বুধবার ২৫ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

নিখোঁজের ঘটনা আবারও বাড়ছে মিলছে লাশ

নাছির উদ্দিন শোয়েব : নিখোঁজের সংখ্যা আবারো বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন একজন ফটো সাংবাদিকও। পরিবারের দাবি, নিখোঁজের পর সন্ধান চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হলেও ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় নতুন করে নিখোঁজ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। হঠাৎ এ আতঙ্ক বেশি। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
নিখোঁজ ফটো সাংবাদিক ও ‘পক্ষকাল’ ম্যাগাজিনের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলের খোঁজ মিলছে না পাঁচ দিন ধরে। এদিকে গত পাঁচ মাস ধরে নিখোঁজ কিশোর পাপ্পুকে ফিরে পেতে কাঁদছেন এক মা। ৫ লাখ টাকা মুক্তিপনের দাবিতে গাজীপুর থেকে অপহৃত মাদরাসা ছাত্র মো. মাহবুবকে (১১) অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে হাসপাতালে। অন্যদিকে  ঝিনাইদহে নিখোঁজের ১৭ দিন পর গৃহবধূ কেয়া খাতুনের লাশ মিলেছে ধান ক্ষেতে। এ ছাড়া সিলেটের বিশ্বনাথে নিখোঁজ হওয়ার ৪ দিন পর নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় যতিন্দ্র কুমার দাস (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার হলো নদী থেকে।
ফটোসাংবাদিক কাজলকে ফিরিয়ে দেয়ার ‘আকুতি’: নিখোঁজ ফটো সাংবাদিক ও ‘পক্ষকাল’ ম্যাগাজিনের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়ার আকুতি জানিয়েছে তার পরিবার। এ দাবি জানান সাংবাদিক কাজলের ক্যান্সার আক্রান্ত স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌস নয়ন ও তার ছেলে মনোরম পলক। মনোরম পলক বলেন, আমার বাবা গত ১০ মার্চ বিকাল ৩টায় বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। বাবার সঙ্গে মুজাহিদ নামে তার এক সহকর্মী ছিলেন। তাকে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে হাতিরপুল বাজারে নামিয়ে দিয়ে বাবা পরীবাগের দিকে যান। তার সঙ্গে দুইটি মোবাইলফোন ছিল। তিনি সাধারণত রাত ১০ থেকে ১১টার দিকে বাসায় ফেরেন। সেদিন রাত ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষার পরও বাসায় না ফেরায় আমরা যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু তখন দু’টি নম্বরই বন্ধ পাই। পলক বলেন, ‘আমাদের জানা মতে, বাবাকে কেউ কখনো হুমকি দেয়নি বা তিনি স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হননি। কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ নেই। তবে কিছু একটা তো হয়েছে। আমার অসুস্থ মায়ের কথা চিন্তা করে, আমাদের কথা চিন্তা করে তাকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি। স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌস নয়ন বলেন, প্রযুক্তির যুগে তাকে খুঁজে বের করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কোনো বিষয় নয়। স্বামীকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা করছি। এ ঘটনায় ১১ মার্চ বিকালে চকবাজার থানায় জিডি করেন মনোরম পলক।
কিশোর পাপ্পুকে ফিরে পেতে কাঁদছেন মা : রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গত অক্টোবরে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কুতুব উদ্দিন পাপ্পু (১৪) অপহৃত হওয়ার পর তদন্ত চালিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানায়, পাপ্পুকে হত্যা করে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় রাজু নামে যে আসামী গ্রেফতার হয়েছিল, সে-ও আদালতে দেয়া জবানবন্দীতে একই দাবি করে। কিন্তু ডিবি ও রাজুর দেয়া এ তথ্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অপহরণের পর পাপ্পুর চোখ বাঁধা অবস্থায় তোলা একটি ছবিকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে এই ধোঁয়াশা। ওই ছবিটি ইমোর মাধ্যমে পাপ্পুর স্বজনদের পাঠিয়েছিল অপহরণকারীরা।
ঘটনার তদন্ত শেষে ডিবি জানায়, পাপ্পুকে গত ৪ অক্টোবর হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পাপ্পুর জীবিত অবস্থায় চোখ বাঁধা যে ছবি অপহরণকারী পাঠিয়েছে, সেটি তোলা হয় ৬ অক্টোবর। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবি আই) ফরেনসিক পরীক্ষায় ছবি তোলার সময় নিয়ে ভিন্ন তথ্য মেলায় এখন রাজু ও ডিবির তথ্য বিশ্বাস করতে চাইছেন না পাপ্পুর স্বজনরা। পাপ্পুর বেদনাহত মা রুনা পারভীন রুনু এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তাও কামনা করেছেন। গতকাল শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন রুনা পারভীন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বজনরা।
পাপ্পুর ভাই রাকিব উদ্দিন সিজার বলেন, পাপ্পু জীবিত নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা আমরা এখনো নিশ্চিত নই। কারণ আসামীর সব কথা সত্য প্রমাণিত নয়। তাছাড়া পাপ্পু হত্যার শিকার হলেও মরদেহ আমরা পাইনি। হত্যার আলামতও মেলেনি। রুনা পারভীন বলেন, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় বাজারের ৩০১নং বাসা থেকে ৩ অক্টোবর বিকালে বেরিয়ে আর ফেরেনি পাপ্পু। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। মহল্লায়, এলাকায় এবং পরিচিত স্বজনদের বাসাবাড়িতে খোঁজ করেও সন্ধান মেলেনি।
‘এ অবস্থায় ৪ অক্টোবর সকালে ছেলে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। পরদিন ৫ অক্টোবর ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে পাপ্পুর নিখোঁজের বিষয়টি জানানো হয়। ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার পর অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি ‘ইমো’তে এসএমএসে জানায় যে, ‘পাপ্পু তার কাছে আছে এবং হেফাজতে আছে। ওকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করে রাখা হয়েছে।’ দুই কোটি টাকা দিলে পাপ্পুকে ছেড়ে দেয়া হবে বলেও জানায় অপহরণকারী। এত টাকা হঠাৎ করে কোথায় পাবো, এমনটি বললে পাপ্পুর নামে থাকা একটি বাড়ি বিক্রি করে দিতে বলে অপহরণকারী (পাপ্পুর নামে একটি পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে)। এ ছাড়া আইনের আশ্রয় নিলে পাপ্পুকে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেয়।’
পাপ্পুর মা বলেন, ৬ অক্টোবর সকালে অজ্ঞাত অপহরণকারী পাপ্পুর চোখবাঁধা অবস্থায় তোলা একটি ছবি পাঠায়। ওই ছবির বিষয়টি যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলামকে জানানো হলে তিনি যথাযথ কোনো পদক্ষেপ নেননি। ৭ অক্টোবর অপহরণকারী পাপ্পুর অসুস্থতার কথা বলে ইমোতে যোগাযোগ করে ৫০ হাজার টাকা বিকাশে নেয়। ৭ অক্টোবর বিকেলে ইমোতে এসএমএস করে অপহরণকারী জানায় যে, ‘৮ তারিখে আমার এক লোক ঢাকার বাইরে পাঠাব। তোমাদের সেই জায়গা এবং সময় জানিয়ে দেয়া হবে। তোমরা নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে দুই কোটি টাকা রেখে আসবে। ৮ অক্টোবর টাকা না দিলে পাপ্পুকে মেরে ফেলা হবে।’ এর মধ্যে ৮ অক্টোবর পরিচিত এক সাংবাদিক ফোন করলে এ বিষয়ে মামলা নেয় থানা পুলিশ।
রুনা পারভীন বলেন, ৮ অক্টোবর মামলার কাগজপত্র নিয়ে আমার ভাসুরের ছেলে (পাপ্পুর চাচাতো ভাই) আমাদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কার্যালয়ে যায়। সেখানে গিয়ে ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মীর মোদাসসের হোসেনকে বিষয়টি জানানো হয়। তখন ডিবি অপহরণকারীর মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে অপহরণের সঙ্গে রাজু জড়িত বলে জানতে পারে এবং গাজীপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পরে রাজুর বাসা থেকে আমার ছেলে পাপ্পুর মোবাইল ফোন এবং তার পরনের জুতা ও বেল্ট উদ্ধার করে ডিবি। রাজু আমাদের বাসার কাছের ভাড়াটিয়া। ৯ অক্টোবর ডিসি মোদাসসের জানান, ‘পাপ্পু ও রাজু মদ পান করার পর পাপ্পু মারা যায়। পরে পাপ্পুকে বস্তার ভেতরে ঢুকিয়ে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে একটি ডোবায় ফেলে দেয় রাজু। জবানবন্দীতে একই তথ্য দেয় রাজুও। যদিও পরে মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় তথা নদী ও ডোবায় খোঁজ করেও পাপ্পুর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ডুবুরি ও স্থানীয় জেলেদের জাল দিয়ে নদীতে তল্লাশি চালিয়েও পাপ্পুর কোনো সন্ধান মেলেনি।
পাপ্পুর মামী রওশন আরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গ্রেফতার রাজুর মোবাইল ও ৬ তারিখে পাপ্পুর চোখবাঁধা অবস্থায় তোলা ছবি ডিবি পুলিশকে অনুরোধ করেও ফরেনসিক পরীক্ষা করাতে পারিনি। ঘটনার দেড় মাস পর মামলাটি পিবি আইতে যায়। পিবি আই পাপ্পুর ও রাজুর মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষা করে জানায়, পাপ্পুর চোখ বাঁধা অবস্থার ছবিটি অপহরণকারী রাজুর মোবাইল ফোনে ৬ অক্টোবর তোলা। পিবি আই’র ফরেনসিক রিপোর্টের তথ্য মতে এটি স্পষ্ট যে, রাজুর ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দী মিথ্যা। সে যে ৪ অক্টোবর পাপ্পুকে হত্যার কথা বলেছে, সেটা-ও মিথ্যা। পাপ্পুর মা বলেন, আমাদের দাবি হলো যে- রাজুর পক্ষে একাকি এই অপহরণ ও খুন করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত আছে। এমনকি গত বছরের ৩ অক্টোবর আমার ছেলেকে অপহরণ করা হলেও এখন পর্যন্ত সে জীবিত না মৃত অবস্থায় আছে সেটি পর্যন্ত পুলিশ খুঁজে বের করতে পারেনি। এ বিষয়ে আমি একজন বেদনাহত মা হিসাবে ছেলেকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আবেদন জানাই।
এ ব্যাপারে ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবি আই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক লুৎফর রহমান একটি গণমাধ্যমকে জানান, দুই দফায় রিমান্ডে নেয়ার পর রাজু ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দীতে পাপ্পুকে হত্যার পর মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে নদীতে ফেলে দেয়ার কথাই বলেছে। এই কাজে সহযোগিতা করা ৬ জনকে আটকের পর তারাও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে একই তথ্য জানিয়েছে। তিনি বলেন, পাপ্পুর সাথে রাজুর বয়সের ব্যবধান অনেক। ঠিক কী কারণে পাপ্পুকে অপহরণ কিংবা অপহরণের পর হত্যা করেছে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। এই কাজে রাজুর পেছনে আরও অনেকে জড়িত। এর মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদে রাজুর সাথে নাদিম নামে একজন জড়িত বলে আমরা জানতে পেরেছি, সে ইতোমধ্যে সিলেট হয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে।
অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রের খোঁজ মিলেছে হাসপাতালে: গাজীপুরে রাস্তা থেকে উদ্ধার মাথায় আঘাত পাওয়া শিশুটির পরিচয় মিলেছে। এগারো বছর বয়সী মো. মাহবুব ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার বেমগাদিয়ার সাইদুল ইসলামের ছেলে। শুক্রবার বিকালে তার চাচা মতিউর রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন। ছেলেটি এখনও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আছেন ঢাকা মেডিকেলে। তাকে অপহরণ করে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে শুক্রবার র‌্যাব দুইজনকে আটক করেছে।
আটকদের একজন হলেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার আজমতপুর গ্রামের সোবাহান খানের ছেলে মো. জামান (৪৯)। আরেকজন হলেন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। মাহবুবের চাচা মতিউর সাংবাদিকদের বলেন, গত শনিবার মাহবুবকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা মোবাইর ফোনে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল তার বাবার কাছে। কিন্তু অপহরণের পর তার অবস্থান কোথায় তা জানা যায়নি। শুক্রবার পত্রিকায় খবর দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তিনি ভাতিজাকে শনাক্ত করেন বলে জানান। মতিউরের ধারণা, অপহরণকারীরা মুক্তিপণ না পেয়ে মাহবুবকে মারধর করেছে। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে মৃত ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে।
র‌্যাব-১৪-এ সহকারী পরিচালক জুনায়েদ আফরাত জানান, মোবাইল ফোনের কল ট্র্যাকিং করে শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার এএসআই মো. আবুল কামাল বলেন, গত রোববার সকালে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার আজমতপুর এলাকার মহাসড়কের পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রাজধানীতে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরদিন সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউরোসার্জারি ইউনিটে।
নিখোঁজের ১৭ দিন পর গৃহবধূর লাশ উদ্ধার: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় কেয়া খাতুন নামের এক গৃহবধূর অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ১৭ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে কালীগঞ্জের দাদপুর গ্রামের একটি কলাবাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। কেয়া খাতুন কালীগঞ্জের ত্রিলোচনপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের মেয়ে ও পার্শ্ববর্তী নরেন্দ্রপুর গ্রামের সাবজেল হোসেনর স্ত্রী। তিনি বালিয়াডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল বাশার জানিয়েছেন, দুপুরে দাদপুর গ্রামে কলাবাগানে অর্ধগলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন এলাকাবাসী। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নিখোঁজের ৪ দিন পর মিলল বৃদ্ধের লাশ: সিলেটের বিশ্বনাথে নিখোঁজ হওয়ার ৪ দিন পর নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় যতিন্দ্র কুমার দাস (৫৫) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের টেংরা (দাসপাড়া) গ্রামের মৃত হরেন্দ্র কুমার দাসের পুত্র। বৃহস্পতিবার দুপুরে টেংরা গ্রামের পার্শ্ববর্তী বাসিয়া নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের স্বজনরা জানান, গত রবিবার দিবাগত রাত ১১টায় যতিন্দ্র কুমার দাস গ্রামের পার্শ্ববর্তী নদীর পাড়ে যাবার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। নিখোঁজের ৪ দিন পর বৃহম্পতিবার সকাল ১০টায় স্থানীয় লোকজন টেংরা গ্রামের পার্শ্ববর্তী বাসিয়া নদীর পাড়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থা যতিন্দ্র কুমার দাসের লাশ দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর দুপুরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। ধারণা করা হচ্ছে, দুস্কৃতকারীরা যতিন্দ্র কুমার দাসের হাত-পা বেঁধে শ্বাসরুদ্ধ করে তাকে হত্যা করে এবং হত্যার পর গলা ও পা'র সাথে মাটির বস্তা বেঁধে নদীর পানিতে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছিল। লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্বনাথ থানার ওসি শামীম মুসা বলেন, যতিন্দ্র কুমারকে হত্যা করা হয়েছে, এটা প্রায় নিশ্চিত। আমরা ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করেছি। তদন্তসাপেক্ষে আইনু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাড়ে ৫ মাস ধরে নিখোঁজ কলেজছাত্র: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মো. জাহিদ হাসান (১৮) নামের এক কলেজছাত্র সাড়ে পাঁচ মাস ধরে নিখোঁজ আছেন। চাকরির জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি তিনি। এদিকে ছুটিতে বেড়াতে আসা বাবা ছেলের শোকে অসুস্থ হয়ে আর বিদেশ যেতে পারেননি। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও পুলিশ তাঁকে খুঁজে বের করতে পারেনি।
জাহিদ হাসান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের মিরতলা গ্রামের প্রবাসী মো. জাহাঙ্গীর আলম খানের ছেলে। তিনি ২০১৮ সালে এসএসসি পাস করে কসবা টি আলী কলেজে ভর্তি হন। নিখোঁজের সময় তিনি দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন। জাহিদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম খান সৌদি আরবে চাকরি করতেন। ছয় মাসের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। ছেলে জাহিদ হাসান ঢাকার ডিসেন্ট ফোর্স সার্ভিস লিমিটেড নামের একটি কোম্পানিতে সুপারভাইজার পদে চাকরি পেয়েছেন বলে পরিবারকে জানান। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চাকরিতে যোগদানের জন্য বাড়ি থেকে সকাল সাতটায় বের হয়ে যান। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর কসবা থানায় একটি জিডি করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ