মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতায় এবার জ্বালানি ও টেলিযোগাযোগ খাত

স্টাফ রিপোর্টার : নানা অনিয়মে জড়িয়ে অনেক আগেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারিয়েছে ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে দিনের পর দিন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ার দাম অবমূল্যায়িত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
ব্যাংকের সঙ্গে গত সপ্তাহে শেয়ার মূল্য অবমূল্যায়িতের তালিকায় নাম লিখিয়েছে টেলিযোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়। এ দরপতনে টেলিযোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমে এ অবস্থায় চলে এসেছে।
তালিকাভুক্তি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকি নির্ণয় করা হয় মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) দিয়ে। যে কোম্পানির পিই যত কম ওই কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ঝুঁকি তত কম। সাধারণত ১০-১৫ পিই থাকা কোম্পানির শেয়ারের বিনিয়োগ করা ঝুঁকি মুক্ত ধরা হয়। আর ১০ নিচে পিই থাকলে ওই কোম্পানির শেয়ার দাম অবমূল্যায়িত ধরা হয়।
তথ্য পর্যালোচনা দেখা যায়, গত সপ্তাহে বড় দরপতনের ফলে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১২-এর নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে ডিএসইর সার্বিক পিই অবস্থান করছে ১১ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে।
সার্বিক বাজারের যখন এই চিত্র তখন ব্যাংক খাতের পিই রয়েছে ৬ দশমিক ৪ পয়েন্টে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট। দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংক খাতের পিই ১০ এর নিচে রয়েছে।
গত সপ্তাহে নতুন করে ১০ এর নিচে পিইর তালিকায় নাম লিখিয়েছে টেলিযোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পিই অবস্থান করছে ৯ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১০ দশমিক ৫০ পয়েন্টে। আর টেলিযোগাযোগের পিই ১০ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট থেকে কমে ৯ দশমিক ৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহের বড় দরপতনের কারণে সবকটি খাতের পিই কমে গেছে। পিই ১৫-এর নিচে থাকা খাতগুলোর মধ্যে সেবা ও আবাসনের ১২ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট থেকে কমে ১১ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বীমার ১২ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্ট থেকে কমে ১১ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। পিই ১৫- এর ওপরে থাকা খাতগুলোর মধ্যে ওষুধ ও রসায়নের ১৫ দশকি ৬৩ পয়েন্টে, প্রকৌশলের ১৫ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে, বস্ত্রের ১৫ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে, খাদ্যের ১৭ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে, তথ্য প্রযুক্তির ১৮ দশমিক ৫০ পয়েন্টে, চামড়ার ১৯ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে, বিবিধের ২২ দশমকি ৩২ পয়েন্টে এবং সিরামিকের ২৩ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আর পিই সব থেকে বেশি থাকা খাতগুলোর মধ্যে- ভ্রমণ ও অবকাশের ৩২ দশমিক ১৫ পয়েন্টে, পাটের ৩৬ দশমিক ১৯ পয়েন্টে, সিমেন্টে ৩৩ পয়েন্টে, কাগজের ৪৪ দশমিক ২৮ পয়েন্টে এবং আর্থিক খাতের ৪৬ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ