বুধবার ০২ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

তাওহীদ-ঈমান-আমল

মাওলানা আবুল কাসেম সিকদার : তাওহীদ অর্থ এককীকরণ, কোন জিনিসকে এক করা। একত্বে ভূষিত করা, একত্ববাদ। ইবাদত ও ইস্তেয়ানাত তথা দাসত্ব ও সাহায্য প্রার্থনা একমাত্র আল্লাহর সাথে বিশেষিত করা। তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে তাকে একক ও নিরংকুশ মর্যাদা দেয়া। যেমন তিনিই শুধু স্রষ্টা আর কেউ নন, তিনিই একমাত্র রব আর কেউ নন।
ইবাদত ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে আল্লাহর একত্ববাদ সাব্যস্ত করা অথবা বান্দার কার্যাবলীতে আল্লাহর একত্ব প্রতিষ্ঠা করা। যেমন-সালাত, সিয়াম, ভয়-আশা, ভালবাসা এসব কিছু বান্দা করবে শুধু আল্লাহর আনুগত্য ও সন্তুষ্টি কামনায়।
তাওহীদুল উলুহিয়্যার জন্য-সর্বপ্রকার ইবাদত গায়রুল্লাহকে বাদ দিয়ে শুধু আল্লাহর জন্যেই নিবেদন করতে হবে। এবং তাঁর আদেশ নিষেধের সাথে সামঞ্জস্যশীল হতে হবে।
এ তাওহীদটি মূলত: বান্দার উপর আল্লাহর হক। যা আর কারো জন্য সাব্যস্ত হতে পারে না। তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ বা রব হওয়ার ক্ষেত্রে একত্ববাদ ও তাওহীদুল উলুহিয়্যা বা ইলাহ বা মাবুদ হওয়ার ক্ষেত্রে একত্ববাদ, আর এটিই ঈমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণকারী। এটিই নবীগণও তাঁদের উম্মতদের মধ্যে যুদ্ধের মূল কারণ।
রুবুবিয়াতের তাওহীদকে প্রায় সকল কাফের জাতির স্বীকার করেছে। ইবাদতের তাওহীদকে অস্বীকার করার কারণেই তাদের জান-মালকে আল্লাহ হালাল করে দিয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে রাসূল (সা.) কে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তাওহীদুর রুবুবিয়্যার স্বীকৃত তাদেরকে ইসলামে প্রবেশ করায়নি। এজন্য কলেমায় ‘লা রব্বা ইল্লাল্লাহ’ না বলে বলা হয়েছে- ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কেননা আল্লাহর রব হওয়ার একত্ব তারা স্বীকার করত কিন্তু মাবুদ হওয়ার একত্ব তারা স্বীকার করত না।
আল্লাহর নেয়ামত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা একত্ববাদী কিন্তু আল্লাহকে ইবাদতত দেয়ার বেলায় তারা ছিল বহুত্ববাদী। বর্তমান সমাজে যখনই বলা হয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর আইন বিধানকে মেনে চলতে হবে তখনই শুরু হয় তাদের পিছু টান।
আল্লাহ ছাড়া যেমন কোন নিয়ামত দাতা নেই, তেমনি সৃষ্টিকুলের ইবাদাত, দাসত্ব, আনুগত্য পাবার যোগ্য আর কেউ নেই।
তাওহীদ বা একত্ববাদ : ‘এটাই (একত্ববাদী দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা) আল্লাহর প্রকৃতি যার উপর তিনি মানব সৃষ্টি করেছেন। (সুরা রুম : ৩০)
- ‘আকাশ মণ্ডলী ও পৃথিবীতে এমন কেউ নেই যে, দয়াময়ের নিকট উপস্থিত হবে না বান্দাহ রূপে।’ (সুরা মারইয়াম : ৯৩)
- প্রতিটি মানুষই জন্মগত ভাবে একত্ববাদী। প্রত্যেকেই তার হৃদয়ের গভীরে মহান স্রষ্টার পরিচয় ও ভালবাসা বহন করে। (বুখারী ও মুসলিম)
- নিশ্চয়ই আমানত তথা আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর পরিচয় ও তাওহীদ ও ভালবাসা মানুষের মর্ম মূলে নাযিল হয়েছে। তারপর তারা তা জানতে পেরেছে কুরআন থেকে অতপর জানতে পেরেছে সুন্নাহ থেকে। (মুসলিম- ১/৮২)
তাওহীদ দীপ্ত আকীদা বিশ্বাসই হল ঐ মহাশক্তি যা নিউক্লিয়ার পাওয়ারের চেয়েও ক্ষমতায় অনেক অনেক গুণ শক্তিশালী। এ বিশ্বাস শক্তি দিয়েই নির্মূল করা সম্ভব সকল তাগুতী শক্তি। এ বিশ্বাসই পারে বিশ্ব বিপ্লব ঘটাতে। মানুষ ও জ্বিন জাতির বিভ্রান্ত অংশটি ব্যতীত সৃষ্টিলোকে কোথাও তাওহীদ ও একত্ববাদ ছাড়া শিরক ও অংশীবাদের কোনই অস্তিত্ব নেই। সর্বত্রই চলছে এক সত্য মাবুদের আনুগত্য। ইবাদাতের বাইরের কাঠামো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর তাওহীদ রুপ পরশমনি দিয়ে বানিয়ে অন্তরে বাইরে আল্লাহর রঙে রঙিন হয়ে যাওয়াই হল মানব জীবনের মূল লক্ষ্য। অগণিত নিয়ামতের অবদানের অধিপতি আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে তাঁর আদেশ-নিষেধের অনুসরণ করাকে একাত্বতা বলা হয়। হৃদয়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চূড়ান্ত বিনয়ের সাথে প্রীতি ও ভালবাসার একত্ববাদকেই ইবাদাত বলে। যে তাওহীদ নিয়ে রাসূলগণ এসেছিলেন তা ছিল ইবাদাতের তাওহীদ। বা তাওহীদে উলুহিয়্যাহ তথা পরম প্রণয়প্রীতি, চরম আকূতি-মিনতি ও বিনয়ের তাওহীদ। এটাই হল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর তাওহীদ। আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ, মাহবুব, মাকসুদ নেই এহল তাওহীদের মর্ম কথা। আল্লাহ হল সেই মহান সত্তার মূল নাম যিনি সমস্ত মাখলুকাতের রব। সুতরাং আল্লাহ আমাদের ইলাহ, তাঁর প্রেমেই অন্তর পরিপূর্ণ থাকবে। তাঁর সন্তুষ্টি ও নৈকট্যই আমাদের লক্ষ্য।
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কবুল হওয়ার শর্তসমূহ : আল্লাহর প্রতি অবিচল-অটল বিশ্বাসের সচেতন ভাবে কয়েকটি শর্ত মেনে নেয়া আবশ্যক। তাতে ঈমানের ব্যাপারে সংশয় নিরসন হয়। ঈমানদান ব্যক্তি হয় চিন্তামুক্ত, আল্লাহর পক্ষ থেকে লাভ করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা।
ইলম বা জ্ঞান : ‘সুতরাং হে নবী! ভালো করে জেনে রাখো, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই। (সুরা মুহাম্মদ : ১৯) এর অর্থ- আল্লাহ ব্যতীত অন্য সমস্ত গায়রুল্লাহকে মাবুদ বলে অস্বীকার করা এবং একমাত্র আল্লাহকে মাবুদ বলে স্বীকার করা।’
ইয়াক্বীন বা দৃঢ় বিশ্বাস : ‘সত্যিকারের বিশ্বাসী তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের পর কোন ধরনের সন্দেহকে প্রশ্রয় দেয় না এবং জান মাল দিয়ে আল্লাহর পথে সর্বাত্মক সংগ্রাম করে। তারাই সত্য নিষ্ঠ।’ (সুরা হুজরাত : ১৫)
ক্বালবে ঈমান কবুল করা : অন্তর ও জিহ্বা দ্বারা স্বীকার করা। ‘যখনই তাদের বলার জন্যে আহ্বান করত বলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তখনই তারা অহংকারের সাথে মুখ ঘুরিয়ে নিত’। (সুরা সাফফাত : ৩৫)
আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ : ওইভাবে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে হবে ঠিক যে ভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ রব্বানা বলেন, ‘আর তোমরা তোমাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করো এবং তাঁর নিকট সম্পূর্ণ রূপে আত্মসমর্পণ করো’। (সুরা যুমার : ৫৪)
সত্যবাদীতায় উত্তীর্ণ হওয়া : আল্লাহ রব্বানা বলেন, ‘আলিফ-লাম-মীম। মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা বিশ্বাস করি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে? তাদের বিশ্বাসের পরীক্ষা নেয়া হবে না? অথচ তাদের পূর্ব সুরীদেরও পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল। কে সাচ্চা আর কে ঝুটা (কে খাঁটি আর কে মেকি) আল্লাহ অবশ্যই তা যাচাই করে নেবেন। (সুরা আনকাবুত : ১-৩)
ইখলাস (The Unity) : উহা হচ্ছে নিয়তকে বিশুদ্ধ করে সমস্ত ধরনের শিরক হতে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখে নেক আমল করা। আল্লাহ রব্বানা বলেন, ‘অথচ তাদের আদেশ দেয়া হয়েছিল শাশ্বত সত্যের। সকল মিথ্যা পরিত্যাগ করে বিশুদ্ধচিত্তে একনিষ্ঠভাবে শুধু আল্লাহর ইবাদাত করতে’। (সুরা বায়্যেনা : ৫)
কালেমা তাইয়্যেবার প্রতি সন্তুষ্টি ও ভালবাসা : আল্লাহ রব্বানা বলেন, ‘তা সত্ত্বেও কিছু মানুষ আল্লাহ ছাড়া কাল্পনিক কিছু শক্তিকে তাঁর শরীক বা সমতুল্য মনে করে। আর এই কাল্পনিক অস্তিত্বগুলোকেও আল্লাহর মতোই ভালবাসে। অবশ্য যারা সত্যিকার বিশ্বাসী, আল্লাহর প্রতি তাদের ভালবাসা অত্যন্ত সুদৃঢ়’। (সুরা বাকারা : ১৬৫)
তাগুতের প্রতি কুফরী করা : যে কেউ খাঁটি ঈমানদার হতে চাইলে তাকে তাগুতের পাক্কা কাফির হতে হবে। ‘আর যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে নিশ্চয়ই সে এমন এক মজবুত বন্ধনকে আঁকড়ে ধরল যা ছিড়বার নহে’। (সুরা বাকারা : ২৫৬)
এ আকীদা পোষণ করা যে, তাগুতের ইবাদাত বাতিল ও অন্যায় : ‘এটি এ কারণে যে, আল্লাহ হচ্ছেন চূড়ান্ত সত্য। তার পরিবর্তে তারা আর যাদেরকে ডাকে তা ডাহামিথ্যা ও বাতিল। কারণ আল্লাহ একাই সমুচ্চ, সুমহান! (সুরা হাজ্ব : ৬২)
তাগুতকে বর্জন করা : ‘আল্লাহ রব্বানা বলেন, ‘আল্লাহর ইবাদাত করা এবং তাগুত বা অপশক্তির আনুগত্য বর্জন করার আহ্বান জানানোর জন্যেই আমি যুগে যুগে প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসুল পাঠিয়েছি।’ (সুরা : নাহ্ল : ৩৬)
তাগুতের সাথে দুশমনি ও শত্রুতা পোষণ করা : আল্লাহ রব্বানা বলেন, ‘ইবরাহীম বলল, তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, যাদের ইবাদাত করে আসছ, তোমরা এবং তোমাদের পিতৃ পুরুষেরা? বিশ্বজাহানের রব ব্যতীত তারা সবাই আমার শত্রু।’ (সুরা শুয়ারা : ৭৫-৭৭)
তাগুতের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা : ‘আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করলাম। তোমাদের ও আমাদের মধ্যে সুস্পষ্ট হলো শত্রুতা ও বিদ্বেষ, চিরকালের জন্য, যতক্ষণ না তোমরা শুধুমাত্র আল্লাহর প্রতি ঈমান আন।’ (সুরা মুমতাহানা : ৪)
তাগুতকে অস্বীকার ও অমান্য করাই ঈমান বিল্লাহ-মানে আল্লাহর প্রতি ঈমানের অনিবার্য দাবি। তা না হলে ঈমান হবে অর্থহীন।
রাজা-বাদশাহ, শাসক-প্রশাসক কে ইলাহ, রব না মানা : ‘ফেরআউন বলল, হে সভাসদবৃন্দ! আমি তো নিজেকে ব্যতীত তোমাদের কোন ইলাহ আছে বলে আমি জানি না।’ (সুরা কাসাস : ৩৮)
অর্থাৎ মিশরের মন্ত্রীবর্গ ও ফেরআউনের অনুসারীরা তাকে নিজেদের ইলাহ মনে করত এবং সূর্য দেবতা (Appollo) এর দূত মনে করত। ফেরআউন বলেছিল, ‘আনা রব্বুকুমুল আ’লা’- অর্থ- আমিই হচ্ছি তোমাদের সবচেয়ে বড় রব’। পরিচালক, শাসক ও নিয়ন্ত্রক।’ (সুরা নাযিয়াত : ২৪)
নবীদের সম্মান মর্যাদায় আল্লাহর সমতুল্য ও সমান না করা। ‘যারা বলে, মরিয়ম পুত্র মসিহ-ই আল্লাহ, তারা অবশ্যই সত্য অস্বীকার কারী। হে নবী ওদের বলো যে, আল্লাহ যদি ঈসা ও তাঁর মা ও পৃথিবীর সবাইকে ধ্বংস করতে চান, তবে কার শক্তি আছে তাঁকে বাঁধা দেয়? মহাকাশ ও পৃথিবীর সব কিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আর আল্লাহ সব কিছুর ওপরই ক্ষমতাবান।’ (সুরা মায়েদা : ১৭)
‘ইহুদীরা বলে যে, উযায়র আল্লাহর পুত্র। আর ঈসায়ীরা বলে, ঈসা আল্লাহর পুত্র। (সুরা তাওবা : ৩০)
মুর্তি, প্রতিকৃতি ও সৃষ্টিকে ইলাহ না মানা : প্রতিমা, মুর্তি, ছবি, ভাস্কর্য, ফটোগ্রাফ, চিত্র, পুতুল, মঙ্গল, প্রদীপ, শিখা অনির্বান ইত্যাদি। আল্লাহ বলেন, ‘তারা এসে বলল, আমাদের ইলাহদের এরূপ অবস্থা কে করেছে? সে বড়ই জালিম।’ (সুরা আম্বিয়া : ৫৯) অর্থাৎ- আমাদের মুর্তিগুলোকে কে ভেঙ্গেছে, এখানে মুর্তিকে ইলাহ বা খোদা বলা হয়েছে।
আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য শক্তিকে ইলাহ না মানা : আল্লাহ রব্বানা বলেন, ‘এর পরও ওরা আল্লাহর পরিবর্তে অন্য ইলাহ গ্রহণ করেছে। এই আশায় যে, ওরা সাহায্য প্রাপ্ত হবে।’ (সুরা ইয়াসী : ৭৮)
ওরা আল্লাহ ছাড়া আলেম-দরবেশ, পীর-বুজুর্গ, নবী, অলী, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, আগুন, পানি, গাছ, প্রাণী প্রতিকৃতি ইত্যাদিকে আল্লাহর পরিবর্তে রব হিসেবে গ্রহণ করেছে।’ (সুরা তাওবা : ৩১)
নাফস বা প্রবৃত্তিকে ইলাহ না মানা : নাফসের দাসত্ব ও গোলামী না করে আল্লাহর দেয়া বিধান অনুসরণ করা কর্তব্য। আল্লাহ রব্বানা বলেন, যে ব্যক্তি নিজের নাফস বা কুপ্রবৃত্তির খেয়াল খুশীকে ইলাহ বানায় তার সম্পর্কে তোমার ধারণা কি? (সুরা ফুরকান : ৪৩)
‘হে নবী! তুমি কি সে ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য করেছ যে নিজের খেয়াল খুশীকে ইলাহ বা হুকুমকর্তা বানিয়ে নিয়েছে। এবং পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তায়ালা তাকে গোমরাহ করে দিয়েছেন।’ (সুরা জাসিয়া : ২৩)
আমল কবুল হওয়ার শর্ত সমূহ : ১. ঈমান: আল্লাহ পাকের উপর ঈমান আনা এবং তাওহীদ বা একত্ববাদে বিশ্বাস ‘যে ব্যক্তি ঈমানকে অস্বীকার করবে তার সমস্ত আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে।’ (সুরা মাযেদা : ৫)
- ‘যে পুরুষ ও নারী ঈমানদার অবস্থায় সৎকাজ করবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে’। যেথায় তাদেরকে জীবিকা দেয়া হবে বিনা হিসাবে।’ (সুরা মুমিন : ৪০)
২. ইখলাস বিশুদ্ধ নিয়ত : ‘নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সমগ্র জাহানের রব আল্লাহরই জন্যে।’ (সুরা আনয়াম : ১৬২)
- ‘তাদেরকে তো শুধু আদেশ করা হয়েছে একত্ববাদী হয়ে ইবাদাতকে আল্লাহর জন্য বিশুদ্ধ করে তারই ইবাদাত করার জন্যে’। (সুরা বায়্যেনাহ : ৫)
৩. সুন্নাহ’র অনুসরণ : - ‘রাসুল তোমাদেরকে যা দান করেন তা গ্রহণ কর, আর যা নিষেধ করেন তা পরিহার কর।’ (সুরা হাশর : ৭)
- ‘বল তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস তবে আমার অনুসরণ কর’। (সুরা আলে-ইমরান : ৩১)
৪. ইবাদাতে শিরক ও কুফর মিশ্রিত না হওয়া : - ‘আল্লাহ ছাড়া এমন কারো নিকট দোয়া কর না, যারা না পারে তোমার উপকার বা ক্ষতি করতে।’ আর যদি উহা কর তবে অবশ্যই তুমি জালিম তথা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে’। (সুরা ইউনুস : ১০৬)
- অতএব আপনি আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে আহ্বান করবেন না করলে কঠিন শাস্তিতে পতিত হবেন’। (সুরা শুয়ারা : ২১৩)
- ‘তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অহী করা হয়েছে যদি শিরক কর তবে তোমার আমল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’ এবং তুমি হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা যুমার : ৬৫)
লেখক : ইসলাম বিষয়ক গবেষক ও প্রাবন্ধিক, রাজাপুর, ঝালকাঠি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ