শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

এবার দিল্লী বিধানসভায় এনপিআর এনআরসি বিরোধী প্রস্তাব পাস

 ১৪ মার্চ, পার্সটুডে : ভারতের দিল্লী বিধানসভায় জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনপিআর) এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জি’র (এনআরসি) বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস হয়েছে। গত শুক্রবার ওই প্রস্তাব পাস হয় 

দিল্লির আগে এনপিআর-এনআরসি’র বিরুদ্ধে বিহার, কেরালা, কর্ণাটক এবং মধ্য প্রদেশ বিধানসভায় এই প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। শুক্রবার দিল্লী বিধানসভায় এনপিআর এবং এনআরসি নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিধানসভায় ওই ইস্যুতে আলোচনার সময়, ‘এনপিআর’, ‘এনআরসি’ ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ‘সিএএ’ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘বিজেপি বলছে যে সিএএ, এনপিআর এবং এনআরসি আলাদা। কিন্তু অসমে যা হয়েছে তা নিয়ে গোটা দেশ উদ্বেগ রয়েছে।’

এরআগে অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা ‘এনআরসি’তে ১৯ লাখ লোকের নাম বাদ যাওয়ায় গোটা দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছে।

কেজরিওয়াল বলেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ করোনাভাইরাস সম্পর্কে হওয়া উচিত। দিন দিন বেকারত্ব বাড়ছে। সমস্ত সরকারকে একসাথে অর্থনীতি এবং বেকারত্বের দিকে মনোনিবেশ করা দরকার। কিন্তু এ সময়ে ‘সিএএ’ এবং ‘এনপিআর’ আনা হচ্ছে।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘২০১৯ সালের ২০ জুন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বলেছিলেন যে আমার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে- এনআরসি কার্যকর করবে। ১০ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে বলেছিলেন যে, দেশে এনআরসি হবেই। এখন বলছেন ‘সিএএ’ আলাদা,  ‘এনপিআর’ আলাদা এবং ‘এনআরসি’ আলাদা। কিন্তু অসমে যা হয়েছে তা নিয়ে গোটা দেশ উদ্বেগ রয়েছে। আসলে এনপিআরের ভিত্তিতে এনআরসি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জন্ম প্রমাণপত্র নেই, আমার স্ত্রীর কাছেও তা নেই, আমার বাবা-মায়েরও নেই। সন্তানদের আছে। যদি ৬ জনের মধ্যে ৪ জনের কাছে এটি না থাকে, তবে কী দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পুরো পরিবারকে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হবে? গোটা দিল্লির মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্ম প্রমাণপত্র নেই। তাহলে কী গোটা মন্ত্রিসভাকে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হবে?’

এরপরে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিধানসভায় উপস্থিত সদস্যদের জিজ্ঞেস করেন, তাদের কোনও জন্ম শংসাপত্র রয়েছে কিনা। যাদের কাছে এই শংসাপত্র রয়েছে কেজরিওয়াল তাদের হাত তুলতে বলেন। এসময়ে কেবলমাত্র ৯ জন তাদের হাত তোলেন। কেজরিওয়াল বলেন, ৭০ সদস্যের বিধানসভায় ৬১ জনের জন্ম শংসাপত্র নেই। কেবল ৯ জনের শংসাপত্র আছে।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, যাদের কাছে নথিপত্র নেই তাদের মধ্যে কতজন আছে যে হলফনামা দেবেন তাঁরা পাকিস্তানি। আমরা মরে যাব,  শেষ হয়ে যাব কিন্তু আমরা দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। বিজেপি বলছে যে, বলো পাকিস্তানি, তাহলেই তারা নাগরিকত্ব দেবে। সেজন্য বলুন যে, সারাজীবন ডিটেনশন সেন্টারে কাটাবো কিন্তু দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। দেশের কোনও নাগরিক ভারতের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না।

মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘এনপিআর এবং এনআরসি’র ভিত্তিতে জনসাধারণকে তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বলা হবে। এটি প্রমাণ করার জন্য ৯০ শতাংশ লোকের কাছে সরকারি জন্ম সনদ নেই। তাহলে কী সবাইকে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হবে? সবার মধ্যে এই ভয় রয়েছে।’ তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে এনপিআর ও এনআরসি বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ