শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

ইরাকে যে কারণে দিনের বেলায় মার্কিন ঘাঁটিতে রকেট হামলা

১৪ মার্চ, রয়টার্স, এএফপি : ইরাকে মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় মার্কিন জোটের নজরদারি সক্ষমতা বিকল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেন, এতে দিনের বেলায়ও হামলাকারীরা রকেট নিক্ষেপ করতে সক্ষম হচ্ছে। তাদের আর রাতের অন্ধকারের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না।

উত্তর বাগদাদের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে রকেট হামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার দিনের বেলার বিরল এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরাকি ও মার্কিন সামরিক সূত্র এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থার খবরে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত অক্টোবর থেকে মার্কিন ঘাঁটি নিশানা করে এটা ২৩তম হামলা। তাজি ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা, কূটনৈতিকরা অবস্থান করছেন।

তিন দিন আগে এক হামলায় দুই মার্কিন ও এক ব্রিটিশ সেনা নিহত হওয়ার পর নতুন করে আবার কাতিউশা রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।

এক ইরাকি কর্নেল বার্তা সংস্থাকে বলেন, ওই ঘাঁটিতে ১০টি রকেট আঘাত হেনেছে। তিনি সাইরেন বলে জানান।

বাগদাদের যৌথ অভিযান কমান্ড বলছে, তাদের দুই নিরাপত্তা কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। তবে ইরান-সংশ্লিষ্ট হাশেদ আল-শাবি আধাসামরিক বাহিনীকে দায়ী করা হচ্ছে।

এর আগে ইরাকের ইরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। রকেট হামলায় দুই মার্কিন ও এক ব্রিটিশ সেনা মারা যাওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরাকজুড়ে কাতায়েব হিজবুল্লাহর অন্তত পাঁচটি অস্ত্র স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব অস্ত্র ভা-ারসহ বিভিন্ন স্থাপনাÑ যেগুলোতে অস্ত্র মজুত রয়েছেÍ সেগুলোকে মার্কিন জোটের হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। হামলা হবে আত্মরক্ষামূলক, সমানুপাতিক ও ইরান-সমর্থিত শিয়া যোদ্ধারা যেসব হিসেবে দেখা দিয়েছে, তার সরাসরি জবাব দেয়া হবে। আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হয়ে ইরাকের বিভিন্ন ঘাঁটিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট সেনারা অবস্থান করছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মাইক এসপার বলেছেন, আমাদের জনবল, স্বার্থ ও মিত্রদের ওপর হামলা সহ্য করবে না যুক্তরাষ্ট্র। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমরা খুবই পরিষ্কার করে দিয়েছি, ইরাক ও এ অঞ্চলে আমাদের বাহিনীকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমরা যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারি।

তিনি হুশিয়ার করে বলেছেন, রকেট হামলার পর সব বিকল্প যুক্তরাষ্ট্রের টেবিলে রয়েছে।

এর আগে হুশিয়ার করে এসপার জানিয়েছেন, দফায় দফায় ১৮টি রকেট হামলায় আমাদের তিন সেনা নিহত হওয়ার জবাব দিতে সব ধরনের বিকল্প টেবিলে রয়েছে।

বুধবার তাজি বিমান ঘাঁটিতে এই হামলা হয়েছে। ঘাঁটিতে বসবাসকারী মার্কিন বাহিনী ও অন্যান্য দেশের সেনারা ইনহেরান্ট রিজলভ অভিযানে অংশ নেয়। ইরানভিত্তিক ইরাকি শিয়া মিলিশিয়ারা এর আগেও তাদের রকেট হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

বুধবারের হামলায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে আমেরিকান, ব্রিটিশ ও পোলিস রয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তাকে বলেন, বৃহস্পতিবারের অভিযানে রসদ কেন্দ্র ও ড্রোন ভান্ডার ইউনিটসকে নিশানা করা হয়েছিল। মধ্যরাতের ওই হামলায় বিভিন্ন ধরনের বিমান ব্যবহার করা হয়েছে। এটা ছিল সুনির্দিষ্ট মার্কিন অভিযান। এতে জোট বাহিনী অংশ নেয়নি।

ইরাকি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, দক্ষিণ বাগদাদের জুরফ আল-সখর এলাকায় পাঁচটি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। কাতায়েব হিজবুল্লাহ ওই এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ করছে।

বিস্ফোরণে আশপাশের বাড়িঘর ও ইরাকের সামরিক স্থাপনাগুলো কেঁপে ওঠে। সেখানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই হামলার পর মার্কিন বাহিনী ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে রকেটের আঘাতে এক মার্কিন ঠিকাদারের মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি প্রতিশোধ দুই পক্ষকে যুদ্ধের কাছাকাছি নিয়ে যায়। দুদিন পর মার্কিন বোমায় ২৫ কাতায়েব হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হন।

পরবর্তীতে তারা বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে ঢুকে সেখানে ভাংচুর চালায়। এতে হালকা ক্ষয়ক্ষতি হলেও তা ট্রাম্প প্রশাসনকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।

৩ জানুয়ারি মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরাকের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও হাশেদের উপপ্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিস নিহত হন।

ইরানও পাল্টা জবাব দিয়ে ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে কেউ নিহত না হলেও কয়েক ডজন মার্কিন সেনা মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন।

ইরাকজুড়ে আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে পাঁচ হাজার ২০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ