সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

ইসরাইলি বুলডোজারে পিষ্ট ফিলিস্তিনি প্রকৌশলীর লাশ ফিরে পেতে মায়ের আকুতি

২৫ ফেব্রুয়ারি, আল-জাজিরা, আনাদুলো : পশ্চিমাঞ্চলীয় খান ইউনিসে আল-নাঈম পরিবারের বসতি। ২৭ বছর বয়সী এই প্রকৌশলীর স্বজনরা জড়ো হয়েছেন। রোববার দখলদার ইসরাইলি বাহিনী তাকে গুলি করে হত্যা করেছে।

তার মা ৫৬ বছর বয়সী মিরভাত বলেন, আমার সন্তানের কোনো তুলনা হয় না। সে আমার কাছে ছিল সব কিছু। তার হৃদয়টা ছিল দয়ালু, ধার্মিক ও নৈতিক। তার এই হত্যাকাণ্ড আমরা মেনে নিতে পারছি না।-খবর আল-জাজিরার

তার বিরুদ্ধে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযোগ ছিল, অবরুদ্ধ গাজার সীমান্তে তিনি বোমা পুঁতে রাখার চেষ্টা করেছেন।

স্থানীয় সাংবাদিকরা সেই ঘটনার ভিডিও দৃশ্য ধারণ করেন, যা সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মোহাম্মদ নাঈমের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা। ঠিক তখনই একটি ইসরাইলি বুলডোজার চলে আসে।

গুলির শব্দে লোকজন সেখান থেকে চলে যান। পরে বুলডোজার সেই লাশ তুলে নিয়ে ইসরাইলের ভেতরে চলে যায়।

মুহাম্মাদ নায়িমের স্ত্রী হিবাও আকুতি জানিয়ে বলেন, আমাদের দেড় বছর আগে বিয়ে হয়েছে। এক বছরের কম বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

ছোট্ট শিশুটি তার বাবাকে ছাড়া কিভাবে বড় হবে? তিনি আরও বলেছেন, তার স্বামী প্রকৌশলী ছিলেন। তার আয়েই সংসার চলত। তার স্বামীর মতো দয়ালু মানুষ আর হয় না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে চোখ হারাতে বসছেন ফিলিস্তিনি এক শিশু।

গত সপ্তাহের শেষে আট বছরের ফিলিস্তিনি শিশু মালিক ইসাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দখলদার রাষ্ট্রটির এক পুলিশ সদস্য। এতে শিশুটির বাম চোখে মারাত্মক আঘাত লাগে। পরে চিকিৎসকরা মালিক ইসার বাম চোখটি সরিয়ে ফেলেন।

গত সপ্তাহের শেষে ফিলিস্তিনি রাজধানী অধিকৃত জেরুজালেমের আল-ইসাওয়াইয়া শহরে মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে।

ফিলিস্তিনের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আল কুদস জানায়, অমানুষিক এ ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি পুলিশের কোন বিবৃতি বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কোনো কারণ ছাড়াই স্কুল থেকে ফেরার পথে শিশুটির ওপর কেন রাবার বুলেট ছোড়া হল- এবিষয়ে কারও পরিস্কার ধারণা নেই।

বেসরকারি একটি ইনফরমেশন সেন্টারকে মালিক ইসার পিতা বলেন, এই ঘটনায় আমরা ভেঙে পড়েছি। ডাক্তার মালিকের বাম চোখ ফেলে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আর এটা ছাড়া আমাদের সামনে ভিন্ন কোন উপায়ও নেই।

তিনি বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চোখটি অপসারন না করলে আরও ভয়ঙ্কর কিছু ঘটার আশঙ্কা রয়েছে- যে সমস্যা পরে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম আনাদলু আরবির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শিশুটির ডান চোখের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। মস্তিষ্কে সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সেটাও অপসারন করা লাগবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে মালিক ইসার পিতা চিকিৎসককে অনুরোধ করেছেন যেভাবেই হোক অন্তত যেন অক্ষত রাখা যায়। কিন্তু তার এই অনুরোধ চিকিৎসক রাখতে পারবেননা বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

দৃষ্টি হারানোর ভয়ে শিশু মালিক ইসা শুক্রবার সারারাত না ঘুমিয়ে কেঁদেছেন বলেও তার পিতা জানান।

‘হামলার সময় মালিকের সঙ্গে তার অন্যান্য বোনেরাও ছিল। অল্পের জন্য তারা রক্ষা পেয়েছে ঠিকই, তবে তাদের সবাই মারাত্মক মানসিক আক্রান্তের শিকার হয়েছে। তাদেরও চিকিৎসা প্রয়োজন। আসলে এই হামলা আমাদের পুরো পরিবারকে মানসিকভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।’ বলছিলেন ইসা মালিকের পিতা।

প্রসঙ্গত, বিগত দুই বছর যাবত ইসরাইলি পুলিশ কর্তৃক ধারাবাহিক হামলার নানা অভিযোগ করে আসছেন আল-ইসাওয়াইয়া শহরের বাসিন্দারা। তাদের দাবি, ঘরবাড়ি গুড়িয়ে দেয়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস ও পুরুষদের বিনা অপরাধে গ্রেফতারসহ ইসরাইলি বাহিনী তাদের ওপর অমানবিক অত্যাচার করে চলছে প্রতিনিয়ত। দখলদারদের হামলার শিকার হয়ে অনেক ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন বলেও জানান তারা।

আল-ইসাওয়াইয়ার জনসংখ্যা আনুমানিক ৩০ হাজারের বেশি। শহরটি অধিকৃত জেরুজালেমের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ শহর হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ