মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

করোনার প্রভাবে ডুবলো শেয়ারবাজার

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গতকাল শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। পুঁজিবাজারের দ্রুত ওঠানামায় সংসদীয় কমিটিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় বিশেষ তহবিল নিয়ে আজ মঙ্গলবার ব্যাংক এমডিদের সঙ্গে ডিএসই বৈঠকের আয়োজন করেছে।
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ কারণে দেশি-বিদেশি সব ধরনের বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়েছেন। যার ফলে শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, কারোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশ্ব শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। পাকিস্তান শেয়ার মার্কেট বন্ধ করে দিয়েছে। গত রোববার করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হওয়ার পর মুজিববর্ষের প্রোগ্রাম পুনর্বিন্যাস করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যে কারণে আজ শেয়ারবাজারে বড় দরপতন দেখা যাচ্ছে। করোনা আতঙ্ক ছাড়া এই মুহূর্তে শেয়ারবাজারে দরপতন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেন এই শেয়ারবাজার বিশ্লেষক।
বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুর রাজ্জাক বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এখন সবাই আতঙ্কিত। বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছেন না। তাদের নীরব থাকা বাজারে আরও আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। তবে তিনি মনে করেন, করোনাভাইরাসের কারণে এক ধরনের আতঙ্ক থাকলেও আমাদের সন্দেহ একটি গ্রুপ বাজারে এই আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা শেয়ারের দরপতন ঘটিয়ে শেয়ার কেনার পায়তারা করছে।
বিদেশিদের পোর্টফোলিও নিয়ন্ত্রণ করেন এমন একটি ব্রোকারেজ হাউসের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, করোনা আতঙ্কে এতদিন বিদেশিরা শেয়ার বিক্রি করেছেন। কিন্তু এখন দেশি-বিদেশি সব ধরনের বিনিয়োগকারীরা করোনা আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিদেশিদের থেকে দেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বেশি সেল করার প্রেসার আসছে। বিদেশিরা হয়তো ১০-১৫টি কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করছেন। কিন্তু দেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় সব ধরনের শেয়ার বিক্রির হিড়িক লাগিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে বাজারে বড় ধরনের পতন হয়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার লেনদেনের শুরুতেই শেয়ারবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। লেনদেনের প্রথম ঘণ্টাতেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্য সূচক ২০০ পয়েন্টের ওপরে পড়ে যায়। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে পতনের মাত্রা। সেই সঙ্গে দরপতন হতে থাকে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের। এতে দিনভর ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া মাত্র ২টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৫২টির। আর ১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশের শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিককালে এমন ভয়াবহ দরপতন দেখা যায়নি। এই ভয়াবহ পতনের কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৭৯ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। প্রধান মূল্য সূচক হিসেবে ডিএসইএক্স চালুর পর সূচকটির এত বড় পতন আর হয়নি। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচকটি শুরুরও নিচে নেমে গেল। ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক হিসেবে ডিএসইএক্স ৪ হাজার ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করে ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি।
প্রধান মূল্য সূচকের পাশাপাশি করুণ দশা বিরাজ করছে ডিএসইর অপর সূচকগুলোর। বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকটি কমেছে ৮৮ পয়েন্ট। ১ হাজার ৪৬০ পয়েন্ট নিয়ে ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি চালু হওয়া সূচকটি এখন ১ হাজার ৩৪৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইর আর একটি সূচক ‘ডিএসই শরিয়াহ্’। ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি এ সূচকটি যাত্রা শুরু করে। শুরুতে এ সূচকটি ছিল ৯৪১ পয়েন্টে। সোমবার লেনদেন শেষে সূচকটি ৬৯ পয়েন্ট কমে ৯২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইতে ১২৪টি প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে ৯ শতাংশের ওপরে। দফায় দফায় দাম কমিয়ে অনেক বিনিয়োগকারী এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করতে পারেননি। ২০১০ সালের মহাধসের পর দেশের শেয়ারবাজারে এমন নাজুক অবস্থা আর দেখা যায়নি। শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস হলেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৯৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৭০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৫৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩৪৩ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেয়া ২৫৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে তিনটির, কমেছে ২৪৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে চারটির।
এর আগে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের আতঙ্কে গত রোববার লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স কমে ৯৭ পয়েন্ট। পরে বিকেলে বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার খবর আসে। আর এর প্রভাবে গতকাল বিশাল ধস নামল ডিএসইতে।
বাজারের এ পরিস্থিতির কারণে জানতে চাইলে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এমনিতেই বাংলাদেশের পুঁজিবাজার সংবেদনশীল। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের আতঙ্কে আজ দরপতনের গতি বেশি দেখা যাচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, মূলত করোনাভাইরাসের প্রভাবে আজকে শেয়ারবাজারে এই পতন। আতঙ্কিত হয়ে মানুষ শেয়ার বিক্রি করেছে। তবে এটা সাময়িক প্রভাব। কেটে যাবে। এ অবস্থা থাকবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিনিয়োগকারী বলেন, আজ দুই সপ্তাহ ধরেই সূচক কমছে। উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখছি না। বাজারে কোনো স্থিতিশীলতা নেই। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে। বাজারে আজকে বিক্রির চাপ অনেক। ক্রেতা নেই। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীরাও বুঝছেন না কী করবেন। এই বিনিয়োগকারী জানান, ২০১৫ সালে অবসরের পর ৭৫ লাখ টাকা নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা শুরু করেন তিনি। এখন তাঁর শেয়ারের দর কমে কমে ঠেকেছে ৭ লাখে। গতকাল ৭ লাখে সব শেয়ার বিক্রি করেছেন তিনি। এ পরিস্থিতি কাউকে বোঝানোর অবস্থাও নেই তাঁর।
সাইফুল ইসলাম নামের আরেক বিনিয়োগকারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘টানা নবম দিনের মতো দর কমেছে। গতকাল বাজারে প্যানিক সেল হয়। দর যত কমছে, সেল প্রেশার বাড়ছে। সবাই মার্জিনে ব্যবসা করে, লোকসান চায় না। দাম কমতে থাকলেই বিক্রি করে দেয়।
পুঁজিবাজারের দ্রুত ওঠানামায় সংসদীয় কমিটিতে ক্ষোভ: শেয়ারবাজারে ধস নামায় অনেকে নিঃস্ব হয়েছে জানিয়ে বাজার দ্রুত ওঠানামায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এজন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে তাত্ত্বিক দিক বিবেচনা করে পুঁজিবাজার দ্রুত ওঠানামার ব্যাপারে কঠোর ভূমিকা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
অপরদিকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার পুঁজিবাজারের দর দ্রুত ওঠানামা করার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারকে আকর্ষণীয় করে তুলতে কোম্পানিগুলোকে অধিক পরিমাণে বাজারে নিয়ে আসার সুযোগ দিতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে টাকা ফেরত নেয়ার বিষয়ে সরকার একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। জনগণের শেয়ার থাকায় তালিকাভুক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিতে হবে। সম্প্রতি সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির ১২তম বৈঠকে এ কথা বলেন তারা।
বৈঠকে কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ (কুমিল্লা-৭) বলেন, পুঁজিবাজারের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাপ্ত পুঁজি সরাসরি শিল্পে বিনিয়োগ করা। বিনিয়োগ হলে কর্মসংস্থান বাড়াবে, দেশের প্রবৃদ্ধি হবে। কিন্তু পুঁজিবাজার দ্রুত ওঠানামা করছে। পুঁজিবাজারে সাধারণ মানুষও জড়িত। এ কারণে পুঁজিবাজারে ধস নামার কারণে অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে।
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে তাত্ত্বিক দিক বিবেচনা করে পুঁজিবাজার দ্রুত ওঠানামার ব্যাপারে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে (এসএমই) বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি গত দু-তিন মাসে ২০ উদ্যোক্তাকে দেখেছেন, যারা শত শত কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে পথের ফকির হয়ে গেছেন। খেলাপি ঋণের মধ্যে ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ আছে। এতে প্রকৃত বিনিয়োগকারীরাও বিপর্যস্ত হয়। ঋণ খেলাপির বিষয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের ওপর তদারকি জোরদার ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পুনর্গঠন করা হয়েছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অভিজ্ঞ এবং দক্ষ লোকদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। এতে মানুষ উপকৃত হবে, দেশও উপকৃত হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের রিজার্ভের মালিক জনগণ। অথচ এ রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িতরা কেউ ধরা পড়েনি। তিনি এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চান এবং রিজার্ভ চুরির বিষয়টি দৃষ্টিতে আনয়নের জন্য বলেন। তিনি মানুষকে বিনিয়োগের জন্য আকৃষ্ট ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম গ্রহণ করতে বলেন। প্রত্যেক জেলায় বিদ্যমান ট্রেড বডির মাধ্যমে মানুষকে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য বলেন। কারণ মানুষ উদ্বুদ্ধ হলে এটার সম্পর্কে সচেতন হবে ও বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবে।
বিশেষ তহবিল নিয়ে আজ ব্যাংক এমডিদের সঙ্গে ডিএসইর বৈঠক: এদিকে শেয়ারবাজারে দেখা দেয়া ভয়াবহ ধসের প্রেক্ষিতে তালিকাভুক্ত সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিযয়ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ফান্ড গঠনে দেয়া সুযোগের বিষয়ে আলোচনা করতে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর নিকুঞ্জে অবস্থিত ডিএসই টাওয়ারে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান। বৈঠকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোর ২০০ কোটি টাকা করে ফান্ড গঠনের পাশাপাশি শেয়ারবাজারের সার্বিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে। শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধস নামলে স্টেকহোল্ডারদের একটি অংশের দাবির প্রেক্ষিতে এবং সরকারের ওপর মহলের হস্তক্ষেপে গত ১০ ফেব্রুয়ারি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে এ বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয়া হয়।
নিজস্ব উৎস অথবা ট্রেজারি বিল বন্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো এ তহবিলের অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঁচ শতাংশ সুদে এ তহবিলের অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে ব্যাংকগুলো, যা পরিশোধের সময় পাবে পাঁচ বছর। আর ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ সাত শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে ঋণ দিতে পারবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এই সুবিধা দেয়ার ফলে শেয়ারবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। ৪ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে নেমে যাওয়া ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসএক্স হু হু করে বেড়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি ৪ হাজার ৭৫৮ পয়েন্টে চলে আসে। অর্থাৎ পতন কাটিয়ে ১০ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক বাড়ে ৩৭৩ পয়েন্ট। তবে এরপরেই ঘটে ছন্দপতন। ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে গত সোমবার (৩ মার্চ) পর্যন্ত ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে ১১ কার্যদিবসেই দরপতন হয়েছে। এর মধ্যে বড় দরপতন হয়েছে একাধিক কার্যদিবসে। আর গতকাল রিতিমত মহাধস নামে শেয়ারবাজারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ