বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

করোনা বিপর্যয়ে বোধোদয় ঘটবে কী

মানুষ স্রষ্টার প্রিয় সৃষ্টি। এই মানুষ আবার বনিআদম। মানুষের সমাজে ঘটে যায় নানা ঘটনা। কোনোটা সুখের, আবার কোনোটা দুঃখের। ঘটনার নানা ব্যাখ্যা হয়, হয় বিশ্লেষণ। সবাই কিন্তু এক রকম ভাবে না। ভাবনায় মতপার্থক্য থাকে, থাকে মতবৈচিত্র্য। যারা মানুষকে ভালোবাসেন, যাঁরা উদার ও মানবিক- তাঁরা মতপার্থক্যে অসহিষ্ণু বা উগ্র না হয়ে বরং বৈচিত্র্যের ঐক্য গড়তে চান। বর্তমান সময়ে পৃথিবীতে বোধোদয় সবচাইতে বেশি আলোচনার বিষয় করোনা ভাইরাস। করোনা ভাইরাস নিয়ে কী সবার ভাবনা এক রকম। কেউ চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গেতে ভাবছেন, কেউ অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ভাবছেন, কেউবা ভাবছেন দার্শনিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে। দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য থাকলেও এইসব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নেয়ার মতো বহু বিষয় আছে। আমরা মনে করি, জীবনঘনিষ্ট বিষয়াবলী সম্পর্কে না ভাবার চাইতে বরং ভাবা অনেক ভালো। তবে সব ভাবনাই যে সঠিক হবে তেমন কোনো গ্যারান্টি নেই। কিন্তু মানবজাতির জন্য কল্যাণকর ও সঠিক ভাবনাটি এইসব ভাবনা থেকেই উঠে আসে। তাই আমাদের আন্তরিকভাবে সক্রিয় থাকতে হবে ভাবনায়।
ভাবতে গেলে উপলব্ধি করা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা বিশ^। দেশে দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, বন্ধ কলকারখানা। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন দেশের পদক্ষেপের কারণে সৃষ্টি হয়েছে এই বিশেষ পরিস্থিতি। এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ^ব্যাপী বড় বড় খেলাধুলার আয়োজনও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক সম্মেলন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্স বন্ধ করে দিয়েছে তাদের ফ্লাইট। ফলে দেশে জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতেও নেমে এসেছে আশ্চর্যরকমের এক নীরবতা। করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ^ব্যাপী শিল্পোৎপাদন যেমন ব্যাহত হচ্ছে তেমনি আঘাত লেগেছে বিনোদন জগতেও। বিবিসি জানিয়েছে, খ্যাতনামা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডিজনি তাদের চলচ্চিত্র মুলান-এর মুক্তি পিছিয়েছে। এ ছাড়া ফার্স্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস-৯ এবং জেমস বন্ড সিরিজের নো টাইম টু ডাই-এর মুক্তি পিছিয়েছে। অনেক দেশে বড় বড় কনসার্ট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্ধ হয়ে গেছে অনেক টিভি শোর শুটিং। এমন অভিজ্ঞতা এর আগে পৃথিবীর হয়নি। ছোট-বড় সবাই এখন করোনা নিয়ে ভাবছে। করোনা কিন্তু ধনী-গরিব কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না। পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ সর্বত্রই করোনার বিচরণ। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডটন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো দম্পতি, স্পেনের রানী, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট, ব্রিটেনের মন্ত্রীসহ আরো বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। এমন কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর রটেছে। করোনা কাউকেই তোয়াক্কা করতে চাইছে না। ছোট্ট এই ভাইরাসটির এত প্রতাপ। সবাই তাকে ভয় করছে? পৃথিবীকে প্রায় অচল ও স্থবির করে দিয়েছে এই ভাইরাস! এই ভাইরাসকে দমন করার মতো কোনো ওষুধও এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি মানুষ। ফলে প্রশ্ন জেগেছে কে বড়, করোনা না মানুষ? এমন প্রশ্নে মানুষ ভাবছে। আমরা মনে করি, অবশ্যই মানুষ বড়। কিছুদিন পরই হয়তো মানুষ করোনা দমনের ওষুধ আবিষ্কার করো ফেলবে। তবে মানুষ এখন অবশ্যই এক বিপর্যয়ের মধ্যে আছে। মানব ইতিহাসে বিভিন্ন ধরনের বিপর্যয়ের ঘটনা আমরা জানি। বিপর্যয় নতুন কোনো বিষয় নয়। স্রষ্টার বিধান লংঘন করে মানুষ যখন অন্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন, প্রতারণা, অশ্লীলতা ও বিকৃতির আচরণে মত্ত হয়ে ওঠে- তখন অহঙ্কারী ও বেপরোয়া সভ্যতার নায়কদের মধ্যে বোধোদয় ঘটানোর জন্য পৃথিবীতে নেমে আসে বিপর্যয়। এ বিপর্যয় আসলে মানুষের অর্জন। এখন দেখার বিষয় হলো, করোনা বিপর্যয় থেকে মানুষ কোনো শিক্ষা গ্রহণ করে কি-না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ