রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

চীন থেকে আগত জাহাজগুলো ১৬ দিন কোয়ারেন্টাইনের পর চট্টগ্রাম বন্দরে বার্থিং

# জাহাজের নাবিক ক্রু অসুস্থ হলে তার জন্য এ্যাম্বুলেন্স শিপও প্রস্তুত
চট্টগ্রাম ব্যুরো : প্রকৃতির অপার মহিমান্বিত কর্নফুলী নদীর পাড় ঘেঁষে সৃষ্ট চট্টগ্রাম বন্দর। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ এই বন্দর। স্বাভাবিকভাবেই বৈশ্বিক মহামারী সৃষ্টিকারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উৎকন্ঠায় দেশের আপামর জনগণ। আর এই উৎকন্ঠায় করোনাভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে চট্টগ্রাম বন্দরের গৃহীত ব্যবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে গতকাল ২৩শে মার্চ  সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম বন্দরে গিয়ে হাজির হন  নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।
এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য, প্রশাসন ও পরিকল্পনা মোঃ জাফর আলম  তার অফিস কক্ষে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এ সময় সুজন বলেন বাংলাদেশের বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। এই বন্দরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার গাড়ী প্রবেশ করে। প্রতিটি গাড়ীর সাথে একজন চালক এবং একজন সহকারী থাকে। এছাড়া পণ্য ডেলিভারিসহ অন্যান্য কাজে বন্দরে আরো প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষের বন্দরে প্রবেশ। তাছাড়া জাহাজে করে বিদেশ থেকেও প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে নাবিক এবং ক্রু বন্দরে প্রবেশ করে থাকে। স্বাভাবিকভাবে এতো বিপুল সংখ্যক জনগনের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে সারাদেশের মানুষের মতো আমরাও উদ্বিগ্ন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরীর শ্রমিকরা প্রতিদিনই বন্দরের অপারেশনাল কাজে বিদেশী জাহাজে প্রবেশ করে।
তিনি বলেন চট্টগ্রাম বন্দর অর্থনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্টান। এ বন্দরের কাছে চট্টগ্রামবাসীর অনেক চাওয়া পাওয়া রয়েছে। আমরা আশা করবো চট্টগ্রাম বন্দর একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্টান হিসেবে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বিশেষ করে বন্দরের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবহারকারী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শ্রমিকদের কাজে যোগদানের পূর্বে মাস্ক, তরল সাবান অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার এবং হ্যান্ড গ্লাভস পরিধান করানোর আহবান জানান তিনি। এছাড়া বন্দরের সকল প্রবেশ পথে থার্মাল মিটার দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা করার জন্যও বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এছাড়া করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য নগরীর অন্যান্য হাসপাতালের পাশাপশি চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালিত হাসপাতালেও আইসুলেশন ব্যবস্থা রাখার জন্য অনুরোধ জানান জনাব সুজন। তিনি বন্দর হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিকেল, আয়াদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পিপিই সরবরাহ করারও আহবান জানান। প্রয়োজনবোধে বন্দর হাসপাতাল থেকে অন্যান্য হাসপাতালে পিপিই সরবরাহ করার জন্য প্রস্তুতি রাখার অনুরোধ করেন। তাছাড়া বন্দরের আশেপাশে বিভিন্ন বস্তি এবং নিম্ন আয়ের লোকজনদের মাঝেও মাস্ক, তরল সাবান এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করার আহবান জানান। বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রবেশ মুখ প্রতিনিয়ই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিয়মিত ব্লিচিং পাউডারও ছিটানোর অনুরোধ জানান। তিনি বলেন আমরা সবাই যদি মানবিক দিক বিবেচনায় কাঁেধ কাঁধ মিলিয়ে এ দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করি তাহলে আমরা অবশ্যই এ দেশের মানুষকে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা করতে পারবো।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য, প্রশাসন ও পরিকল্পনা মোঃ জাফর আলম বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে চট্টগ্রাম বন্দরের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সরজমিনে দেখতে আসায় নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়া নাগরিক উদ্যোগের উপস্থাপিত প্রতিটি প্রস্তাবনার সাথে সহমত পোষন করে তিনি বলেন চট্টগ্রাম বন্দর দেশের ১৭ কোটি মানুষের সম্পদ। দেশের একজন সচেতন মানুষ এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আসার ফলে বন্দরের বর্তমান অবস্থান সাধারণ মানুষ জানতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের মারাত্নক সংক্রমণ এবং এর বিস্তার রোধে আমরা ইতিমধ্যেই আমাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। গত ২০ মার্চ শুক্রবার সরকারী ছুটির দিন হওয়া সত্বেও করোনাভাইরাস প্রতিরোধকল্পে বন্দরের করণীয় নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরী সভা করেছি। বিশেষ করে বন্দরে আগত জাহাজে কোন নাবিক অথবা ক্রু এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা ক্যাপ্টেন ঘোষণা দেওয়ার পর হেলথ অফিসার কর্তৃক জাহাজ পরিদর্শন করে করোনামুক্ত ঘোষণা দেওয়ার পরই উক্ত জাহাজকে বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে চীন থেকে আগত জাহাজসমূহ ১৪ দিন এবং অতিরিক্ত ২দিন সহ মোট ১৬ দিন কোয়ারেন্টাইনের পর বন্দরে বার্থিং দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে আগত কোন জাহাজের নাবিক অথবা ক্রু অসুস্থ হলে তার জন্য এ্যাম্বুলেন্স শীপও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিদেশী জাহাজে উঠার ক্ষেত্রে ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রী পরিধান করা হয়েছে কিনা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের কাজে যোগদানের পূর্বে সাবান দিয়ে হাত জীবানুমুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাপমাত্রা পরিমাপক স্ক্যানার দ্বারা তাপমাত্রা পরীক্ষা করে কাজে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক বন্দরের আওতাধীন সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শ্রেণী কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। বন্দরের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া বন্দর হাসপাতালে কর্মরত সকল ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিকেল, আয়াদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পিপিই’র ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে অন্যান্য হাসপাতালের পিপিই সরবরাহের জন্য অর্থেরও যোগান দেওয়া হবে বলে নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন তিনি। এছাড়া অন্যান্য বিষয়গুলো প্রতিনিয়ত মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকার এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে কাজ করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তিনি যে কোন প্রয়োজনে চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ফোন নাম্বার ২৫২০২২৪ এ যোগাযোগ করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান।এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাজী মোঃ ইলিয়াছ, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন, সমাজকর্মী মোরশেদ আলম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ