গতকাল সোমবার ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টিম ঘটনাস্থল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আবু তালেব জানান, আগের চিকিৎসাপত্র ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট এবং পরিবারের তথ্য অনুযায়ী নবিজান বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। আর এতেই তার মৃত্যু হয়। এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, বাংলাদেশের আগেই ভারতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয়। আবার বর্ডার পারাপারে দু’দেশেই ওই সময় কোন ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়নি। যার কারণে এলাকায় করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া স্বাভাবিক। 
রাজশাহীতে হোম কোয়ারেন্টিনে ২১০ : এদিকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত রাজশাহীতে বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ২১০ জন। এর মধ্যে ২৪ ঘন্টায় ৮৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে  রাজশাহীর মেসগুলো লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। 
রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক জানিয়েছেন জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে গত ২৪ ঘন্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে আরো ৮৩ জনকে। একই সময় ছাড়া পেয়েছেন ২১ জন। বর্তমানে ২১০ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে। এদিকে, সোমবার দুপুরেই রাজশাহী মেস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন রাজশাহীর সকল মেস লকডাউন ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, রাজশাহীতে ১৫০টি মেস রয়েছে। প্রশাসনের পরামর্শে মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাজশাহীর সব মেস লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে তাদের সর্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাজশাহীতে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী গত ১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রাজশাহীতে বিদেশফেরত রয়েছেন ১ হাজার ৩০৮ জন। এর মধ্যে মহানগর পুলিশের ১২ থানা এলাকায় রয়েছেন ৮১০ জন। এর মধ্যে শুধু বোয়ালিয়া থানা এলাকায় রয়েছেন ৪০৮ জন। 
কুষ্টিয়ায় হোম কোয়ারেন্টাইনে ৭১৩ প্রবাসী: কুষ্টিয়া সংবাদদাতা জানান, কুষ্টিয়া জেলার ছয়টি উপজেলায় গত ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১ এক হাজার ১৩৯ জন প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে ৭ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত আসা ৭১৩ জনকে সনাক্ত করে তাদেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে পুলিশ। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল থেকে রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত এই ৭১৩ জনের বাড়ি সনাক্ত করেছে পুলিশ। সেই সাথে তাদের বাড়ির সামনে লাল নিশানা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। বাড়ির ফটকের সামনে প্রবাসীর দেশে আসার তারিখও লিখে স্টিকার সেটে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রবাসীর হাতে সিল লাগানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো তালিকা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় প্রত্যেক থানার ওসিরা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের নিয়ে কাজ করেছেন। শনিবার সকাল থেকে রোববার রাত দেড়টা পর্যন্ত প্রত্যেকের বাড়ি সনাক্ত করা হয়। 
ভাণ্ডারিয়ায় ৫১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে: ভাণ্ডারিয়ায়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে দোকানপাট সহ সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবারের দুদিনের বাজার বন্ধ ঘোষনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত ২২ মার্চ রবিবার রাতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্দেগে মাইকিং করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত উপজেলার কাচাঁ বাজার, মুদি দোকান ঔষধের দোকান বাদে অন্য সকল প্রকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয় এবং ২৩ মার্চ সোমবার সকালে সকল প্রকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ কার্যকরের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মোঃ তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ভাণ্ডারিয়া বন্দরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের সতর্কতার জন্য অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্দর ব্যবসায়ী নেতা মোঃ মিজানুর রহমান নিপু জোমাদ্দার সহ অন্যান্যরা। এদিকে ইমিগ্রেশনের তথ্য মতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ২৮৫ জন প্রবাসি দেশে আসলেও তাদের মধ্যে থেকে ৫১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন এ রাখা হয়েছে বাকিদের পাওয়া যাচ্ছেনা তারা হয়তো দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে, বলে যানায় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাকসুদুর রহমান।
রংপুরে আরও ৬২৭ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে গাইবান্ধায় আক্রান্ত ২ জন
রংপুর অফিস জানায়,  রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে আরও  ৬২৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৩ দিনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁঁিডয়েছে ১ হাজার ৬শ ৮ জনে। এর মধ্যে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় আমেরিকা থেকে আসা প্রবাসী দুই মা ও ছেলের শরীরে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের পজেটিভ রির্পোট পাওয়া গেছে বলে।  রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডাক্তার জওয়াহেরুল আনাম সিদ্দিকী  বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চাঁদপুরে হোম কোয়ারেন্টাইনে ৯৯০ জন: চাঁদপুর সংবাদদাতা জানান, করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে। এ মহামারি থেকে রক্ষায় চাঁদপুর জেলায় এ পর্যন্ত ৯৯০ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে গত রোববার পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে চাঁদপুর জেলায় ২ হাজার ১শ ৮৫ জন প্রবাসী এসেছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে যুক্ত হয়েছে ২৬ প্রবাসী। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলার ও পৌরসভার ২২৭ জন, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ২১১ জন, কচুয়া উপজেলায় ১৭০ জন, শাহরাস্তি উপজেলায় ১৫০ জন, হাজীগঞ্জ উপজেলায় ১৫৪ জন, হাইমচর উপজেলায় ২১ জন, মতলব উত্তর উপজেলায় ৫৪ জন ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ১০০ জন। চাঁদপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে আরো জানা যায়, করোনা প্রতিরোধে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন, জরুরি মেডিকেল দল, ইউনিয়ন পর্যায়ে মেডিকেল দল, মনিটরিং সেল গঠন, প্রত্যেক উপজেলায় ৭/৮ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুতকরণসহ চিকিৎসা সেবার জন্য সব প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের শঙ্কায় চাঁদপুর জেলা, সদর ও উপজেলা পর্যায়ে ১০০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করেছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এছাড়া অতিরিক্ত হিসেবে প্রত্যেক উপজেলায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হোটেল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা এসব লোক অতি সম্প্রতি সৌদি আরব, কাতার, দুবাই , মালয়েশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে ফেরত এসেছেন। তাদের ২ সপ্তাহ নিজ বাড়ীতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এখনো চাঁদপুর জেলায় কোন করোনা রোগী সনাক্ত হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ