শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনায় ঋণ খেলাপীর দায়ে কৃষি ব্যাংকের ৩১৬৬টি মামলা

খুলনা অফিস : খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় কৃষি ব্যাংকের ৯ ভাগ ঋণই খেলাপী। খুলনা অঞ্চলে কৃষি ব্যাংকের ৮৮টি শাখায় অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ১৮২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে কৃষিভিত্তিক অনাদায়ী ঋণ ১৫৬১ কোটি টাকা। আর মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে খেলাপীর তালিকায় রয়েছে ১৬৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা আদায়ে ৩১৬৬টি সার্টিফিকেট মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, ফসলে পোকার আক্রমণ, ফসল নষ্ট ও প্রভাবশালী মহলের ঋণ পরিশোধে অনীহার কারণে খেলাপী ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। এ সব টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেগ পেতে হচ্ছে। প্রভাবশালী মহল ঋণ পরিশোধ করতে নানা টালবাহানা করেন বলে ব্যাংক কর্মকর্তাদের অভিযোগ। কয়েক দফা নোটিশ প্রদানের পর নিরূপায় হয়ে এদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে হয়।

কৃষি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা অঞ্চলের ৮৮টি শাখায় ঋণ গ্রহীতা গ্রাহক রয়েছেন ২ লাখ ৫৩০ জন। এ সব গ্রাহকদের মধ্যে প্রদানকৃত ঋণের ১৮২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা অনাদায়ী রয়েছে। এর মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া ঋণের পরিমাণ ১৬৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এ খেলাপী ঋণ আদায়ে ব্যাংক থেকে নোটিশ ইস্যু, ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ, সার্টিফিকেট মামলা করা হচ্ছে। ২০২৯ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত ২৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা খেলাপী ঋণ আদায়ে ৩৪৩২টি সার্টিফিকেট মামলা বিচারাধীন ছিলো। এরপর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত আরও ৬ কোটি ৮ লাখ টাকার খেলাপী ঋণ আদায়ে ২৯২টি সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করা হয়। আর এ সময়ের মধ্যে ৫৫৮টি সার্টিফিকেট মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে ৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার ঋণ আদায় করা হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ২৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা আদায়ে ৩১৬৬টি সার্টিফিকেট মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, কৃষি ব্যাংক থেকে শষ্য, মাছ, প্রাণিসম্পদ, সেচ যন্ত্রপাতি, কৃষি যন্ত্রপাতি, দারিদ্র্য বিমোচন, এসএমই ও কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত প্রদানকৃত ঋণের মধ্যে কৃষি খাতের ১৫৩১ কোটি টাকার ঋণ অনাদায়ী রয়েছে। কৃষি খাতে বিনিয়োগ বেশি হওয়ায় কৃষি খাতে অনাদায়ীর পরিমাণ বেশি।

 

ব্যাংকের মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলায় পাইকগাছা, শাহপুর, লবণচরা, দাকোপ, দৌলতপুর, ফুলতলা, কয়রার জায়গীরমহল, তেরখাদা, ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, রূপসা ঘাট, বটিয়াঘাটা উপজেলার বিরাট, দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর, ফুলতলা উপজেলার জামিরা, রূপসা উপজেলার কাজদিয়া, কেডিএ, নিউমার্কেট, পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ও দাকোপ উপজেলা নলিয়ানে ব্যাংকের শাখা অফিস রয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানান, গেল বছর অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে কৃষক, চাষি, খামারী লোকসানের কবলে পড়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয় বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। এ কারণে কৃষকরা ঋণের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে। গ্রহীতাদের কাছ থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের টাকা আদায়ে কিছুটা দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। তবে সার্টিফিকেট মামলা এ বছর নিষ্পত্তির হার ভালো। ঋণের টাকা আদায়ে মাঠ পর্যায়ে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মাঠকর্মীরা প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাঠে ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রচারণার কাজ চলছে। অনেকের বাড়ি বাড়ি যেয়ে ঋণ পরিশোধের জন্য তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিনের ঋণীদের নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ