রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ৭৫ ভাগ উপস্থিত না হলে বোর্ড পরীক্ষা নয়

খুলনা অফিস : অনলাইনে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ আর বাস্তবায়নের ফলে সারাদেশে সুনাম কুড়িয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। এ কার্যক্রমের শুরুটা ছিল ২০১৫। এসব গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম ছিল প্রশ্ন ব্যাংকের কার্যক্রম। যা সারাদেশের শিক্ষাঙ্গনে প্রসংশিত হয়। সম্প্রতি সেবা সহজিকরণে চালু হয়েছে ই-ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। সামনে আসছে হাজিরা মনিটরিং সিস্টেম। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে শতকরা ৭৫ ভাগ উপস্থিত না থাকলে আটকে যাবে বোর্ড পরীক্ষা। এ সিস্টেম খুব শিগগিরই চালু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুধু যশোর বোর্ডের কার্যক্রম নয়, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বোর্ডকেও কারিগরি সহযোগিতা করে যাচ্ছে এ বোর্ড। 

যশোর শিক্ষা বোর্ডের অনলাইনে যাত্রা শুরুর বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল প্রশ্নব্যাংক। ২০১৫ সালের মে মাসে অনলাইন প্রশ্ন ব্যাংক তৈরির কার্যক্রম শুরু করে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এতে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন পদ্ধতির সৃষ্টি হয়। এ প্রক্রিয়ার শুরুর দিকে যশোর বোর্ডে ১১৫টি বিদ্যালয়কে নির্বাচন করা হয়। পরে তা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সফলতার সাথে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এরপরও বসে নেই যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। বোর্ড পরীক্ষার জন্য চালু করে অনলাইন হাজিরা সিস্টেম। যা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রিন্ট দিয়ে কাজ করা হয়। সম্প্রতি চালু হলো শিক্ষার্থীদের নাম, পিতা, মাতা, ঠিকানাসহ অন্যান্য ডাটাবেজ, যদি এতে কোন ভুল হয় তাহলে বোর্ডে আর আসতে হবে না। দ্রুতগতিতেই প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি দিয়ে তা সংশোধন করা যাবে। একই সাথে সামনে আসছে অনলাইনে হাজিরা সিস্টেম। প্রতি বছর এসএসসি ও এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষায় যারা অকৃতকার্য হয়, তাদের ফরম পূরণের জন্য শুরু হয়, রাজনৈতিক, প্রশাসনিকসহ বিভিন্ন মহলের সুপারিশ। যার ফলে প্রতিষ্ঠান প্রধান পড়েন বিপাকে। তারা অনেক সময় বলতেও পারেন না, আবার বোর্ড পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণেও সহযোগিতা করতে পারেন না। যা নিয়ে রীতিমত জটিলতা ও সু-সম্পর্কের অবনতি হয় বলেও অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান দাবি করেন। 

এ ব্যাপারে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ডক্টর প্রফেসর মোল্লা আমির হোসেন বলেন, এসব সমস্যার উত্তরণে বোর্ড কর্তৃপক্ষ খুব শিগগিরই প্রতিষ্ঠানে অনলাইন হাজিরা চালু করবে। শিক্ষার্থীরা বছরে মোট ক্লাসের শতকরা ৭৫ ভাগ হাজির না থাকলে সফটওয়্যার অটোমেটিক তাকে বোর্ড পরীক্ষায় আটকে দেবে। ফলে দূর হবে সুপারিশ, কমে যাবে ক্লাস ফাঁকি। 

তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে বের হয়ে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছায় না। অনেকে আবার স্কুল কলেজের ড্রেস পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর স্কুল/কলেজে যায় না। ফলে যতভাল শিক্ষার্থীই হোক না কেন, ক্লাস না করলে এখন আর বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সাথে তিনি জানান, কোন ধরনের সুপারিশ চলবে না অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণে। তখন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা সহজেই শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ডাটা বের করে যে কারও সামনে উপস্থাপন করতে পারবেন। ফলে এ সংক্রান্ত নানা বিড়ম্বনা দূর হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ