মঙ্গলবার ২৪ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

ইতালিতে থেকে দেশে ফেরা ১৪২ যাত্রী আশকোনা হজ ক্যাম্পে

স্টাফ রিপোর্টার : ইতালিতে নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সেখান থেকে দেশে ফেরা ১৪২ যাত্রীকে আশকোনা হজ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবতরণ করেন তারা। এদিন সকাল ৮টায় এই ব্যক্তিরা রোম থেকে দুবাই হয়ে ঢাকায় আসেন বলে জানিয়েছেন শাহজালাল বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. শাহারিয়ার সাজ্জাদ। তিনি বলেন, ‘ইতালি ফেরতদের আশকোনা হজক্যাম্পে রাখার প্রস্তুতি চলছে।’
বিমানবন্দরে নামার পর পুলিশ পাহারায় বি আরটিসির কয়েকটি বাসে এই ব্যক্তিদের আশকোনা হজ ক্যাম্পে নেওয়া হয়। সম্ভাব্য ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এই ব্যক্তিদের সেখানে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে বিমানটিতে কতজন এসেছেন- জানতে চাইলে সংখ্যাটি নিশ্চিত করে বরতে পারেননি ডা. শাহরিয়ার।
তিনি বলেন, অ্যাডজেক্ট ফিগারটা এখনো বলতে পারছি না। সাড়ে ৫টায় দুবাই থেকে যখন ফ্লাইট ডিপার্চার করে, তখন আমাদের জানানো হয়েছিল ১২৫ জন পূর্ণ বয়স্ক এবং দেড় বছরের একটি শিশু। পরে আমরা হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখি মেলে না। সংখ্যাটি বেশি হতে পারে। এখন আমরা নিয়ে এসেছি, দেখতে হবে কত এসেছেন।
জানা যায়, ইতালি থেকে ফেরতদের ক্যাম্পের বাইরে রেখে ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর যখন তাদের বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা আসে তা শুনে ক্ষুব্ধ হন তারা। এ সময় হজ ক্যাম্পের প্রধান গেটে এসে বিক্ষোভ ও গেটে ধাক্কাধাক্কি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন এবং প্রশাসনের অবহেলার বিরুদ্ধে স্লোাগান দেন তারা।
একজন বলেন, ইতালিতে একবার টেস্ট করে এসেছি। শাহজালাল বিমানবন্দরে আমাদের মধ্যে কোনো উপসর্গ ছিল না। এরপরেও কেন আমাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হলো এটা বুঝতে পারছি না। এছাড়া ক্যাম্পের ভেতরের পরিস্থিতি থাকার মতো নয়। এ সময় ১০ মিনিট বিক্ষোভের পর পুলিশ তাদের ভেতরে সরিয়ে নেয়। ইতালিফেরত ১৪২ প্রবাসী শনিবার বাড়ি ফিরতে পারছেন না। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর আগে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য আশকোনা হজ ক্যাম্পে আপাতত তাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বৃহত্তর স্বার্থে এ নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে চীনের উহান থেকে আসা বাংলাদেশিদের হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। কারও মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ না পেয়ে ১৪ দিন পর তাদের বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়। আড়াই মাস আগে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরেই প্রথম নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছিল। চীনে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটানোর পর এখন ইউরোপের দেশ ইতালিতে এই ভাইরাস সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
বাংলাদেশে যে ৩ জনের দেহে নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তাদের দুজনই এসেছেন ইতালি থেকে। ইতালি থেকে আসা আরও অনেককে ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ রাখার মধ্যে একসঙ্গে শতাধিক ব্যক্তিকে নিয়ে শনিবার এলো এমিরেটসের ফ্লাইটটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ