শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

সুস্থ সুন্দর সাবলীল জীবন লাভের অনন্য উপাদান সালাত

পৃথিবীতে এমন কোন মানুষ পাওয়া যাবে না যিনি সুস্থতা চান না, সুস্থতা মানুষের জীবন কে সুখী সুন্দর ও সাবলীল গতিতে এগিয়ে নেয়। সুস্থ দেহ ও মনের সমন্বয় হলে ব্যক্তি পারিবারিক সামাজিক এক কথায় জীবনের প্রতিটি ধাপে ধাপে পরতে পরতে জীবনকে সুখী সুন্দর করে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ভেজাল মুক্ত খাবার ব্যতীত যেমন সুস্থ শরীর আশা করা যায় না তদ্রুপ ঐশী জ্ঞান লাভ করা ব্যতীত সুস্থ মননশীলতা পাওয়া যায় না। সুস্থ শরীরের জন্য পরিচ্ছন্ন জীবন  উপকরন যেমন জরুরী, তদ্রুপ সুস্থ নাগরিক ব্যতীত সুন্দর সমাজ, কল্যাণকর রাষ্ট্র আশা করা যায় না। তাই মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষের শারীরিক মানসিক পারিবারিক আন্তর্জাতিক জীবন কে সুন্দর পাক সাফ রাখার লক্ষ্যে পুত পবিত্র রেখে শান্তিময় সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের জন্য ডেইলি রি ফরমার হিসাবে দিয়েছেন সলাত বা নামাজ নামক এক অসিম নিয়ামত। যে ব্যক্তি যথাযথ নিয়মে মহান আল্লাহ প্রদত্ত ডেইলি একসারসাই্জ বা পরিচ্ছন্নতার প্র্যাকটিস বা অভ্যাস গড়ে তুলবে মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাকে অসংখ্য নি’য়ামত বা গুনাবলী দ্বারা উভয় জাহানে উন্নতি ও সমৃদ্ধির উচ্চ আসনে সমাসীন করবেন। অতি সংক্ষিপ্ত আকারে বিষয় গুলো নিম্নে এ উল্লেখ করা হলো :
১. নিশ্চিৎ শারীরিক সুস্থতা লাভ : নামাজের মাধ্যমে সর্বপ্রথম যে উপকার হাসিল হয় তা হচ্ছে সর্বোত্তম ব্যায়াম, যা সুস্থ সুঠাম দেহের সহায়ক ভুমিকা লাভ করা। গভীর মনোনিবেশে দীর্ঘ সময় কিয়াম বা দাড়াঁনো, রুকু সিজদা, সিজদা হতে সোজাঁ হয়ে বসার মাধ্যমে খুশুখুশুর সহিত নিবিড়ভাবে নামাজ আদায় অতি উত্তম ব্যায়ামের অনুশিলন, করা হয় যার মাধ্যমে শরীরের ফিটনেস সুন্দর থাকে মন প্রফুল্ল থাকে যাকে আধুনিক বিজ্ঞানীরা সুস্থতার নিয়ামক শক্তি হিসাবে উল্লেখ করেছেন।
২. পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জীবন লাভের উপায় : পাচঁ ওয়াক্ত নামাজের পূর্ব শর্ত নামাজের আগে অজু গোসলের মাধ্যমে পাক সাফ হওয়া পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা হাসিল করার ফলে দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা ও নানাবিধ কাজ কর্মের ফলে হাতে মুখে যে সমস্ত  ধূলাবালি ও ময়লা লেগে যায় তা খুব সহজেই দূরীভুত হয়ে যায় অজুর মাধ্যমে। শুধু তাই নয় অজুর মাধ্যমে হাত পা চোখ ও কানের দ্বারা সংঘটিত ছোট ছোট সগিরা গুনাহ সমূহ মোচন হয়ে যায়।ফলে নামাজী ব্যক্তি বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সকল প্রকার ময়লা পাপ পংকিলতা হতে পরিচ্ছন্ন জীবন লাভ করে এর দ্বারা হাশরের মাঠে বিশেষ আলোক সজ্জা লাভ করবে যার  দ্বারা অসীম উপকার পাওয়ার সুযোগ বয়ে আনবে।
৩. টেনশান ও দুশচিন্তা মুক্ত জীবন লাভ : মানুষ নানাবিধ প্রয়োজনে হয়ত বিশেষ কিছু পাওয়ার আশায় নতুবা কোন কিছু হারানোর ফলে টেনশনে ভোগেন যা পর্যায়ক্রমে মানসিক রোগের সৃষ্টি হয়, পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথ নিয়মে আদায় করলে সকল প্রকার টেনশন ও দুশ্চিন্তা মুক্ত জীবন দান করবেন মহান আল্লাহ। যে বিষয়ে তিনি মহাগ্রন্থ আল কুরআনের একাধিক স্থানে অঙ্গীকার করেছেন।
সুরা আনফালের ২ নাম্বার আয়াতে বর্ণিত হচ্ছে যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে এবং তাঁর উপর-ই তাওয়াক্কুল করবে তাদেরকে সম্মানিত জীবিকা দেবেন জীবনের সকল ক্ষেত্রে সফলতা দান করবেন।ওরা খাঁটি মুমেন হিসাবে গণ্য হবে।
৪. জীবনের সকল ক্ষেত্রে সফলতা লাভের অনন্য উপাদান : সবাই সফলতা চায় সুন্দর জীবন চায় মনের সকল কামনা ভাসনা পূর্ণ হউক এই আশা যারা পুষণ করে তাদের জন্য নামাজ অতি উত্তম মাধ্যম। যখন কোন ঈমানদার ব্যক্তি তার কোন প্রয়োজন হাসিল করতে চায় সে যেন অজু করে ২ রাকাত সালাতুল হ’াজাত নামাজ আদায় করে যদি কোন ব্যক্তি এমন আ’মল করে আল্লাহ তা’য়ালা সাথে সাথে তার ডাকে সাড়া দিয়ে থাকেন তার সকল প্রার্থনা মন্জুর করা হয়। এরশাদ হচ্ছে মু’মেনরা সফল যারা নামাজে বিনয়ী সুরা মু’মিনুন আয়াত ১. সুরা বাকারার ৫ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে যারা পরকালে বিশ্বাস করে,নামাজ কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে তারা-ই সফলকাম।
৫. হায়াত বৃদ্ধির মাধ্যম : নামাজ ত্যাগ করলে নিয়মিত নামাজ আদায় না করলে, নামাজে অনিহা-অবহেলা করলে ধ্বংস অনিবার্য মহাগ্রন্থ আল কুরআনের সুরা মা’উনে বর্ণিত হচ্ছে “ফাওয়াইলুল্লিল মুসাল্লিন আল্লাযিনা হুম আন সলাতিহিম সাহুন” ধ্বংস তাদের জন্য যারা নামাজের ব্যাপারে উদাসীন, গাফেল বিশ্ব নবী (সা:)-এর হাদীসের সারমর্ম হচ্ছে  স্বেচ্ছায় নামাজ ত্যাগ করলে ১৫টি আজাব নাজিল হবে দুনিয়াতে ৬টি, মৃত্যুর সময় ৩টি, কবরের মধ্যে ৩টি, হাশরের মাঠে ৩টি দুনিয়াতে যে ৬টি আজাব তা হলো (ক) বেনামাজীর হায়াত কমে যাবে (খ) বেনামাজীর জীবনে বরকত হবে না (গ) বেনামাজীর চেহারায় সৌন্দর্য থাকবে না (ঘ) বেনামাজীর কোন দু’য়া কবুল হবে না (ঙ) বেনামাজীর অন্যান্য নেক আমল বরবাদ হয়ে যাবে। (চ) বেনামাজীর নিকট হতে সব ধরনের রহমতের ফেরশতা চলে যাবে এক পর্যায় ইসলাম হতে খারিজ হয়ে যাবে। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে নামাজী ব্যক্তির হায়াতে বরকত হবে যা বেনামাজীর ক্ষেত্রে হবে না।
মৃত্যুর সময় ৩টি আজাব তা হলো (ক) বেনামাজি মৃত্যুর সময় অপমানিত, লাঞ্চিত ও শিদ্দাদ অতি কষ্টের সাথে তার জান কবজ করা হবে (খ) বেনামাজী ক্ষুধার্ত অবস্থায় মরবে।(গ) বেনামাজি মৃত্যুর সময় এত বেশি পিপাসিত হবে যেন ৭ দরিয়ার পানি পান করলে ও তার পিপাসা মিটবে না।
কবরের মধ্যে ৩টি আজাব হলো (ক) বেনামাজির কবর খুবই সংকুচিত হবে এক দিকের মাঠি অন্য দিকের মাঠির সাথে মিশে চাপা দিবে। (খ)বেনামাজির কবরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলবে। (গ) বেনামাজির কবরে বিরাট বিরাট সাপ এসে ভরে যাবে এবং কামড়াতে থাকবে এবং ফেরেস্তা জোরে জোরে গুরজ মারতে থাকবে।
হাশরের মাঠে ৩টি আজাব হলো (ক) বেনামাজিকে আল্লাহ গজবের সাথে ডাকবেন এবং বিরাট সাপ তাকে খোঁজ করতে থাকবে। (খ) ত্রিশ হাজার বৎসরের পুলসিরাতের রাস্তা হিরার চেয়ে ধারাল, চুলের চেয়ে চিকন, অমাবশ্যার রাতের চেয়ে অন্ধকার হবে, (গ) বেনামাজির জন্য “ওয়াইল নামক দোজক প্রস্তুত করে রেখেছেন, ফেরেস্তারা ঐ দোজখে বেনামাজীকে ৭০ গজ জিঞ্জিরায় বেঁধে ফেলে দিবে। দুনিয়ার বেনামাজি বাদশাকে বলা হবে কেন নামাজ পড় নাই সে বলবে ব্যস্ততার জন্য সময় পাইনি
৬. সময়ের বরকত লাভ : নামাজ এমন একটি ইবাদত যার মাধ্যমে সময়ের অফুরন্ত বরকত লাভ করা যায়। হয়তবা প্রশ্ন জাগতে পারে তা কি করে সম্ভব? যিনি নামাজ আদায় করেন তার কাজ গুলো গুছানো সময় মোতাবেক করেন ,তিনি সকাল বেলা ঘুম থেকে জেগে ওঠেন অপর দিকে বেনামাজী দীর্ঘ সময় অহেতুক আড্ডা,গল্প এবং গান বাজনায় সময় কাটায় ফলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সকাল বেলা ঘুমিয়ে শেষ করে। ফলে কোন কাজেই সে বরকত পায় না যা নামাজী ব্যক্তি পেয়ে থাকেন।
৭. যোগ্য নেতৃত্ব লাভের উপায় : বর্তমান বিশ্বে মুসলিম উম্মাহ মাঝিবিহীন নৌকার ন্যায় মহা মসিবতের সাগরে ভাসছে। মুসলিম উম্মাহর সৎ যোগ্য ও সাহসী নেতৃত্ব দেওয়ার লোকের খুবই অভাব তাই বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোর লোক নেই। যোগ্য নেতৃত্বের বড়ই অভাব। কৈশোর বয়স হতে নামাজের অভ্যাস গড়ে তুললে এবং সত্যিকারের শিক্ষা দীক্ষায় গড়ে ওঠলে সে সুযোগ্য লাভ করবে।
৮. পরিবার ও সমাজের কল্যাণকামী ব্যক্তিত্ব : যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর হুকুম লংঘন করে সে প্রকৃত পক্ষে পরিবার ও সমাজের শত্রু সে যেমন নিজের কোন উপকার করতে পারে না তদ্রুপ পরিবার ও সমাজের ও কোন কল্যাণ তার দ্বারা সম্ভব না। যেমন যিনা, ব্যভিচার, মদপান, জুয়া, নেশা ইত্যাদি সবই আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজ যারা এসব অপকর্ম হতে নিজকে হেফাজত করে নামাজে বিনয়ী তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পরিবার ও সমাজের কল্যাণকামী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়।
৯. হায়াত বৃদ্বির মাধ্যম : ঈমানের পর সর্ব্বোত্তম আমল হচ্ছে নামাজ যা নিয়মিত আদায় করলে আল্লাহ তা’য়ালা বান্দার উপর খুব সন্তুষ্ট হয়ে যান আর সিজদার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা অতি সহজ। তাই আল্লাহ ত’ায়ালা বলেন “ওয়াস জুদ ওয়াকতারিব” অর্থাৎ সিজদা দাও আর আমার নিকটবর্তী হয়ে যাও।
১০. কবরে শান্তি লাভের উপায় : নামাজী ব্যক্তি কে যখন কবরে সওয়াল করা হবে হাসতে হাসতে অতি সহজেই সে জবাব দিতে সক্ষম হবে এবং নামাজী ব্যক্তির উত্তরে ফেরেস্তা খুশি হয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হবে বাসর রাতের আরামের ঘুমের ন্যায় তুমি ঘুমিয়ে থাক। এক ঘুমে কেটে যাবে হাজার হাজার বছর সিংগায় ফুৎকারের সময় সে জেগে ওঠবে মনে হবে এই মাত্র ঘুমিয়েছিল।
১১. হাশরের মাঠে বিশেষ মর্যাদা লাভের উপায় : পাচঁ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে শুধু দুনিয়ার জীবনেই সুস্থ সুন্দর ও সাবলীল হয় না বরং এর মাধ্যমে কঠিন মসিবতের দিন হাশরের মাঠ যে দিন সকল নবী রাসুলগণ ও “ইয়া নাফছী ইয়া নাফছী” বলতে বলতে পেরেশান থাকবেন। কোটি কোটি মানুষ অগণিত নারী পুরুষ যাদের মাথার মগজ টগবগ করে গলে গলে পড়তে থাকবে ,কোন পিতা তার সন্তানকে, সন্তান কোন পিতাকে মা তার মেয়েকে, মেয়ে তার মাকে, কোন পীর তার মুরিদকে কোন বন্ধু তার বন্ধুকে এক কথায় কেউ কাউকে কোন উপকার দিতে পারবে না। সেই কঠিন সময়ে দুনিয়ায় যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করে নিজেদের মনটাকে মসজিদের সাথে ঝুলন্ত রেখেছে সেদিন তাদের কে আল্লাহ তাঁর আরশের নীচে স্থান দিবেন।
১২. জান্নাতের মালিক হওয়ার সৌভাগ্য অর্জনের সুযোগ লাভ : নামাজ শুধুমাত্র দুনিয়া ও পরকালের মুক্তির বিষয় নয় বরং যথযথ পন্থায় ধিরস্থিরভাবে মহান আল্ল্হা তায়ালাকে হাজির নাজির জেনে যারা পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন কুরআনের সুরা মুমিনুনে আল্লাহ তা’য়ালা জানিয়েছেন তাদের কে আল্লাহ জান্নাতের ওয়ারিস/ উত্তরাধিকার বানিয়ে দেবেন। সুবহান্নাল্লাহ এর পরে ও কি করে কোন মুসলমান নামাজ ছেড়ে দিতে পারে।
১৩. হাশরের মাঠে চেহারায় স্পেশাল জ্যোতি /নূর লাভের সৌভাগ্য : নামাজের পূর্ব শর্ত অযু বা তহারাত অর্জন করা যা ব্যক্তির শরীর মন কে ধুলা বালি ময়লা থেকে পবিত্র করে পক্ষান্তরে হৃদয় মনে প্রফুল্লতা বয়ে আনে।এবং হাশরের মাঠে অযুতে যে পরিমাণ অংগ ভিজিয়েছে তা বিশেষ নুর চমকাতে থাকবে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে ওজুর সময় মাথা ও ঘাড়ের কিছু অংশে যে মাসেহ করা হয় এর ফলে উচ্চ প্রেসারের রোগীদের খুব উপকার বয়ে আনে  এসব হলো রাসুল
১৪. কিয়ামত পর্যন্ত নেক/বা পূণ্য লাভের সুযোগ : নামাজী ব্যক্তি শুধুমাত্র তার জীবন কাল পর্যন্ত সময়ের এবাদতের সওয়াব-ই পাবে না কারণ একজন সত্যিকারের নামাজী সে একা একা নামাজ আদায় করে না বরং সে দাওয়াতী কাজ করে তার দাওয়াতের ফলে পরমপরায় যতজন নামাজী তিলাওয়াতকারী রোজা পালনকারী হয়েছেন তাদের সওয়াবের একটি অংশ সে কবরে শুয়ে শুয়ে পাবেন।
১৫. কষ্ট বিহীন মৃত্যু : নামাজী ব্যক্তির মৃত্যু কষ্ট হবে না।একটি পিঁপড়ার কামড়ের কষ্ট যেমন খুব হালকা নামাজী ব্যক্তির মৃত্যু তার চেয়ে ও হালকা হবে। তাকে জান্নাতের নাজ নিয়ামত ও হুর গিলমানদের বিভিন্ন দৃশ্য দেখাতে দেখাতে অতি হালকা ভাবে তাদের জান কবজ করা হবে।
১৬. দু’জাহানে সফলতার মাধ্যম : নামাজ এমন এক মহাইবাদত যা আদায়ের মাধ্যমে দুনিয়া পরকাল উভয় জাহানে সফল হওয়া যায়।ভাল রেজাল্ট করা,উচু মানের চাকুরী পাওয়া গাড়ী বাড়ির মালিক হওয়া, বিশ্ব বিখ্যাত ব্যবসায়ী হওয়া ইত্যাদি বিষয় কে  চর্ম চোখে সফলতা বিবেচনা করা হয় যা কোন ভাবেই চিরস্থায়ী নয় পৃথিবীতে কত হাজার ও রাজা বাদশা এসে চলে গেলেন যাদের নাম নিশানা নেই।তাই প্রকৃত সফলতা পেতে হলে নামাজের বিকল্প নেই। পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বত্র যদি নামাজ কায়েম করা যায় তবে তা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
১৭. মহান আল্লাহ নামাজীদের সার্বক্ষণিক বন্ধু : দুনিয়ার জীবন মুমেনের জন্য পরীক্ষার হলের ন্যায় তাকে সদা সর্বদা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে চলতে হবে নতুবা আদালতে আখিরাতে সীমাহীন কষ্টের কোন অন্ত থাকবে না আর সেই কঠিন মুহুর্তে নামাজীদের কে বিশেষ মর্যদায় সমাসীন করবেন মহান আল্লাহ।
১৮. দুনিয়ায় আগত সকল নবীদের আদর্শ পালন : নামাজ কোন সাধারণ হুকুম বা বিধান নয় পৃথিবীতে যত নবী রাসুল এসেছেন তাদের সকলের নিয়মিত ও ধারাবাহিক অভ্যাস ছিল নামাজ যা পালনের মাধ্যমে আল্লাহর হুকুম পালন ও সকল নবীদের আদর্শ পালনই প্রমান করে।
১৯. জান্নাতের সকল গেইট হতে সংবর্ধনা : অযু ব্যতীত কোন ব্যক্তি নামাজ আদায় করতে পারে না আর পাচঁ ওয়াক্ত নামাজের ওযুর শেষে যে ব্যক্তি কলেমা শাহাদাত পাঠ করবে বিশ্ব নবী বলেন জান্নাতের সকল দরজা হতে তাকে শুভেচ্ছা সংবর্ধনা ও জান্নাতে প্রবেশের জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ জানানো হবে নামাজী ব্যক্তি যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।
২০. মহান আল্লাহর দিদার লাভ : নামাজী ব্যক্তির সাথে আল্লাহ নিজে উদ্যোগ নিয়ে তাদের সাথে জান্নাতে দিদার প্রদান করবেন। জান্নাতে কোন কিছুর অভাব থাকবে না নিয়ামতে ভরপুর থাকবে  নামাজের যে সমস্ত ফাজায়েল ও তাৎপর্যের কথা সংক্ষিপ্ত আকারে এই কলামের মাধ্যমে জানতে পারলাম মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর নামাজী বান্দাদের কে আরো অনেক অনেক বেশি সম্মানিত করবেন বলে কুরআন সুন্নাহ ও আসহাবে রাসুলের জীবন দর্শন থেকে জানা যায়। সম্মানিত পাঠক শ্রোতা আসুন আমরা যথাযথ পন্থায় নামাজ/সলাত আদায়ের মাধ্যমে মহান মা’বুদের সন্তুষ্টি অর্জন করে, দুনিয়া আখেরাতের সফলতা হাসিল করি।
মাওলানা মুফতী মোঃ ওমর ফারুক
লেখক : বিশিষ্ট ব্যাংকার কলামিষ্ট সাহিত্যিক ও গবেষক। ব-সধরষ ড়ভধৎড়য়১২৬৬২@মসধরষ.পড়স

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ