মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

শেয়ারবাজার বিনিয়োগে তহবিল গঠন করেছে ৩ ব্যাংক

স্টাফ রিপোর্টার: শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে বিশেষ তহবিল গঠন করেছে সরকারি-বেসরকারি তিন বাণিজ্যিক ব্যাংক। শেয়ারবাজারের পতন ঠেকাতে আরও ৬টি ব্যাংক তহবিল গঠনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের জন্য আগামী পর্ষদ সভাতেই ব্যাংকগুলো তহবিলের বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।
বিশেষ তহবিল গঠন করা ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে- সোনালী, রূপালী ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক। আর আগামী পর্ষদ সভায় তহবিল অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবে- প্রিমিয়ার, মার্কেন্টাইল, ট্রাস্ট, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, এনসিসি এবং ইউসিবিএল।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৈঠকে অংশ নেয়া ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, বৈঠকে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সোনালী, রূপালী ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ইতোমধ্যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। তিনি জানান, বিশেষ তহবিল গঠন না করলেও ঢাকা ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছে। শিগগিরই শেয়ারবাজরে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ আরও বাড়বে। মোহাম্মদ আলী আরও জানান, প্রিমিয়ার, মার্কেন্টাইল, ট্রাস্ট, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, এনসিসি এবং ইউসিবিএল এই ছয়টি ব্যাংক আগামী পর্ষদ সভাতেই বিশেষ তহবিলের বিষয়টি উপস্থান করবে বলে বৈঠকে জানিয়েছে।
এদিকে বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্য জানান, বিশেষ তহবিল গঠন নিয়ে ইসলামী ব্যাংকগুলো এক ধরনের জটিলতার মধ্যে রয়েছে। এ জটিলতার কারণে তারা বিশেষ তহবিল গঠন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, বৈঠকের আলোচনা খুবই পজেটিভ। ব্যাংকগুলো দ্রুতই শেয়ারবাজারে সাপোর্ট দিতে বিনিয়োগ বাড়াবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংক বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংকের তহবিল গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকগুলা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু আইনগত সমস্যার কথা বৈঠকে জানিয়েছেন। এ সমস্যা সমাধানের জন্য তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবে। সেই সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকেও বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তুলে ধরার জন্য আনুরোধ করা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বসলে বিষয়টি তুলে ধরবো।
শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধস নামলে স্টেকহোল্ডারদের একটি অংশের দাবির প্রেক্ষিতে এবং সরকারের ওপর মহলের হস্তক্ষেপে গত ১০ ফেব্রুয়ারি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে ২০০ বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয়া হয়।
নিজস্ব উৎস অথবা ট্রেজারি বিল বন্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো এ তহবিলের অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ শতাংশ সুদে এ তহবিলের অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে ব্যাংকগুলো, যা পরিশোধের সময় পাবে পাঁচ বছর। আর ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে ঋণ দিতে পারবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুযোগ দেয়ার পরও ব্যাংকগুলো এখনো উল্লেখযোগ্য সাঁড়া না দেয়ায় বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডিএসইর একাধিক পরিচালক। তারা কেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পরিপালন করছেন না, তা ব্যাংকের এমডিদের কাছে জানতে চান। একইসঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের আহ্বান করেন তারা।
এদিকে বৈঠক শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হক সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংকের এমডিদের সঙ্গে একটি ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে। আমরা তাদেরকে শেয়ারবাজারে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য বলেছি। একইসঙ্গে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলে, তা জানানোর জন্য বলেছি। যা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান করা হবে। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে শেয়ারবাজার নেতিবাচক ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কিছু নির্দেশনার পরে শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়ায়। তবে সম্প্রতি করোনাভাইরাস ইস্যুতে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। এই অবস্থায় ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের অবস্থা জানতে আজকে বৈঠক করা হয়।
কাজী সানাউল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয়। আজকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান করেছি। তারাও বিনিয়োগে আন্তরিক। তাই শেয়ারবাজারে দ্রুত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছি।
এদিকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে বিশেষ তহবিল গঠন করেছে সরকারি-বেসরকারি তিন বাণিজ্যিক ব্যাংক। তিন ব্যাংকের প্রত্যেকটি (ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক) নিজস্ব উৎস থেকে ২০০ কোটি টাকা করে বিশেষ তহবিল গঠন করছে। এতে আস্থাহীন শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে যে সংশয় ছিল, তার অবসান ঘটছে। এর আগে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দিয়ে সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার এক মাসের মাথায় ব্যাংক তিনটি এ তহবিল গঠন করলো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিন ব্যাংকই নিজস্ব অর্থায়নে বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। এছাড়া আরও পাঁচটি ব্যাংক তহবিল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করছে। সেগুলো হচ্ছে- ন্যাশনাল ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক। জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর মধ্যে সিটি ব্যাংক ইতোপূর্বে রেপোর (পুনঃক্রয় চুক্তি) সুবিধায় নেয়া ৫০ কোটি টাকা নবায়ন করেছে। ন্যাশনাল ব্যাংক প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০ কোটি টাকার নিজস্ব অর্থায়নে তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজনে পরবর্তীতে তহবিলের আকার বাড়াবে। এছাড়া রূপালী ব্যাংক ৮০ কোটি টাকা এবং ঢাকা ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে গত ১০ ফেব্রুয়ারির সার্কুলারে বলা হয়, কোনো ব্যাংক নিজস্ব উৎস থেকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারবে। তবে চাইলে এ তহবিল গঠনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপোর মাধ্যমে ৫ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণ নিতে পারবে। তবে মেয়াদ ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির বেশি নয়। কোনো ব্যাংক এ সার্কুলারের আওতায় গঠিত তহবিল থেকে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৮০ কোটি টাকা পর্যন্ত নিজে বিনিয়োগ করতে পারবে। বাকি ৬০ শতাংশ ওই ব্যাংকের শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট সহযোগী ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকসহ অন্য ব্যাংকের স্বতন্ত্র ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংককে ঋণ দিতে পারবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ