বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ

 

স্টাফ রিপোর্টার: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করানোর জন্য যাওয়ার দাবিতে জামিন চেয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদেশে আদালত বলেন, তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামী, চাইলেও সাধারণ নাগরিকের মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব না। তা ছাড়া আমরা এর আগে হাইকোর্টে জামিন আবেদন খারিজ করেছিলাম। এবারের জামিন আবেদনে নতুন কোনো গ্রাউন্ড নেই। তাই জামিন আবেদন খারিজ করা হলো।

তবে, খালেদা জিয়া চাইলে মেডিকেল বোর্ডকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তিনি চাইলে বোর্ডে নতুন কোনো চিকিৎসককেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।

রাষ্ট্রপক্ষ, আসামী ও দুদকের শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে গতকাল খালেদার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

এ মামলায় খালেদার জামিন আবেদন নাকচ করে গত ১২ ডিসেম্বর এক আদেশে আপিল বিভাগ বলেছিল, বিএনপি চেয়ারপারসনের সম্মতি থাকলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দ্রুত ‘অ্যাডভানসড ট্রিটমেন্ট’ দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা দুই মাসের মাথায় নতুন করে জামিন আবেদন করার পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার প্রতিবেদন দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতি নির্দেশনা চান হাই কোর্টের কাছে।

এই প্রেক্ষাপটে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি করে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের ভিসিকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসা নিতে খালেদা জিয়া সম্মতি দিয়েছেন কি না, দিয়ে থাকলে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে কি না, শুরু হয়ে থাকলে সর্বশেষ কী অবস্থা- তা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে আদালতকে জানাতে বলা হয়।

সে অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের পাঠানো প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল। পরে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক তা পড়ে শোনান।

সেখানে বলা হয়, খালেদা জিয়া উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা ও প্রতিস্থাপনজনিত হাঁটুর ব্যথায় (অস্টিও-আর্থরাইটিস) ভুগছেন। অন্য সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অস্টিও-আর্থ্রাইটিসের ‘অ্যাডভানসড ট্রিটমেন্ট’ শুরুর বিষয়ে তিনি সম্মতি দেননি। এমনকি সেই চিকিৎসার জন্য যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার, সেগুলোও করা যাচ্ছে না।

এরপর বেলা ২টায় জামিন আবেদন খারিজের আদেশ দিয়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, যে প্রতিবেদনটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া হয়েছে, সেখানে বিস্তারিতভাবে রোগের বিবরণ দেওয়া আছে এবং চিকিৎসার একটি পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া তার চিকিৎসার জন্য সম্মতি দেননি। যেহেতু বেগম খালেদা জিয়া তার চিকিৎসার জন্য এখন পর্যন্ত সম্মতি দেননি, তাই উন্নত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, আমরা নতুন এই আবেদনে জামিনের নতুন কোনো কারণ দেখছি না। তাই এই আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করা হলো।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদ- পেয়ে বন্দী হন খালেদা জিয়া। সরকারের আপিলের পর হাইকোর্টে যা বেড়ে ১০ বছর হয়। পরে ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে খালেদা জিয়া জামিন আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন এখনো আদালতে উপস্থাপন করেননি তার আইনজীবীরা।

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান (বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি) জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদ- দেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ- দেওয়া হয়। একই সাজা হয়েছে মামলার অন্য তিন আসামীরও।

দ-প্রাপ্ত অন্য তিন আসামীরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র পরলোকগত সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এরপর ওই বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। পরে গত বছরের ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের দ-ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অর্থদ- স্থগিত ও সম্পত্তি জব্দ করার ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে দুই মাসের মধ্যে ওই মামলার নথি তলব করেছিলেন হাইকোর্ট।

এরপর গত ২০ জুন বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে ৩১ জুলাই বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে জামিন চান খালেদা জিয়া। এ আবেদনের শুনানির পর ১২ ডিসেম্বর সেটিও খারিজ হয়ে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ