রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ বাস্তবে দেখা যায়নি -ওয়ার্কার্স পার্টি

স্টাফ রিপোর্টার: করোনো ভাইরাস সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে এটি জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে জাতীয় দুর্যোগ কমিটি গঠন করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মতোই লকডাউন, আংশিক লকডাউন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই ৩টি মূল্যবান মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেসব ব্যবস্থার কথা বলেছে বাস্তবে তার অস্তিত্ব দেখা যায়নি; চরম সমন্বয়হীনতা সেখানে কাজ করছে।
গতকাল সোমবার পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সভায় এই আহ্বান জানানো হয়। পলিটব্যুরোর সভায় স্কাইপে যুক্ত হন পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, মাহমুদুল হাসান মানিক, ড. সুশান্ত দাস, নুর আহমদ বকুল, কামরুল আহসান, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ প্রমুখ।
স্কাইপের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সভায় বলা হয়, ইতিমধ্যেই ৩টি মূল্যবান মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেসব ব্যবস্থার কথা বলেছে বাস্তবে তার অস্তিত্ব দেখা যায়নি; চরম সমন্বয়হীনতা সেখানে কাজ করছে। রোগতত্ত্ব বিভাগ তাদের সঙ্গে পরীক্ষার জন্য যোগাযোগ করতে হটলাইনে কথা বলতে বললেও তাদের সংযোগ পাওয়া যায় না। রোগীর বিদেশ ফেরত না বলে তাদের পরীক্ষাও করা হয় না। মিরপুরে টোলারবাগের ঘটনা তার প্রমাণ। একইভাবে একজন সাংবাদিক ও ডাক্তারের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও তার প্রমাণ। তাছাড়া মাত্র একটি পরীক্ষাগার দিয়ে কীভাবে এত সংখ্যক ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা হতে পারে। যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার জোর দিয়ে পরীক্ষা করার কথা বলেছে।
সেখানে বলা হয়, দুর্ভাগ্যজনক যে, প্রতিটি বিভাগে একটি করে পরীক্ষাগার স্থাপনে ওয়ার্কার্স পার্টির দাবিও উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে ঢাকা থেকে সিলেটের রোগীর নমুনা সংগ্রহের আগেই সে মারা গেছে। তাকে করোনাভাইরাস সংক্রমিত বলে দাফন করা হলেও এখনও রোগতত্ত্ব বিভাগ তা নিশ্চিত করতে পারেনি। একই সময় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে যেখানে সুবিধা রয়েছে সেগুলোকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনেই এই পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা যেতে পারতো বলেও ওয়ার্কার্স পার্টি দাবি জানিয়েছিল। সভায় বলা হয়, কেবলমাত্র কিট সংগ্রহেই তিন মাস চলে গেল। আর স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা (পিপিই) এখন পর্যন্ত সেভাবে সরবরাহ করা হয়নি। এর ফলে যাদের সর্দি-কাশি শ্বাসকষ্টের সামান্যতম উপসর্গ রয়েছে তাদের হাসপাতালগুলো এবং প্রাইভেট চেম্বারও ফিরিয়ে দিচ্ছে। ওয়ার্কার্স পার্টি মনে করে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের বাস্তবতা সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে সঠিকভাবে জানানো হচ্ছে না। যে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে সেটা একবারও বসেনি বলে সংবাদপত্রে খবরে প্রকাশ হয়েছে।
ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, আর সময় নেই এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের সতর্কতার কারণে নিম্ন শ্রমজীবীরা গৃহকর্মীরা বস্তিবাসীরা গণপরিবহন কর্মীরা এক কথায় যারা দিন আনে দিন খায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। শ্রমঘন শিল্প গার্মেন্টস শ্রমিকদেরও একই অবস্থা। এদিকে ক্রয় আদেশ বাতিল করার ফলে গার্মেন্টস কারখানাগুলো সংকটে পড়েছে। এই অবস্থায় এক শ্রমজীবী ও বস্তিবাসী মানুষের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ২ সপ্তাহের খাদ্য সরবরাহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য মালিকদের সহায়তা প্রদান এবং সর্বোপরি সকল নিম্ন বেতনভুক্ত সরকারি-বেসরকারি কর্মচারীদের এই সময়ের জন্য দুর্যোগ ভাতা এবং সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি।

শ্রমজীবী মানুষের ১৫ দিনের খাবার ব্যবস্থা করার দাবি
বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর সভাপতি আবুল হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক কিশোর রায় গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে ঢাকা মহানগরে করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, রিকশাওয়ালা ও শ্রমজীবী মানুষের বিশেষ করে বস্তি এলাকার মানুষের জন্য কমপক্ষে ১৫ দিনের খাবার ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে এই দুঃসময়ে কর্মহীন অবস্থায় তারা নিরাপদে ঘরে থাকতে পারেন। এনজিওগুলোর প্রতি নির্দেশ দেয়া প্রয়োজন যেন তারা এই দুর্যোগের সময় ক্ষুদ্র ঋণের বিনিময় কিস্তি আদায় থেকে বিরত থাকে। গতকাল সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় করোনার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এখনই সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ না করলে করোনা সিটি করপোরেশন এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এ বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই এবং অতীতে যখন ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া দেখা দিয়েছিল তখন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিদায়ী মেয়র একের পর এক বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে গেছেন, যা তিনি এখনও করছেন। কাজের কাজ কিছুই হয়নি এবং এখনও হচ্ছে না। ইতোমধ্যে তার মেয়াদও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে।
বিবৃতিতে তারা নবনির্বাচিত মেয়রের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে দক্ষিণ সিটির কাউন্সিলরদের ডেকে পরামর্শ করে কারোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতিটি এলাকায় জীবাণুনাশক ওষুধ স্প্রে, এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে চলাফেরা না করা নিশ্চিত করা এবং সর্বোপরি এলাকায় কোনো সংক্রমণের খবর পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে রোগতত্ত্ব বিভাগকে জানানো এবং সেই সব বাড়ির বাসিন্দাদের কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ