বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

শনিবার বিক্ষোভ করবে বিএনপি  সরকারের ইচ্ছায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ --------রিজভী

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য জামিন আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় আগামীকাল শনিবার রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, সরকারের ইচ্ছায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করা হয়েছে। বিনা চিকিৎসায় খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের শোচনীয় পর্যায়ে নেয়ার চক্রান্ত চলছে। এ জন্য আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

জামিন না দেয়ার প্রতিবাদে শনিবার ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করে তিনি বলেন, নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুপুর ২টায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

লিখিত বক্তব্যে রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের আদেশের শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়েছে। এই খারিজ আদেশের মধ্য দিয়ে সরকারের হিংসাশ্রয়ী নীতিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটলো। সরকার মুক্তিপণ আদায়ের মতোই দেশনেত্রীকে অন্যায়-অন্যায্য ও সকল আইনী অধিকার লঙ্ঘন করে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। আর এই কারারুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে সরকার তাদের অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখার মুক্তিপণ আদায়ের মতোই আচরণ করছে। এই সরকারের আমলে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার পাওয়া সুদুর পরাহত। বিরোধী দলের অধিকার, গণতন্ত্রে পরমত সহিষ্ণুতা ও ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করে গোটা জাতিকে নি¤œমানের দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। 

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মালিকানা এখন আর জনগণের নেই। তা এখন অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারী যন্ত্রের হাতে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিপীড়ণ যন্ত্রে পরিণত করা হয়েছে। সুতরাং মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার আর কোন জায়গা নেই। সরকারের নেক নজরে পড়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের স্বাধীনতা ত্যাগ করে সরকারের দাসত্ব করাটাকেই সাফল্য মনে করছে। দেশনেত্রী বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা জনগণ বিশ^াস করে না। জনগণ বিশ^াস করে প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিকে নিশ্চিহ্ন করতে কারাগারে অন্তরীণ করেছে। তাই বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে সরকারপ্রধান হিংসা চরিতার্থ করতে টার্গেট করেছে। অর্থাৎ বিনা চিকিৎসায় দেশনেত্রীকে শোচনীয় দুর্দশায় উপনীত করার কৌশলী চক্রান্ত চালাচ্ছে। সেজন্য আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে তাদের সেই টার্গেট বাস্তবায়ন করছে। আদালতকে ব্যবহার করে গুরুতর অসুস্থ দেশনেত্রীর জামিন ও চিকিৎসা নিয়ে সরকারের ছিনিমিনি খেলার অপরিণামদর্শীতার মাশুল একদিন দিতে হবে। সরকারের ইচ্ছায় দেশনেত্রীর জামিন আবেদন খারিজ আদেশের সিদ্ধান্ত জাতিকে এক বিপজ্জনক জায়গায় ঠেলে দেয়ারই নামান্তর। 

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার জন্য জীবনভর সংগ্রাম করেছেন যে নেত্রী, সেই নেত্রীকে নিপীড়ণ-নির্যাতনের জন্য কারারুদ্ধ করে শাসকের অহমিকা এখন অত্যুগ্র মাত্রায়। সরকার দম্ভের সাথে সকলের মুখ বন্ধ করে দেশনেত্রীকে কারাগারে আটকিয়ে রাখতে আদালতের শরনাপন্ন হয়েছে। দেশনেত্রীর জামিনে বাধা দিয়ে সরকার মনের সাধ মেটালেও জনগণ এর উপযুক্ত জবাব অতিশীঘ্রই দিতে প্রস্তুত হচ্ছে।

সরকারের নির্দেশে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন খারিজের আদেশের আমি বিএনপির পক্ষে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোরশেদ আলম, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ