শুক্রবার ২৭ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

সারাদেশে দুই ভাইয়ের সম্পদের হিসাব মেলাতে গলদঘর্ম  তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ॥ আরও টাকার ভল্টের  খোঁজে  গোয়েন্দারা!

 

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক ভূইয়া ও যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক রূপন ভূইয়া- এই দুইয়ে মিলে হয়েছেন ‘ক্যাসিনো ব্রাদার্স’। ক্যাসিনোর টাকায় গড়ে উঠেছে এই ব্রাদার্সের অঢেল প্লট, ফ্ল্যাট, টাকা, গাড়ি, স্বর্ণালংকারসহ নানা সম্পদ। ক্যাসিনো সংশ্লিষ্টতার ঘটনায় তারা এখন দল থেকে বরখাস্ত। এই দুই ভাইয়ে মিলে অবৈধ ক্যাসিনোর টাকায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ফ্ল্যাট ও প্লট গড়েছেন, যার সন্ধান মিলছে এখন তদন্তে। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের সময় তারা গ্রেফতার হয়ে আইনশৃংখলাবাহিনীর হেফাজতে। এই দুই ভাইয়ের অবৈধ সম্পত্তির হিসাব-নিকাশ ও যাচাই-বাছাই করতে গলদঘর্ম অবস্থা তদন্ত সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারা তাদের অবৈধ সম্পদ খুঁজতে গিয়ে প্রতিদিনই অবাক হচ্ছেন। তদন্ত শেষে পুনরায় তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে সিআইডি। অপরদিকে, র‌্যাবের দায়ের করা চারটি মামলার অভিযোগপত্র শিগগিরই আদালতে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থাটি। কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তদন্তে তাদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন এমন অর্ধশত ব্যক্তির নামও বেরিয়ে আসছে।

এদিকে, ওই দুই ভাইয়ের কত টাকা, বাড়ি, গাড়ি আর ফ্ল্যাট আছে তা নিশ্চিত করে কেউ জানেন না। তাদের পুরান ঢাকার বিভিন্ন বাড়িতে সিন্দুকের পর সিন্দুকে নগদ টাকা মিলছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) উদ্ধার করা পাঁচটি টাকাভর্তি ভল্টের সঙ্গে কয়েকটি ইলেকট্রনিক চিপসও উদ্ধার করেছে র‌্যাব। র‌্যাব কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এগুলো টাকার ভল্টের চিপস। তাদের হেফাজতে অন্য কোথাও আরও অন্তত ডজন খানেক সিন্দুক বা ভল্ট রয়েছে। সেগুলোর ভেতরে আরও কোটি কোটি নগদ টাকা রয়েছে। এসব চিপসের মাধ্যমে সেসব ভল্ট খোলা যায়। তবে সেগুলো কোন বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়েছে সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি র‌্যাব। এসব ভল্টের সন্ধানে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে।

তদন্ত সূত্রে দুই ভাইয়ের সম্পত্তির কিছু হিসাব পাওয়া গেছে। এরমধ্যে রয়েছে, রাজধানীর সূত্রাপুরের বানিয়ানগরে ২০১৪-১৫ সালে কেনা ছয়টি ফ্ল্যাট ও এক কাঠা জমি। বাবা চাচাদের নামে ওয়ারীর ১০৫ লালমোহন সাহা স্ট্রিটে পাঁচটি ফ্ল্যাট ও পৌনে দুই কাঠা জমি । ১০৬ লালমোহন সাহা স্ট্রিটে ১০ তলা ভবনে ১০টি ফ্ল্যাট ও দুই কাঠা জমি। ১০৩ লালমোহন সাহা স্ট্রিটে এক কাঠার প্লট। ১১৬ লালমোহন সাহা স্ট্রিটে ছয়তলা ভবনে ছয়টি ফ্ল্যাট, ১১২ লালমোহন সাহা স্ট্রিটে ছয়তলা ভবনে ছয়টি ফ্ল্যাট, আধাকাঠা জমি। ১২০ লালমোহন সাহা স্ট্রিটে এক কাঠার প্লট। ৭০নং দক্ষিণ মৈসুন্দি ওয়ারী সাততলা ভবনে ১৪টি ফ্ল্যাট।

আরও আছে, ৬৫/২ শাহ সাহেব লেন গেন্ডারিয়ায় ১০ তলা ভবনে ১৭টি ফ্ল্যাট ও তিন কাঠা জমি। ৭০ ও ৭১নং শাহ সাহেব লেনে ছয়তলা বাসায় দুটি ফ্ল্যাট ও ১ কাঠা জমি। ৮নং শাহ সাহেব লেনে পাঁচতলা বাড়িতে ১৩টি ফ্ল্যাট ও তিন কাঠা জমি। ১৫নং নারিন্দা লেনে ছয়তলা ভবনে ১১টি ফ্ল্যাট ও দুই কাঠা জমি। ৬ নম্বর গুরুদাস সরদার লেনে ছয়তলা ভবনে ১২টি ফ্ল্যাট ও চার কাঠা জমি। গেন্ডারিয়ায় ১৩৫ ডিস্টিলারি রোডে একতলা টিনশেড বাড়ি ও সাড়ে তিন কাঠা জমি। ওয়ারী থানার পেছনে ৪৪/বি বজ্রহরি শাহ স্ট্রিটে চার কাঠার খালি প্লট। ৮৮ মুরগিটোলা নয়াহাজীতে ৯ কাঠার খালি প্লট। কেরানীগঞ্জে তেঘরিয়া এলাকায় বিশাল এলাকাজুড়ে বাংলো বাড়ি।

এনু রুপন স্টিল হাউজের নামে বংশাল থানার ১৪ নবাব ইউসুফ রোডে দোকান, একই রোডে আরেকটি দোকান আছে ভাড়ায় নেওয়া। ধোলাইখালে বাঁধন এন্টারপ্রাইজ নামে দোকান। ২৯নং বানিয়ানগরে সুমন শিট কাটিং নামে জহিরুল হক দুলের সঙ্গে পার্টনারশিপে ব্যবসা। ১০৩ লালমোহন স্ট্রিটের পাশে ১০১/১০২ নম্বর প্লটে আধা কাঠা জমি। ১১৯ লালমোহন সাহা স্ট্রিটে আধা কাঠা জমির ওপর ছয়তলা ভবনে ফ্ল্যাট। নারিন্দা লেন গেন্ডারিয়ায় চারতলা বাড়িতে পাঁচটি ফ্ল্যাট ও পাঁচ কাঠা জমি। এছাড়াও সেখানে ১৫ কাঠার ওপর একতলা তিন রুমের একটি বাড়ি আছে। ১৪ নারিন্দা লেনে পাঁচতলা ভবনে দুটি ফ্ল্যাট, একটি তিনতলা ভবনে একটি ফ্ল্যাট। সেখানে ডেভেলপার জাহিদ ডায়েম-এর ভবনে এক হাজার বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট নির্মাণাধীন। ৬৫ শাহ সাহেব লেন খালি টিনশেড বাড়ি।

ঢাকার বাইরের সম্পদের মধ্যে রয়েছে, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায় ১০ কাঠার খালি প্লট, এনু ও রুপন স্টিল হাউজের জন্য বানিয়ানগরে ভাড়া নেওয়া দোকান। শরীয়তপুরের নড়িয়া থানায় ১২ শতাংশ ক্ষেত। পালং থানার দোমশা গ্রামে ২০ শতক ও ১৪ শতক ক্ষেত। এছাড়াও চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও খুলনা, মানিকগঞ্জ ও সাভারে তাদের জমির সন্ধান পাওয়া গেছে। সিআইডি সেগুলো যাচাই-বাছাই করছে।

অন্যদিকে, তাদের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৯ কোটি ১১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা পেয়েছে পুলিশ। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআইডির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এরা দুই ভাই ক্যাসিনোর টাকা ব্যাংকে রাখতো না। কারণ, তাদের টাকার উৎস বৈধ ছিল না। তারা জমি, ফ্ল্যাট ও স্বর্ণ কিনতো। তবে এসব সম্পত্তিও তারা বৈধ করতে পারেনি। এগুলো অর্জনের আয়ের কোনও বৈধ উৎস এখনও দেখাতে পারেনি। ঢাকার আশপাশের সব জেলায় তাদের জমি রয়েছে। তবে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এরা দুই ভাই শিক্ষিত না। তারা অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের পাশাপাশি সেগুলো উড়িয়েছে। তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছে। এ সময় তারা একজন শিক্ষিত লোককে গাইড হিসেবে নিতো। এই দুই ভাইয়ের কাছ থেকে অনেকেই টাকা পয়সা নিয়েছে।’

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বরে ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও অর্থ জব্দের পর তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানিলন্ডারিং আইনে দায়ের হওয়া ৯টি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। ৯টির মধ্যে চারটি মামলার এজাহারে দুই ভাই এনামুল ও রূপনের নাম রয়েছে। মামলা তদন্ত করে আমরা তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করি। একপর্যায়ে কেরানীগঞ্জে এক সহযোগীর বাড়ি থেকে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।’

 

ক্যাসিনো ব্রাদার্সের আরও টাকার ভল্টের খোঁজে গোয়েন্দারা!

 

ক্যাসিনোকান্ডের অন্যতম দুই হোতা এনামুল হক এনু ও রূপন ভূঁইয়ার পুরান ঢাকার বিভিন্ন বাড়িতে সিন্দুকের পর সিন্দুকে নগদ টাকা মিলছে। গত মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) উদ্ধার করা পাঁচটি টাকাভর্তি ভল্টের সঙ্গে কয়েকটি ইলেকট্রনিক চিপসও উদ্ধার করেছে র‌্যাব। র‌্যাব কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এগুলো টাকার ভল্টের চিপস। তাদের হেফাজতে অন্য কোথাও আরও অন্তত ডজন খানেক সিন্দুক বা ভল্ট রয়েছে। সেগুলোর ভেতরে আরও কোটি কোটি নগদ টাকা রয়েছে। এসব চিপসের মাধ্যমে সেসব ভল্ট খোলা যায়। তবে সেগুলো কোন বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়েছে সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি র‌্যাব। এসব ভল্টের সন্ধানে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, এনু-রূপনের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া টাকাগুলো ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের জুয়ার অর্থ। সেপ্টেম্বর মাসে র‌্যাবের অভিযান শুরুর পরপরই বস্তায় করে এসব টাকা এনু-রূপনের বাসায় নিয়ে লুকিয়ে রাখা হয়। ওয়ান্ডারার্স ক্লাব পরিচালনা পর্ষদের অন্য সদস্যদের অংশও এখানে ছিল। তদন্তে তাদের বিষয়েও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সে সময় তাদের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

সিআইডির রিমান্ডে তারা ২০০০ সালের পর থেকে ১৫৬টি ফ্ল্যাট এবং ২২টি বাড়ির মালিক হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। ঢাকাতেই তাদের ছোট-বড় ৭০টি জায়গা পাওয়া গেছে। এছাড়াও ঢাকার বাইরে তাদের ৪ বিঘা জমিরও সন্ধান মিলেছে। 

র‌্যাবের গোয়েন্দা এবং আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, আমরা নিয়মিত ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চালাচ্ছি। ক্যাসিনো থেকে আমরা দৃষ্টি সরাইনি। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করার পরই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্যাসিনোর সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’ র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এনু-রূপনের আরও অবৈধ অর্থ আছে কিনা তারও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে তথ্য এসেছে, পুরান ঢাকার আরেকটি বাসায় এনু-রূপনের আরও একাধিক ভল্ট রয়েছে। অত্যাধুনিক ওই ভল্টগুলো ইলেকট্রনিক্স চিপস এবং পাসওয়ার্ড সংবলিত। অত্যন্ত সুরক্ষিত এসব ভল্টে রক্ষিত আছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। তবে ওই তথ্যের বিষয়টি নিশ্চিত হতে বেশ কয়েকটি বাসায় এরইমধ্যে বিভিন্ন কৌশলে রেকি করা হয়েছে। বাসার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য চেষ্টা চলছে। র‌্যাব কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই বাসায় রক্ষিত ভল্টগুলোতে সম্পদের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর একযোগে রাজধানীর ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব, শাহজাহানপুর মুক্তিযোদ্ধা চিত্তবিনোদন ক্লাব ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাবে র‌্যাবের একাধিক টিম অভিযান শুরু করে। ওই সুযোগে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে রক্ষিত বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে ফেলা হয়। প্রায় ৪ ঘণ্টা পর ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে র‌্যাব সদস্যরা অভিযানে গেলে নগদ মাত্র ১০ লাখ টাকা এবং ক্যাসিনোর কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করে। ২৪ সেপ্টেম্বর এনামুল ও রূপনের সূত্রাপুরের মুরগিটোলা মোড়ের বাসায় এবং তাদের দুই কর্মচারীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। ওই অভিযানে এনু-রূপন ও তাদের দুই সহযোগীর বাসা থেকে ৫টি সিন্দুক ভর্তি ৫ কোটির বেশি টাকা, ৮ কেজি সোনা (৭০০ ভরি) ও ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর ও ওয়ারী থানায় মোট ৭টি মামলা হয়। তখনই বেরিয়ে আসে ক্যাসিনো ব্রাদার্সের লুকায়িত সম্পদের একটি অংশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, যেহেতু নারিন্দার বাসা থেকে ২৬ কোটি টাকা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনো চিপস উদ্ধার হয়েছে, তাই এর দায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। ক্লাবে ক্যাসিনোর সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, ভাগ পেতেন, তাদেরও পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারা আরও বলেন, শুরুতে মাত্র দুটি ক্লাবে একযোগে অভিযান চালানোর কারণে ক্যাসিনো চলে এমন অন্য ক্লাবের মালিকরা ক্যাসিনো সামগ্রী সরিয়ে ফেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। নারিন্দার বাসার চিত্র আমাদের অন্য ক্লাবগুলোর বিষয়টি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। 

সরেজমিন নারিন্দা কাঁচাবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সবার মুখে মুখে ক্যাসিনো ব্রাদার্সের কথা। তাদের অনেকেরই প্রশ্ন, এই দুই ভাই কীভাবে এলাকায় এত সম্পদের মালিক হলো, কীভাবেই বা তারা দিনের আলোতে এতসব সিন্দুক বাসায় এনেছিল? তাদের অনেকেই আবার সিআইডি আর দুদকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের বিশ্বাস, এই দুই ভাইয়ের হেফাজতে আরও অনেকের গুপ্তধন রয়েছে।

এলাকাবাসীর তথ্যানুযায়ী, ১৯৮৫ সাল থেকেই এনামুল ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ও রূপন আরামবাগ ক্লাবে জুয়া খেলতো। একটা সময় তারা জুয়ার বোর্ডের মালিক বনে যায়। সেখান থেকে আসতে থাকে কাঁচা টাকা। সেই টাকাতেই ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ফ্ল্যাট ও বাড়ি কেনা শুরু করে এনু-রূপন। গত ছয় থেকে সাত বছরে পুরান ঢাকায় বাড়ি কিনেছেন কমপক্ষে ১২টি। ফ্ল্যাট কিনেছেন ৬টি। পুরনো বাড়িসহ কেনা জমিতে গড়ে তুলেছেন নতুন নতুন ভবন। এই দুই ভাইয়ের মূল পেশা ছিল জুয়া।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৮ সালে এনু গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হন। আর রূপন পান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ। তাদের পরিবারের পাঁচ সদস্য, ঘনিষ্ঠজনসহ মোট ১৭ জন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগে পদ পান। তারা সরকারি দলের এসব পদ-পদবি জুয়া ও ক্যাসিনো কারবার নির্বি্েন চালানোর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।

এদিকে , এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার বাড়িতে সিন্দুক ভর্তি টাকা উদ্ধারের একদিন পর মামলা করা হয়েছে। টাকা গুণতে সময় লেগেছে বলে মামলা করতে এই দেরি বলে জানিয়েছেন র‌্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তারা। বন্দি থাকার মধ্যে মঙ্গলবার সকালে পুরান ঢাকার লালমোহন সাহা স্ট্রিটের তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সিন্দুকের মধ্যে থরে থরে সাজানো ২৬ কোটি টাকা ও স্বর্ণ উদ্ধারের কথা জানায় র‌্যাব। বুধবার রাতে ওয়ারী থানায় খবর নিতে গেলে কর্মকর্তারা বলেন, র‌্যাব বাদী হয়ে এনু ও রুপনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মুদ্রা ও স্বর্ণ পাচারের অভিযোগ এনে মামলাটি করছেন।

মামলায় দেরির বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব-৩ এর কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আবু জাফর বলেন, “থানা পুলিশ টাকা আবার গুনে বুঝে নিতে মামলায় বিলম্ব হয়।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ