বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কেন এই নির্বাচন?

‘অপ্রস্তুত হাসপাতালে আতঙ্কে চিকিৎসক,’ এমন শিরোনাম আমাদের কাম্য নয়। তবে চীনে করোনার আবির্ভাবের পরতো বাংলাদেশ দুই মাস সময় পেয়েছিল, এই দুই মাসে আমরা কি করেছি? ২১ মার্চ পত্রিকান্তরে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বাবুল চৌধুরীর মৃত্যু প্রসঙ্গে বলা হয়, জরুরি বিভাগের টিকিট নিয়ে দেখাতে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক করোনা সন্দেহে তাকে বহিঃবিভাগের মেডিসিন বিভাগে রেফার করেন। অসুস্থ বাবুলকে ধরাধরি করে বহিঃবিভাগে নেয়া হলেও কোনো চিকিৎসক তার কাছে যাচ্ছিলেন না। এক পর্যায়ে সেখান থেকে আবার জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়। স্বজনরা কোলে করে জরুরি বিভাগে আনার পথে মারা যান বাবুল। এমন কেন হলো? প্রতিবেদনে বলা হয়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিও ভবনের নামে মাত্র কোয়ারেন্টাইনে করোনা পরীক্ষার কোনো সরঞ্জাম নেই। এ ছাড়া নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রটেকটিভ গাউন, হ্যান্ড গ্লাভস, স্যানিটাইজারসহ অন্যান্য সামগ্রী কিনতে পারছেন না সরকারি হাসপাতালগুলো। উপজেলা পর্যায়ের পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রয়েছে চরম আতঙ্ক। ঢামেক হাসপাতালে সরেজিমন গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার বেশিরভাগ কর্মকর্তা ও চিকিৎসক করোনা আতঙ্কে অফিসেই অনেকটা সেলফ কোয়ারেন্টাইন করছেন। তারা কোনো রোগী কিংবা রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দেখা করছেন না, কথাও বলছেন না। এমন পরিস্থিতিতে ভোগান্তিতে পড়েেেছন সাধারণ রোগীরা। হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে চিকিৎসকদের ভিড়। তাদের কেউ এসেছেন বদলির ছাড়পত্র নিতে, কেউবা ছুটি নিতে। তবে করোনার কারণে তাদের ছুটি ও বদলির ছাড়পত্র দেয়া স্থগিত করে দেন হাসপাতাল পরিচালক।
এমন পরিস্থিতিতে আজ (২১ মার্চ) করোনা ঝুঁকির মধ্যে ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩, বাগেরহাট-৪ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ তিন উপনির্বাচনে টানা ভোটগ্রহণ চলছে। ঢাকা-১০ আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়। বাকি দুই আসনে ভোটগ্রহণ করা হয় ব্যালট পেপারে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় জনসমাগম হয় এমন প্রায় সব অনুষ্ঠান সরকার স্থগিত করলেও গত বৃহস্পতিবার তিন উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তের কথা জানায় নির্বাচন কমিশন। এদিকে করোনা প্রকোপের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঝুঁকি হিসাবে দেখছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষনা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। ২০ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা বলেন, নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করায় করোনা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে ঝুঁকির কথা বলছে আইইডিসিআর। ভোট নিয়ে আমিও উদ্বিগ্ন। জীবনের চেয়ে নির্বাচন বড় নয়।’ করোনার কারণে ভোট বন্ধ না করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তাসহ নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। ইভিএমে ভোটারের আঙ্গুলের ছাপ মেলাতে হয়, একই ভোটের সিল অনেক ভোটারকে ব্যবহার করতে হয় এবং লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটারদের অপেক্ষা করতে হয় বলে অনেকেই করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা ব্যক্ত করছেন। গত বৃহস্পতিবারও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে নির্বাচন ভবনে কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তিনজন নির্বাচন কমিশনার ভোট বন্ধের পক্ষে থাকলেও ভোট বন্ধ করেনি নির্বাচন কমিশন। তবে ২৯ মার্চের উপনির্বাচন নিয়ে ২১ মার্চ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানা গেছে। এবং যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতির হার ছিল বেশ কম। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির মেয়র নির্বাচনেও ভোটারদের উপস্থিতির হার ছিল হতাশাজনক। নির্বাচন কমিশনের আহ্বানেও কোনো সাড়া মিলেনি। আর আজ (২১ মার্চ) ঢাকা-১০ উপনির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতির হার একেবারে নগণ্য। তাই প্রশ্ন জেগেছে, করোনা ভাইরাসের এই পরিবেশে কেন ভোটের আয়োজন করা হলো। এ ধরনের ভোটে কি গণরায়ের প্রতিফলন ঘটে? প্রসঙ্গত এখানে আমাদের প্রতিবেশী দেশ শ্রীলংকার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। করোনার বিস্তার ঠেকানোর জন্য দেশটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং স্থগিত করা হয়েছে পার্লামেন্ট নির্বাচন। আর করোনা চিকিৎসায় অপ্রস্তুত হাসপাতালের দেশে ইসি আয়োজন করলেন উপনির্বাচন। এমন আয়োজনকে কী নামে অভিহিত করা যায়?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ