শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে -আইসিসি বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চলতি মাসের ১১ তারিখে করোনা ভাইরাস সংক্রমণকে বিশ্ব মহামারি হিসাবে ঘোষণা দিয়েছে। এ ভাইরাসটি ইতিমধ্যেই ১৭০টি দেশ এবং অঞ্চলে ছড়িয়েছে এবং ৩,৩০,০০-এরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এ সংখ্যা থেকে যদিও যথাযথভাবে এ দুর্যোগের মাত্রা এবং এর ফলে যে বিশ্ব সংকটের সৃষ্টি হবে তার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবেনা। মহামারি পরবর্তী যে সংকট তৈরি হবে তা বোঝার এবং অনুমান করার চেষ্টা করছে অর্থনীতিবিদরা। প্রকৃতপক্ষে কেউই জানেনা আগামীকালকে কি ঘটবে, তারপর কী হবে এবং আগামীতে সমাজ, সরকার, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং অর্থনীতির কী পরিবর্তন ঘটবে ।
আইসিসি বাংলাদেশ এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান গতকাল সোমবার দেয়া বিবৃতিতে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এটা নিশ্চিত করেই বলা যায় যে প্রান্তিক এবং উদীয়মান অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুতরাং বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে, যেহেতু বাংলাদেশের রপ্তানী পণ্যের ৭০ শতাংশেরও বেশী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ক্যানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে যায়। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের রপ্তানী ৪.৮ শতাংশ কমে ২৬.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে, যা বিগত অর্থবছরে একই সময়কালে ২৭.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। রপ্তানীর এই নিম্নমুখী ধারা সামনের মাসগুলোতে আরও বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, চায়না বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার এবং সরবরাহ চেইনের বড় দাতা, যা রপ্তানী, আমদানী এবং উৎপাদনের জোগান দেয়।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, উৎপাদন, সরবরাহ চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ও বাজার বিপর্যয়ের ফলে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হতে পারে। অর্থনৈতিক খাত বিশেষত বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং র‌্যামিটেন্স আয় কমে যেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, ভাইরাসের কারনে বাংলাদেশের অর্থনীতির ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা নির্ধারনের সময় এখনও হয়নি কেননা প্রতিদিনই নতুন পরিস্থিতির উদয় হচ্ছে, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রাক্কলন দ্বারা কেবলমাত্র ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা বোঝানো যেতে পারে। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করবে সংক্রমণের বিস্তার ও এর স্থায়ীত্বের উপর এবং নীতি নির্ধারকরা স্বাস্থ্যগত এবং অর্থনৈতিক ক্ষয়-ক্ষতি উপশমে কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে তার উপর।
আইসিসি বাংলাদেশ বিশ্বাস করে দ্রুততম সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ার ফলে দেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে এবং চ্যালেঞ্জর মুখোমুিখ হয়েছে। সুতরাং, ক্রমাবর্ধমান অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতাকে মোকাবেলা করার জন্য সরকার এবং ব্যবসায়ী মহলকে ড়াবৎধৎপযরহম নীতি কাঠামোতে একমত হতে হবে। আমরা দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করি যে এ ধরনের দুর্যোগ যার কোন ভৌগলিক সীমারেখা নেই মোকাবেলায় কেবলমাত্র সমন্বিত পদক্ষেপই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সুতরাং, আমরা এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য নীতি-নির্ধারকদের তাগিদ দিচ্ছি তাদের নেতৃত্বে সরকার এবং বেসরকারী খাতের নেতৃবৃন্দকে একত্র করার জন্য। অতীতে বাংলাদেশ অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ সফলতার সাথে মোকাবেলা করেছে এবং আমরা আশা করি এ দুর্যোগও সাহস এবং সহিষ্ণুতার সাথে উৎরাতে সক্ষম হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ