বুধবার ০৩ জুন ২০২০
Online Edition

উৎপাদন নেই চাহিদা বাড়ছে গ্যাসের

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে প্রতিদিন আরও দুই হাজার ২৪৭ মিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাসের চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো নতুন গ্যাসের চাহিদা জ্বালানি বিভাগে জমা দিয়েছে। তবে বিপুল পরিমাণ এই গ্যাসের চাহিদা কীভাবে পূরণ হবে তার সমাধান আপাতত সরকারের হাতে নেই। এখন আর ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা সম্ভব। এই পরিমাণ সরবরাহ বাড়িয়ে কীভাবে দুই হাজার মিলিয়নের চাহিদা মিটবে তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে জ্বালানি বিভাগ।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি শিল্পে নতুন গ্যাসের চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে। গণহারে বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন আর শিল্পের জন্য বিদ্যুতের বদলে গ্যাসের চাহিদা দেওয়ায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে। গ্রিডের বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকলেও শিল্পের জন্য ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবেদন করছেন অনেক উদ্যোক্তা।
জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ২০১২ সালের পর থেকে গ্যাসভিত্তিক শিল্প এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে কঠোরতা দেখানো হয়েছে। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস দেওয়া সম্ভব নয় বলে পেট্রোবাংলার তরফ থেকে জানানো হয়েছিল। আর শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সুপারিশ প্রয়োজন হতো। এখন এসব তুলে দেওয়া হয়েছে। সঙ্গত কারণে নতুন গ্যাসের চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যতটা সুবিধা হওয়ার কথা বাস্তবে তা নাও হতে পারে। গ্যাসের প্রাথমিক নিশ্চয়তা পেয়ে কোনও উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করে ফেললে ভবিষ্যতে গ্যাস না পেয়ে বিপাকে পড়তে পারেন।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জ্বালানি বিভাগ থেকে নতুন যে গ্যাসের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে। বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা যায়, ১৮ অর্থনৈতিক অঞ্চলে মোট চাহিদা ৬০৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অনুমোদিত ৯৩০টি গ্যাস সংযোগের ডিমান্ড নোটের অর্থ জমা দেওয়া অপেক্ষমাণ গ্যাসের চাহিদা ৪৩১ ঘনফুট গ্যাস। অনুমোদিত ৮৭৭টি আবেদনের ডিমান্ড নোটের অর্থ জমা দেওয়া ছাড়া প্রক্রিয়াধীন গ্যাস চাহিদা ৪২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। আবেদিত ৬৩১টি, অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ গ্যাস চাহিদা ২৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এছাড়া ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের রি-পাওয়ারিং এবং সার কারখানার জন্য গ্যাস চাহিদা ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। অন্যদিকে, মেঘনাঘাটে চুক্তি স্বাক্ষরিত ৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাস চাহিদা ৩২২ মিলিয়ন ঘনফুট।
কিন্তু, দেশে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা আদৌ সম্ভব কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বলা হচ্ছে, এখন দেশে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে মোট তিন হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে সর্বোচ্চ তিন হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। অর্থাৎ এখন প্রতিদিন ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।
এখন দেশের খনিগুলো থেকে দৈনিক গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ দুই হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট আর আমদানি করা হচ্ছে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। এর বাইরে আরও ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট আমদানি বৃদ্ধি করা সম্ভব।
এখন উপকূলে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। পাইপলাইন প্রস্তুত না হওয়ায় একটি টার্মিনাল বর্তমানে কাজে আসছে না। আবার পাইপলাইন তৈরি হলেও ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস আনা সম্ভব হবে না। ২০২৫ সালে সরকার একটি স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে। সেটির মোট সরবরাহ ক্ষমতা হবে দৈনিক এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু, তখন আবার দেশের উৎপাদন কমে যাবে। এতে বর্তমান ঘাটতি আর তখন উৎপাদন কমের কারণে নতুন করে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে ওই গ্যাসের প্রয়োজন হবে।
তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড ট্রান্সমিশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী মো. মামুন বলেন, আমরা শিল্পে এখন সংযোগ দিতে শুরু করবো। প্রক্রিয়া শুরু করেছি। যারা ডিমান্ড নোটের টাকা এরইমধ্যে জমা দিয়ে ফেলেছেন তাদের সংযোগ দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে পেট্রোবাংলার সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। যেহেতু এলএনজির পাইপলাইনের কাজ শেষ হয়েছে সেহেতু যদি আরও ৪০০/৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আনা যায় তাহলে শিল্পে গ্যাস দিতে আমাদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ