বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

বিজেএমসির প্রায় আড়াইশ ক্রীড়াবিদ চাকরি হারালেন

স্পোর্টস রিপোর্টার : বাংলাদেশ পাটকল করর্পোরেশনের (বিজেএমসি)চাকরি হারালেন ক্রীড়াবিদরা।আর্থিক সংকটের কারনেই নাকি ১৮০০ অস্থায়ী কর্মচারী-কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল করেছে প্রতিষ্টানটি।যার মধ্যে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের প্রায় আড়াইশ ক্রীড়াবিদ রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই  ক্রীড়াঙ্গনে বিশাল অবদান রেখে আসছিল প্রতিষ্টানটি। বর্তমানে বিজেএমসি এগারোটি ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়ে আসছে। সরকারী এই প্রতিষ্টান জন্ম দিয়েছে বহু স্বনামধন্য ক্রীড়াবিদ, যারা দেশের বাইরেও জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে ধরেছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই দুঃসংবাদ এ প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়াবিদদের। জানা গেছে,বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে ২৬৭ জন ক্রীড়াবিদ হাজিরা কার্ডে (অস্থায়ী ভিত্তিতে) চাকরি করতেন এ প্রতিষ্ঠানে। তাদের মধ্যে প্রায় আড়াইশজনের চাকরি নেই।অর্থ সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ফুটবলে দল গঠন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গতবছর। তখনই চাকরি হারানোর শঙ্কায় পড়েছিলেন বিজেএমসি নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা।

স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন দাপটের সঙ্গে ফুটবল খেলা বিজেএমসি মাঝে হারিয়ে গিয়েছিল। ২০১১ সালে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আরিফ খান জয় বিজেএমসির পরিচালক হিসেবে যোগ দেয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিকে ফুটবলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন এবং দলগঠন করে ২০১২ মৌসুমে সরাসারি অংশ নেয় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে। দেশের শীর্ষ পর্যায়ে ৭ মৌসুম খেলে আবার তারা মুখ ফিরিয়ে নিলো ফুটবল থেকে।বিজেএমসি গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন হয়ে যায়। তার আগেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অর্থ সংকটের কারণে ফুটবলে আর দল গঠন করবে না। ২০১৯ সালের ২০ মে বিজেএমসির বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল- আর্থিক সংকটের কারণে পরবর্তী মৌসুম হতে তাদের অর্থায়নে ‘টিম বিজেএমসি’র ফুটবল পরিচালনা সম্ভব নয়।বিজেএমসি তাদের এই সিদ্ধান্ত চিঠি দিয়ে বাফুফেকে জানিয়ে দিয়েছিল গত বছরের ৩০ জুলাই। তৎকালীন সচিব একেএম তারেক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিজেএমসি বলেছিলেন, ‘আগামীতে স্পন্সর পেলে তারা ফুটবলের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

প্রতিষ্ঠানটি অর্থ সংকট দেখিয়ে তার মধ্যে প্রায় আড়াইশ জনের মতো ক্রীড়াবিদের হাজিরা কার্ড বাতিল করেছে। ইতিমধ্যে সেই সিদ্ধান্ত তাদের বিভিন্ন মিলে পাঠিয়েও দেয়া হয়েছে। দুই একটি ছাড়া প্রায় সব মিলই হাজিরা কার্ডে বেতন পাওয়া ক্রীড়াবিদদের টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। যেসব মিল এখনও সিদ্ধান্ত পায়নি তাদের অধীনে থাকা ক্রীড়াবিদদরা ফেব্রুয়ারিতে সাপ্তাহিক বেতন পেয়েছেন।বিজেএমসিতে মূলত মেয়েদের দলই বেশি। হ্যান্ডবল, ভলিবল, কাবাডি ডিসিপ্লিনে শুধু মেয়েদের দল ছিল তাদের। সাইক্লিং, অ্যাথলেটিকস, জিমন্যাস্টিক, তায়কোয়ানদো, উশু, ভারোত্তোলন ও ফুটবলে ছিল নারী ও পুরুষ উভয় দল।এদিকে আগামী ১ থেকে ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস হবে। বিজেএমসি ১১ ডিসিপ্লনে খেলবে বলে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু তারা এখন দল কিভাবে গঠন করবে তা নিয়ে শংকা তৈরি হয়েছে।

হাজিরা কার্ড বাতিল হওয়া এক নারী ক্রীড়াবিদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার খেলাধুলায় বিশাল অবদান রেখে আসছে। বিশেষ করে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়াবান্ধব ব্যক্তিত্ব। মেয়েদের খেলার বিষয়ে তিনি সব সময় উৎসাহ দিয়ে থাকেন। অথচ এ সময়ে আমরা চাকরি হারালাম। বিজেএমসিতে সবই ঠিক আছে, চাকরি গেলো শুধু ক্রীড়াবিদদের।’এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রউফ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা ১৮০০ অস্থায়ী কর্মচারী-কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল করেছি। এর মধ্যে আড়াইশ’র মতো ক্রীড়াবিদও পড়ে গেছেন। আমাদের কী করার আছে? তবে আমাদের খেলাধুলার বিষয়ে অনেক নজর আছে। আমরা এ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এপ্রিলে অনুষ্ঠিতব্য বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসের জন্য আমরা প্রায় একশ ক্রীড়াবিদকে নতুন করে নিয়োগ দেবো। যারা ভালো করবে তাদের ব্যাপারে আমার ইতিবাচক ভাববো।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ