শুক্রবার ২৭ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

দিল্লীতে আগুনে মুসলিমদের  বাড়ি ঘর ভস্ম ॥ সহিংসতায়  এ পর্যন্ত নিহত ৩৭

 

মুস্তফাবাদের প্রধান সড়কগুলোর বেশিরভাগই প্রায় জনশূন্য, ঘোরাফেরা করছেন কিছু পুলিশ-সিআরপিএফ সদস্য। ১৪৪ ধারা জারি করায় কাউকে দেখামাত্রই গুলী করার অনুমতি রয়েছে তাদের। তবে অলিগলিতে স্থানীয়দের দেখা মিলছে কিছুটা। বাইরে দাঁড়িয়ে তারা সতর্ক নজর রাখছেন, যেন কেউ হামলা না চালায়। সবাই জানে এ দাঙ্গার পেছনে কারা আছে। আরএসএস-বিজেপিকে চপেটাঘাত করা এ ভারত নিয়ে আমি গর্বিত।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে প্রায় এক হাজার উগ্র জনতা বড় মসজিদের কাছের কলোনিতে প্রবেশ করে। তারা যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সেখানে ২০ জন মুসল্লি নামাজরত অবস্থায় ছিলেন। সেই পরিস্থিতির কথা বলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা খুরশির আলম। তিনি বলেছেন, “আমি মসজিদেই ছিলাম। আমরা তখন জীবন বাঁচাতে দৌড়ে বের হয়ে যাই।”

উগ্র জনতা ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ তৈয়ব জানান, দুপুর দেড়টার দিকে ওরা মসজিদের ছাদে উঠে ভারতের এবং গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করে। বুধবার সকালে স্থানীয়রা এগুলো সরিয়ে ফেলে। 

এদিকে শিব বিহারে উত্তেজিত হিন্দুত্ববাদীরা মুসলিমদের ওপর আক্রমণ চালাতে এলে দুই মুসলিম পরিবারের ২০ সদস্যকে আশ্রয় দিয়েছে সেখানকার হিন্দুরা।

হাসপাতাল ঘুরে এসে বিবিসি সাংবাদিকরা বলছেন যে, তারা গুলীবিদ্ধ ক্ষতসহ বিভিন্ন ধরণের আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভিড় করতে দেখেছেন। সংবাদদাতারা বলেছেন যে, হাসপাতালটিতে একধরণের ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। এবং আহতদের মধ্যে অনেকে "বাড়ি ফিরে যেতে খুব ভয় পাচ্ছেন।"

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দাঙ্গায় অংশ নেয়া বেশ কয়েকজনকে হাতে বন্দুক বহন করতে দেখা যায়। এবং ছাদ থেকে গুলী ছোঁড়া হয়েছে খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতালের কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন যে আহতদের অনেকের শরীরেই গুলীর ক্ষত রয়েছে।

আনন্দবাজার : এই জাফরাবাদ-মৌজপুর থেকেই শুরু হওয়া অশান্তিতে দিল্লীতে তিন দিনে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৪ ছুঁয়ে ফেলল। জোহরাপুরী-ভজনপুরায় নতুন করে দাঙ্গা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ লাগোয়া জোহরাপুরীতে পুলিশের সঙ্গেও দুষ্কৃতীদের সংঘর্ষ হয়েছে। রাতেও ভজনপুরা থেকে আটকে পড়া মানুষের ফোন এসেছে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে। গভীর রাতে ব্রহ্মপুরী ও মুস্তাফাবাদ থেকে খবর আসে, ফের অশান্তি শুরু হয়েছে। 

আহতের সংখ্যা ২০০ ছুঁইছুঁই। অনেকেরই মাথায় গুরুতর চোট। আহতদের অন্তত ৪৬ জনের শরীরে বুলেটের ক্ষত মিলেছে। 

আর একটি উদ্বেগজনক বিষয়, মুস্তাফাবাদ থেকে বেশ কিছু আহত এসেছেন হাসপাতালে। তাঁদের অনেকের চোখে অ্যাসিড ঢালা হয়েছে। দৃষ্টি হারিয়েছেন চার জন। খুরশিদ নামে এক জনের দু’চোখই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তেগ বাহাদুর হাসপাতাল থেকে লোকনায়ক জয়প্রকাশ হাসপাতালে আসার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সও পাননি তিনি। গিয়েছেন রিকশায়। দুই চোখ-সহ পুরো মুখ ঝলসে গিয়েছে ওয়কিলের। এ সব মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০০৩ সালের ‘গঙ্গাজল’ ফিল্মের কথা। অ্যাসিড দিয়ে চোখ গেলে দিয়ে পুলিশের বদলা নেয়ার ভয়াবহ কাহিনি সেটি। এটা স্পষ্ট, আগুন লাগানো, পাথরবাজি, গুলীর সঙ্গে ‘গঙ্গাজল (অ্যাসিড)’-এরও আয়োজন করা হয়েছে রীতিমতো আট ঘাট বেঁধে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আজ দিল্লী হাইকোর্টকে জানিয়েছেন, পুলিশকে অ্যাসিড হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে।

জাফরাবাদ-মৌজপুরে এখন শ্মশানের পরিস্থিতি। ফাঁকা রাস্তা জুড়ে পাথর, ইট, ভাঙা কাচ, ভাঙা লোহার রড। ভিতরের গলি থেকে আজও পাকিয়ে পাকিয়ে উঠছে কালো ধোঁয়া। মৌজপুরের গলির একটি দোকানে আগুন নেভেনি।

দিল্লী পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৮টি এফআইআর হয়েছে। ১০৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতদের নিকটাত্মীয়কে দু’লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। গত কালই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছিলেন, দাঙ্গায় মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণের কোনও প্রশ্নই নেই। গত দু’দিন যে-সব এলাকায় অশান্তি হয়েছিল, সেখানে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভাবে শান্ত থেকেছে।

‘জয় শ্রীরাম বলে মসজিদের হামলার সময় সামনেই পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল’ 

 বিবিসি: বুধবার দুপুরের পর বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা শুভজ্যোতি গিয়েছিলেন উত্তর-পূর্ব দিল্লীর জাফরাবাদ এলাকায় যেখানে সোমবার এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। বিস্তৃত এই এলাকাটিতে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। তাদের সিংহভাগই খেটে খাওয়া গরীব মানুষ।

জাফরাবাদের মেট্রো স্টেশনের কাছে মুস্তাফাবাদ এলাকায় একটি বাড়িতে গিয়ে শুভজ্যোতি দেখতে পান বাড়ির বৈঠকখানায় কয়েকশ মুসলিম, যাদের অধিকাংশই নারী এবং শিশু- তারা বাড়ি-ঘর থেকে পালিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের চোখে মুখে আতংক, অবিশ্বাস। 

পারভেজ নামে একজন মুসলিম ব্যবসায়ী উপদ্রুত লোকজনের জন্য তার বৈঠকখানাটি খুলে দিয়েছেন।

 সেখানে এক মাঝবয়সী এক নারী বলেন, কোথা থেকে হঠাৎ করে জয় শ্রীরাম হুঙ্কার দিয়ে শত শত 'গু-া' মুসলিমদের বাড়িতে হামরা চালায়। "তারা চিৎকার করছিল, মুসলমানদের খতম করে দেব। বাঁচতে দেবনা। তারা বলছিল পুলিশ তাদের কিছুই করতে পারবেনা।" শুভজ্যোতি দেখতে পান, অনেক বাড়িতে লোক নেই। মানুষজন পালিয়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। বহু মানুষ বলেছেন, সোমবার থেকে দুদিন ধরে চলা এই সহিংসতার সময় পুলিশ ছিল নিষ্ক্রিয়। "এই অভিযোগ আমি অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে শুনেছি। মুস্তাফাবাদের বাসিন্দারা বলছিলেন এলাকার ফারুকিয়া মসজিদ এবং মিনা মসজিদের যখন হামলা হচ্ছিল, তখন সামনেই পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল। তারা বাধা দেয়ার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেনি।"

গুজরাট দাঙ্গার স্মৃতি ফেরাচ্ছে দিল্লীর সংঘর্ষ : নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) পক্ষে-বিপক্ষে ছোটখাট সংঘর্ষ থেকে যার সূত্রপাত হয়ে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে পুরোমাত্রার ধর্মীয় সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। মসজিদ, বাড়ি, দোকান কোনেকিছুই বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সাংবাদিকদেরকে থামিয়ে তাদের ধর্ম জিজ্ঞেস করা হচ্ছে। আহত মুসলিমদেরকে জাতীয় সংগীত গাইতে বলা হচ্ছে, নির্দয়ভাবে পেটানো হচ্ছে। চার দিন ধরে রাজধানীতে চরম সহিংসতায় অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অথচ পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের এ ‘অপারগতা’ পরিকল্পিত কিনা- ঠিক যেমন অভিযোগ উঠেছিল ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার সময়। প্রশাসন ‘নিষ্ক্রিয়’ থেকে দিল্লীর সংঘর্ষ বাড়িয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। সহিংসতার চারদিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথম টুইটে শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন। দাঙ্গায় নিহতদের জন্য কোনো দুঃখ প্রকাশ করেননি তিনি।

দিল্লী পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অধীনে। দায়িত্বে আছেন অমিত শাহ। কাকতালীয়ভাবে, ২০০২ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তার মন্ত্রিসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এই অমিত শাহ-ই। ২০০২ সালের গুজরাটের সেই প্রেক্ষাপট ভেসে উঠছে অনেকের মনেই।

ওই বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি গুজরাটের গোধরায় সবরমতি এক্সপ্রেসে আগুন দেওয়ার পর থেকেই গোটা গুজরাট জুড়ে শুরু হয়েছিল হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষ। প্রায় তিন মাস ধরে চলা সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল ১০৪৪ জনের। নিহতদের ৭৯০ জন ছিলেন মুসলিম। হিন্দু ছিলেন ২৫৪ জন। গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদী দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেননি, উল্টে প্রচ্ছন্ন মদদ দিয়েছিলেন দাঙ্গায়। পুলিশ-প্রশাসনকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেননি বলে পরে অভিযোগ উঠেছিল। দিল্লীর এবারের সংঘর্ষেও ফিরে এসেছে সেই প্রশ্ন।

দিল্লী পুলিশকে তিরস্কার করেছে সুপ্রিম কোর্টও : অগ্নিগর্ভ রাজধানীতে লাফিয়ে লাফিয়ে মৃত্যুসংখ্যা বাড়তে থাকার জন্য দিল্লী পুলিশকে তিরস্কার করল ভারতের সুপ্রিম কোর্টও। আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, “দিল্লী পুলিশ স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারছে না এবং তাদের মধ্যে পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে” বলে মন্তব্য করেছে আদালত। বুধবার বিচারপতি কেএম জোসেফ বলেছেন, ‘‘বিচারব্যবস্থার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে বলছি, পুলিশের মধ্যে পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে। স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারছে না তারা। এটাই সমস্যার মূল কারণ। আইন মেনে কাজ না করে কেন অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের?’’

আরেকটি ১৯৮৪ হতে দেওয়া যাবে না, দিল্লী হাইকোর্ট : ১৯৮৪ সালে শিখ দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে দিল্লী হাইকোর্ট বলেছে, ‘‘আর একটা ১৯৮৪-র দাঙ্গা হতে দিতে পারি না আমরা।’’ যে দাঙ্গা ছড়িয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকে কেন্দ্র করে। ইন্দিরা গান্ধীর শিখ বিদ্রোহ দমনের প্রতিশোধ নিতে ওই বছরই দুই শিখ দেহরক্ষী তাকে গুলী করে হত্যা করে। ইন্দিরার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ জনতার বিশাল একটি অংশের ভেতর শিখদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে।

সহিংসতার পেছনে বিজেপি নেতাদের উস্কানি-হুমকি : দিল্লীতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই নাগরিকত্ব শংসোধনী আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলন নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করে আসছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতারা। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরও তা বন্ধ হয়নি। গত রোববার জাফরাবাদে পুলিশের সামনেই হুমকি দিয়েছেন বিজেপির এক নেতা। তিনদিনের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের অবস্থান না হটালে, তারা রাস্তায় নামবেন, তখন কেউ রুখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এরপর ওইদিন থেকেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে উত্তর-পূর্ব দিল্লীর একাধিক জায়গায়।

দিল্লীতে দাঙ্গার মধ্যে একজন বিচারপতির বদলি নিয়ে শোরগোল : ভারতের রাজধানীতে অব্যাহত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মধ্যে দিল্লী হাই কোর্টের একজন বিচারপতির বদলি নিয়ে বিতর্ক-সন্দেহ দানা বাঁধছে।

দিল্লী হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলীধর এবং আরেক বিচারপতির সমন্বয়ে একটি বেঞ্চ বুধবার দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে তিনজন বিজেপি নেতার - কাপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুর এবং প্রাভেশ ভার্মা - বিরুদ্ধে বিচার-বিভাগীয় তদন্তের এক আবেদনের শুনানি শুরু করেন। শুনানির সময় হাইকোর্টের ঐ বেঞ্চ অভিযুক্ত বিজেপি নেতাদের বক্তব্য-বিবৃতির ভিডিও শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দিল্লী পুলিশকে নির্দেশ দেন। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই সরকার তাকে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলির নোটিশ ইস্যু করে।

কংগ্রেস নেতা মনিশ তিওয়ারি বলেন, দিল্লীতে মানুষের জীবন রক্ষার স্বার্থে গভীর রাতে তার বাড়িতে যে বিচারক শুনানি করেছেন তাকে রাতারাতি বদলি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত বোধগম্য নয়।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অভিষেক সাংভি টুইটারে তার ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন - আমার সারা জীবনের আইন পেশায় এমন ঘটনা দেখিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ার অনেক মানুষ বিচারপতি মুরলীধরের এই বদলি নিয়ে কথা বলছেন।

রুচিরা চতুর্বেদী নামে একজন টুইটারে লিখেছেন - যারা সহিংসতায় উস্কানি দিচ্ছে, সরকার তাদের রক্ষার চেষ্টা করছে। 'মহারাজ নাঙ্গা হয়ে পড়েছেন।' ভারতের আইনমন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ বলেছেন, বিচারপতি মুরলীধরের বদলি একটি 'রুটিন কাজ।, এবং সুপ্রিম কোর্টের সুপারিশেই তা করা হয়েছে।

উত্তর প্রদেশের আগ্নেয়াস্ত্র ও ভাড়াটে বাহিনী ব্যবহার করে দিল্লীতে সহিংসতা!: দিল্লীতে হিন্দুত্ববাদীদের তা-বে আহত বহু মানুষ এখন হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন। এদের কেউ কেউ গুলীবিদ্ধ হয়েছে। কেউ কেউ আবার ধারালো অস্ত্র, পাথরের আঘাত বা পুড়ে যাওয়া ক্ষত নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। আহত এসব ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘবদ্ধ হামলাকারীরা দেশীয় পিস্তল, তলোয়ার, হাতুড়ি, লাঠি ও বড় বড় পাথর নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশের ধারণা দিল্লীর তা-বে উত্তর প্রদেশ থেকে আনা দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন মুখোশধারী হামলাকারীও হিন্দুস্থান টাইমসকে জানিয়েছে যে তারা উত্তর প্রদেশ থেকে দিল্লীতে এসেছে। সহিংসতায় আহতদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা নিচ্ছে গুরু ত্যাগ বাহাদুর হাসপাতাল ও জগ পারভেশ চন্দ্র হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত নিহত ২৭ জনের ১৪ জনই গুলীবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগর ও শামলির মতো এলাকা থেকে দিল্লীতে এসে হামলায় অংশ নিয়েছে অনেকে। দিল্লীর জাফরাবাদের মধ্যমসারির এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘দিল্লী-উত্তর প্রদেশ সীমান্তের অংশ বিশেষ রবিবারই (২৩ ফেব্রুয়ারি) বন্ধ করে দেয়া উচিত ছিলো। ৪০ ঘণ্টারও বেশি তা-ব চলার পর শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই সীমান্ত বন্ধ করা হয়েছে। সীমান্ত বন্ধ করার পর প্রথম দিনে তা-ব আর বাড়েনি। দিল্লীতে ব্যবহৃত হওয়া সব অবৈধ পিস্তল বাইরে থেকে আনা হয়েছে’।

৬ মুসলিম প্রতিবেশীকে বাঁচিয়ে নিজেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন প্রেমকান্ত : দিল্লীতে হিন্দুত্ববাদী বিদ্বেষের উত্তাপে জন্ম নেওয়া আগুন থেকে মুসলিম প্রতিবেশীদের সুরক্ষা দিতে গিয়ে নিজেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন প্রেমকান্ত বাঘেল নামের এক ব্যক্তি। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৩৭ জন মুসলিম প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন প্রায় ২০০। তবে এরমধ্যেই প্রেমকান্ত মুসলিম প্রতিবেশীকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। প্রাণ বাঁচিয়েছেন ৬ জনের। তবে উগ্রবাদীদের সঙ্গে লড়াইয়ে মারাত্মক আহত হয়েছেন তিনি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ