শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কুমারখালীতে আনোয়ারা বেগম শিক্ষার্থী কল্যাণ ট্রাস্টের বৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পান্টিতে আনোয়ারা বেগম শিক্ষার্থী কল্যাণ ট্রাস্টের বৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে। ২৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার উপজেলার পান্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হল রুমে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫ম বারের মত এই বৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান করা হয় । এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক বীরমুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী জাহিদ হোসেন জাফর। আনোয়ারা বেগম শিক্ষার্থী কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক এ বি এম বদিউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রাস্টের প্রধান উপদেষ্টা যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক মোঃ জয়নাল আবেদীন, পান্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক শেখ ওবাইদুল হক দিলু ও বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক দীনবন্ধু কুমার বিশ্বাস। আনোয়ারা বেগম শিক্ষার্থী কল্যাণ ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান মিয়ার পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান রাশিদুজ্জামান তুষার, শিক্ষক আবু নইম মিয়া, আঃ হালিম, সেকেন্দার আলী, হাবিবুর রহমান প্রমূখ। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখে জোহানা রাহী।  

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদ হোসেন জাফর বলেন, গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মেধা তালিকায় তারা যেন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে এমন উদ্যোগকে সামনে রেখে এই বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড, আমি একজন সাবেক শিক্ষক হিসাবে-শিক্ষিত জাতি গঠনে এগিয়ে এসে যদি ছাত্র-ছাত্রীকে প্রকৃত মেধায় গড়ে তুলতে পারি তাহলেই এলাকার উন্নয়ন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ৫ম বারের মতো এই শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পেরে আমি এলাকার মানুষ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।  বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন,  আমার মরহুম মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত এই প্রকল্পটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বলেই আজকের শিক্ষার্থীদের জোয়ার দেখছি। তিনি বলেন, অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে এবং প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষায় অংশগ্রহণ করাতে যে আগ্রহ দেখাচ্ছেন সেটা দেখে আমি মুগ্ধ, এজন্য আগামীতে আরো বেশী অর্থ বরাদ্ধ ও বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সুমাইয়া বুশরা শিমু জানায়, আমি দ্বিতীয় বারের মত এবার সপ্তম শ্রেণি থেকে বৃত্তি পেয়েছি। আগামীতে এই কার্য্যক্রম আরো ব্যাপকভাবে অনুষ্ঠিত হোক এটাই প্রত্যাশা। অবিভাবক হাবিবুর রহমান জানান, এই বৃত্তি প্রকল্প শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে অনন্য ভুমিকা রাখছে। তিনি আরো জানান, পান্টি এলাকায় যে উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে, এরকম প্রতিটা ইউনিয়ন পর্যায়ে আয়োজন করলে শিক্ষার্থীদের আরো বেশি মেধার উন্নয়ন হবে । অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অতিথিবৃন্দ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ অর্থ ও সনদপত্র তুলে দেন।  আনোয়ারা বেগম শিক্ষার্থী কল্যাণ ট্রাস্টের বৃত্তি পরীক্ষা জেলায় ব্যাপক আলোঢ়ন সৃষ্টি করেছে। এবারের ২০১৯ সালের পরীক্ষায় ৬০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছিল। এদের মধ্যে থেকে ট্যালেন্ট ও সাধারণ গ্রেডে ৫৯জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। বৃত্তির মধ্যে রয়েছে নগদ টাকা ও সনদপত্র। এছাড়াও প্রতিজন বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং সাথে আগত অবিভাবককে দুপুরের খাবার প্রদান করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ