শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

করোনা সন্দেহে বাংলাদেশে কোয়ারান্টাইনে সাত শতাধিক মানুষ

* করোনা মোকাবিলায় বরাদ্দ ৫০ কোটি  * করোনা বিষয়ে ৮ বিভাগে ৮ উপসচিবকে দায়িত্ব প্রদান
মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : করোনা সন্দেহে শুক্রবার পর্যন্ত দেশব্যাপী কোয়ারান্টাইনে ৭ (সাত) শতাধিক মানুষকে রাখার খবর পাওয়া গেছে। কোয়রেন্টাইনে সবচেয়ে বেশি মানুষ চাঁদপুর জেলায়। এখানে ৬০৮ জন কোয়ারেন্টাইনে। এছাড়া মানিকগঞ্জে ৫৯ জন, নারায়নগঞ্জে ৪০, মাদারিপুরে ২৯ জনসহ বিভিন্ন জেলায় আরও অনেকের কোয়ারান্টাইনে রাখার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সরকার দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এদিকে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) সম্ভাব্য সংক্রমিত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ সারা দেশের ১৪টি হাসপাতালে সর্বমোট এক হাজার ৩৫০টি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা বিষয়ে সমন্বয় সাধনের জন্য দেশের আট বিভাগে উপসচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার আট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন,  বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হওয়া তিনজন বাংলাদেশির অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। তিনি বলেন, আমরা বিদেশফেরত ৮ জনকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখেছি। ৪ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। এর বাইরে, বিদেশ থেকে যারা আসছেন, তাদের অনেককে আমরা সেলফ-কোয়ারান্টাইনে (স্বেচ্ছায়) থাকতে বলছি, তাদের অনেকে তা মানছেনও। স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে যারা আছেন, তাদের আইইডিসিআরের হিসাবে ধরা হচ্ছে না। অসুস্থ ৩ জনকে ছাড়পত্র কবে দেওয়া হবে জানতে চাইলে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে তাদের যে পরীক্ষা করা হয়েছে সেটা পর পর দুইবার নেগেটিভ না আসলে তাদের ছেড়ে দেওয়ার কোনো অনুমতি নেই। ফ্লোরা বলেন, বিদেশ থেকে দেশে ফিরে ১৪ দিন সেলফ কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে। এটাই সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। কোনো উপসর্গ দেখা দিলেই আমাদের হটলাইনে যোগাযোগ করুন। সব মিলিয়ে আমাদের ১২টি হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে ফোন করুন, পরামর্শ পাবেন। এছাড়াও আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ নাম্বারেও ফোন করা যাবে। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকাকালীন রোগের উপসর্গ দেখা দিলে আইইডিসিআরের হটলাইন ফোন দিতে অনুরোধ করেন অধ্যাপক ডা. ফ্লোরা। তিনি বলেন, এই রোগের কোনো প্রতিষেধক এখনো নেই। হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে। নিয়মিত সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে। অসুস্থ হলে বাসায় থাকা উচিত। অসুস্থ অবস্থায় বাইরে যেতে হলে মাস্ক ব্যবহার করুন। হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন। বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তি বা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে মেলামেশা আপাতত পরিহার করুন।
মিনিটে ৩ কল আইইডিসিআরের হটলাইনে: বিদেশফেরত দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ যে কারও করোনাভাইরাস সম্পর্কিত তথ্য জানানোর জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ১৩টি হটলাইন মোবাইল নম্বর চালু করেছে। মাসখানেক আগে থেকে ৪টি হটলাইন নম্বর চালু হলেও গত ৮ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন রোগী (দুজন ইতালি প্রবাসী ও তাদের একজনের মাধ্যমে আরেকজন আক্রান্ত) শনাক্ত হওয়ার পর আইইডিসিআর হটলাইন নম্বরে করোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন মানুষের কলের সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। চারটি হটলাইন নম্বরে সামাল দিতে না পেরে আরও নতুন ৮টি নম্বর ও টেলিফোনে মোবাইল সেবা ১৬২৬৩ নম্বরসহ মোট ১৩টি হটলাইন চালু হয়। এতগুলো হটলাইন নম্বর চালুর পরও কল রিসিভ করে সারতে পারছেন না কর্তব্যরতরা। আইইডিসিআর সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনে সর্বমোট ৪ হাজার ৩২৯টি কল, অর্থাৎ গড়ে প্রতি মিনিটে ৩টি করে কল আসছে। মোট কলের মধ্যে ৪ হাজার ২১২টি কলই করোনা সংক্রান্ত। দেশে অবস্থান করছে, বিদেফেরত কারও সংস্পর্শে আসেনি এমন অনেকেই সামান্য হাঁচি কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হটলাইনে যোগাযোগ করে করোনার পরীক্ষা করতে হবে কি-না, কত টাকা লাগবে ইত্যাদি জানতে চাইছেন।
এদিকে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে দুলছে। অনেকেই বিশ্বাস করতে চাইছে না যে দেশে রোগটি ছড়িয়ে পড়েনি। কেউ কেউ বলছে, সরকার তথ্য গোপন করছে। হঠাৎ করে রোগটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঘোষণা আসতে পারে বলে তারা মনে করছেন। অবশ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে দৃঢ়চিত্তে বলেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনে সঠিক পথেই এগুচ্ছে দেশ। রাজধানীর বড় হাসপাতাল থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের হাসপাতালও প্রস্তুত রয়েছে। আইইডিসিআর সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জানুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে বিভিন্ন বন্দরে মোট ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯১৩ জনের স্ক্রিনিং করা হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় স্ক্রিনিং করা হয় ১৪ হাজার ১৬৭ জনের। তার মধ্যে হযরত শাহজালালসহ তিনটি আন্তজার্তিক বিমানবন্দরে ৬ হাজার ৩২৬ জন, স্থলবন্দরে ৭ হাজার ৩৪৭, দুটি সমুদ্রবন্দরে ৩৪২ ও বেনাপোল ও ক্যান্টনমেন্ট রেল স্টেশনে ১৫২ জনের স্ক্রিনিং করা হয়।
করোনা সন্দেহে রাজধানীতে বিদেশ ফেরত অনেককেই কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। কিছু রাখা হয়েছে আইসোলেশনে। এদের সংখ্যা বলা হচ্ছে ৮ জন। এছাড়া ঢাকার বাইরে মানিকগঞ্জে করোনাভাইরাসের বাড়তি সতর্কতার জন্য বিদেশ ফেরত ৫৯ জন ব্যক্তিকে নিজ নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে স্বাস্থ্য বিভাগ। নারায়ণগঞ্জে ৪০ জনকে নিজ নিজ বাসায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) ইতালিফেরত জেলার দুজন চিকিৎসাধীন। তারা এই ৪০ জনের সংস্পর্শে এসেছিলেন। মাদারীপুরে ২৯ জন কোয়ারেন্টাইনে। সম্প্রতি এক ইতালি প্রবাসী মাদারীপুরে আসেন। পরে তার শরীরে করোনাভাইরাসের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। তিনি সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর) জানান। পরে তাকে ঢাকায় আইসোলেশনে রাখা হয়। একই সঙ্গে তিনি এলাকায় যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এমন ২৯ জনকে চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া বগুড়া, ফরিদপুর, ঝালোকাটি, খুলনা, যশোর ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আরও বেশকিছু লোককে কোয়ারান্টাইনে রাখার তথ্য পাওয়া গেছে।
কোয়ারেন্টাইনে সবচেয়ে বেশি মানুষ চাঁদপুর জেলায়। এখানে ৬০৮ জন কোয়ারেন্টাইনে। করোনাভাইরাস থেকে সতর্কতার জন্য বিদেশ থেকে চাঁদপুরে ফেরা ৬০৮ জনকে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে চাঁদপুরে ফিরেছেন ৬০৮ জন। তাদের প্রত্যেককে করোনাভাইরাস থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নিজ নিজ বাড়িতে নিজ দায়িত্বে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় বিদেশ থেকে চাঁদপুরে ফেরা ৪৮০ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তাদের বেশির ভাগই এসেছেন সৌদি আরব, দুবাই, লেবানন, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ইতালি থেকে। বেশ কয়েকজন এসেছেন লিবিয়া, স্পেন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তালিকায় আরও নাম যুক্ত হবে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র। উপজেলা পর্যায় থেকে নামগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারের নির্দেশনায় সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৫০ শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শহরের শায়েস্তা খান সড়কে নির্মিত জুডিশিয়াল ভবনে ওই ৫০টি শয্যার ইউনিট খোলা হয়েছে। এর আগে শহরের ১০০ শয্যা ও ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ৫টি করে ১০ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এখন এ ১০ শয্যার সঙ্গে নতুন করে ৫০ শয্যা যুক্ত হয়েছে। এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা হাসপাতাল ও নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (১০০ শয্যা হাসপাতাল) ৫টি করে ১০টি শয্যা কোয়ারেন্টাইন ইউনিটের ব্যবস্থা করা হয়।
করোনা বিষয়ে ৮ বিভাগে ৮ উপসচিবকে দায়িত্ব প্রদান: সম্প্রতি মহামারি আকারে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা বিষয়ে সমন্বয় সাধনের জন্য দেশের আট বিভাগে উপসচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার আট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব খন্দকার জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা বিভাগের সকল জেলায় উপসচিব (প্রশাসন-১) খন্দকার জাকির হোসেন; চট্টগ্রাম বিভাগে উপসচিব (ক্রয় ও সংগ্রহ-১) হাছান মাহমুদ, সিলেট বিভাগে উপসচিব (সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-২) বেগম রোকেয়া খাতুন; রাজশাহী বিভাগে উপসচিব (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-১) বেগম সুলতানা রাজিয়া; রংপুর বিভাগে উপসচিব (জিএনএসপিএইচআর শাখা) মো. ছরোয়ার হোসেন; খুলনা বিভাগে সিনিয়র সহকারী সচিব (প্রশাসন-২) মো. শাহাদাত হোসেন কবির; ময়মনসিংহ বিভাগে সিনিয়র সহকারী সচিব (বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১) বেগম উম্মে হাবিবা এবং বরিশাল বিভাগে উপসচিব (নার্সিং সেবা-২) তানভীর আহমেদ দায়িত্ব পালন করবেন। এতে আরও বলা হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সেবা বিষয়ে সমন্বয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের কাছ থেকে প্রতিদিন গৃহীত কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ ও মনিটরিং করবেন এবং এ-সংক্রান্ত সকল বিষয় সমন্বয় করবেন।
উল্লেখ্য গত রোববার বিদেশফেরত তিন জনের শরীরে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। তবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে যে দুজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, তাদের যেকোনো দিন ছেড়ে দেয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, সরকার সতর্ক ও সজাগ রয়েছে। করোনা মোকাবিলা করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছেই। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। বুধবার প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্বেব্যাপী গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১ লাখ ২৬ হাজার ৯০৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং ৪ হাজার ৭৩৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া এ সময় পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ৬৮ হাজার ২৮৫ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বিশ্বের ১২৪টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র চীনের মূল ভূখণ্ডেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৭৯৬ এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১৬৯ জনের। চীনের পর করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ইতালিতে। দেশটিতে এ সময় পর্যন্ত ১২ হাজার ৪৬২ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৮২৭ জনের।
১৪ হাসপাতালে ১৩৫০ আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত: করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) সম্ভাব্য সংক্রমিত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ সারা দেশের ১৪টি হাসপাতালে সর্বমোট এক হাজার ৩৫০টি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরের ছয়টি হাসপাতালে ৪০০ শয্যা, চট্টগ্রাম মহানগরে দুটি হাসপাতালে ১৫০ শয্যা, সিলেট মহানগরীতে দুটি হাসপাতালে ২০০ শয্যা, বরিশাল মহানগরীতে দুটি হাসপাতালে ৪০০ শয্যা, এবং রংপুর মহানগরীতে দুটি হাসপাতালে ২০০ শয্যা প্রস্তুত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদফতরেরর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানানো হয়।
এদিকে, সারা দেশে মাস্ক তৈরি করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি জানিয়েছেন, পপলিনের কাপড় দিয়ে তিন স্তরবিশিষ্ট এ মাস্ক তৈরি করা যাবে।
মাস্ক পরার জন্য পপলিনের ফিতা থাকতে হবে। একবার ব্যবহার করে তা সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ও শুকিয়ে মাস্কটি আবার ব্যবহার করা যাবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, কোনো কোনো গণমাধ্যমে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশের ঝুঁকি আছে এমনভাবে তাদের অবস্থান প্রকাশ করা হচ্ছে। তাদেরকে প্রকাশ্যে পুলিশ পাহারা দেয়ার মাধ্যমেও তাদের পরিচয় প্রকাশের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আমরা সারা বাংলাদেশে মোট কতজন কোয়ারেন্টাইনে এবং আইসোলেশনে আছেন তার সংখ্যা প্রকাশ করছি। রোগ প্রাদুর্ভাবের বর্তমান পর্যায়ে জেলা বা উপজেলাভিত্তিক সংখ্যা প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই। পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করব, গৃহ/স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে কারও নিরাপত্তা দেয়ার প্রয়োজন হলে আইইডিসিআর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরার্মশ গ্রহণ করুন।
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ: করোনাভাইরাস মোকাবিলায় গত ৫ মার্চ ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সুশীল কুমার পাল স্বাক্ষরিত চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর সরকার দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে এ বরাদ্দ দেয়। অর্থ মন্ত্রণালয় ২০১৯-২০-এর সংশোধিত বাজেটের অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা তহবিল থেকে এ তহবিল বরাদ্দ দিয়েছে। বরাদ্দ অর্থের মধ্যে চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহের জন্য ৪৫ কোটি ৫১ লাখ ৭৫ হাজার, প্রকাশনার জন্য ১ কোটি ৯৮ লাখ ২৫ হাজার এবং কেমিক্যাল রি-এজেন্টের জন্য আড়াই কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ