সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

করোনা আতঙ্ক বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনেও এখন করোনা আতঙ্ক। জাপান, চীন এবং ইতালির ঘরোয়া লিগের সমস্ত ফুটবল ম্যাচ আপাতত স্থগিত।  চীন থেকে ছড়িয়ে পডা এই মারণরোগের আতঙ্ক ঢেকেছে টোকিও অলিম্পিকের আকাশকে। দ্য গ্রেটেস্ট শো আর্থ-এর সূচনা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এদিকে আবার স্থগিত হয়ে গিয়েছে সুলতান আজলান শাহ ট্রফিও। এবার অনিশ্চিত হয়ে পডল আইএসএসএফ শুটিং বিশ্বকাপও।

আগামী ১৫ মার্চ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শুরু হওয়ার কথা ছিল শুটিং বিশ্বকাপের। শেষ হত ২৬ মার্চ। কিন্তু যেভাবে করোনা ভাইরাস ভারতেও হানা দিয়েছে, তাতে খেলোয়াডদের নিরাপত্তা সংকটে। আর সেই কারণেই বিশ্বকাপ বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা গিয়েছে। তবে শোনা যাচ্ছে, দিল্লি থেকে সরিয়ে অন্যত্র বিশ্বকাপ আয়োজনের ব্যবস্থা করা হতে পারে। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, জাপান, ইতালির মতো দেশ থেকে শুটাররা যোগ দেন এই টুর্নামেন্টে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ভিসা পেতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। আসলে এদেশে আসতে দীর্ঘ মেডিক্যাল পরীক্ষা উত্তীর্ণ হতে হয় শুটারদের। করোনার আতঙ্কে সেই প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বাতিল হবে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব

কুয়েত ও নেপালের বিপক্ষে চলতি মাসে অনুষ্ঠিতব্য অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত হয়ে যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) সোমবার জানিয়েছে মার্চ ও জুনের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো নিয়ে তারা দ্রুতই ফিফার সাথে সভায় বসবে।

এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এএফসি জানিয়েছে বেশ কয়েকটি জাতীয় দলই ম্যাচ আয়োজন কিংবা অন্য দেশে গিয়ে এই ম্যাচগুলো খেলতে অনীহা প্রকাশ করেছে। স্বাস্থ্য ও ভ্রমণ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এখানে মূখ্য হয়ে দেখা দিচ্ছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে আগামী ২৬ মার্চ পার্থে কুয়েতকে আতিথ্য দেবার পাশাপাশি ৩১ মার্চ নেপালের বিপক্ষে খেলতে কাঠমুন্ডু যাবার কথা রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। এরপর জুনে তাইওয়ান ও জর্ডানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে বাছাইপর্বের ম্যাচের মাধ্যমে প্রথম পর্ব শেষ করবে সকারুজরা। চার ম্যাচের চারটিতেই জয়ী হয়ে বর্তমানে বাছাইপর্বে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

বাতিল হতে পারে আইপিএল

 করোনা আতঙ্কে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের তাজিকিস্তান সফর বাতিল করা হয়েছে। রীতিমতো অনিশ্চিত অলিম্পিক এবং শুটিং বিশ্বকাপ। খেলার মাঠে করোনার এমন দাপট কি আইপিএলেও থাবা বসাবে? বিসিসিআই বলছে, এখনই তেমন কোনও আশঙ্কার কথা ভাবা হচ্ছে না। আইপিএল যথাসময়েই হবে। বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলী বলছেন, এখনও আইপিএলে করোনার প্রভাব নিয়ে তেমন আলোচনাই হয়নি। আগামী ২৯ মার্চ শুরু হওয়ার কথা আইপিএল। টুর্নামেন্ট চলবে ২৪ মে পর্যন্ত। মেগা এই টুর্নামেন্টে খেলতে আসবেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা। আর করোনা রীতিমতো ছোঁয়াচে রোগ। স্বাভাবিকভাবেই টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে শুরু করেছে। তাছাডা ২২ গজে ইতোমধ্যেই করোনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

পিএসএলেও করোনাভাইরাস আতঙ্ক

সারাবিশ্ব এখন ভুগছে  আতঙ্কে। প্রতিদিনই নতুন নতুন জায়গায় করোনা সংক্রমনের খবর আসছে। চীন থেকে উৎপত্তি হলেও ইতিমধ্যে পৃথিবীর ৬০টিরও বেশি দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। 

এরই মধ্যে পাকিস্তানে চলমান পিএসএলেও ছড়িয়ে পড়েছে করোনা আতঙ্ক।এবারের পিএসএলে পুরোটাই আয়োজন হচ্ছে পাকিস্তানে। এর আগে আরব আমিরাতে পিএসএলের আয়োজন করা হতো। দুই-তিন আসরে কিছু কিছু ম্যাচ পাকিস্তানে আয়োজন করে এবার পুরোটারই আয়োজক হয়েছে তারা নিজেরা। নিজেদের দেশে পিএসএল, যে কারণে পাকিস্তানি ক্রিকেট প্রেমীরাও হুমড়ি খেয়ে পড়ছে স্টেডিয়ামে। প্রচুর জনসমাগম মানেই হলো, করোনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ।

এরই মধ্যে করাচি এবং ইসলামাবাদে চারজন করোনাভাইরাসের আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। এ কারণে পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যেই পিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে, স্টেডিয়ামের গেটে থার্মাল স্ক্যানার বসানোর। দর্শকদের স্ক্যান করেই তারপর স্টেডিয়ামে প্রবেশ করাতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে।

স্থগিত হতে পারে টোকিও অলিম্পিক

ভয়াবহ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে চলতি বছরের মধ্যে অলিম্পিক আয়োজন করতে না পারলে টোকিও আয়োজক স্বত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে বলে জানিয়েছেন দেশটির একজন মন্ত্রী। এ বিষয়ে মে মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সংসদে অলিম্পিক বিষয়ক মন্ত্রী সেইকো হাশিমোটো বলেন, চীন ২০২০ সালের মধ্যে অলিম্পিক আয়োজন করতে না আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) গেমসটি সেখান থেকে প্রত্যাহার করে নিতে পারে। তিনি আরও বলেন, টোকিওর আয়োজক এবং আইওসি নির্ধারিত সময়েই গেমসটি আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাশিমোটো বলেন, ‘চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ৬৬ ধারায় রয়েছে, ২০২০ সালে আয়োজন করতে না পারলে আইওসি আয়োজক স্বত্ব বাতিল করতে পারবে। এই মুহুর্তে টোকিও ২০২০ কমিটি, আইওসি ও টোকিও সিটি সরকার নির্ধারিত সময় ২৪ জুলাইয়ে গেমসটি আয়োজনের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ