রবিবার ১২ জুলাই ২০২০
Online Edition

করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ২০০০ ছাড়ালো

১৯ ফেব্রুয়ারি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট : চীনে আরও ১৩৬ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নতুন করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

তবে নতুন রোগীর সংখ্যা আরও কমে আসায় ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আসার আশা দেখছেন চীনা চিকিৎসকরা।

গত ডিসেম্বরের শেষে নতুন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর মঙ্গলবারই প্রথম নতুন রোগীর চেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যা ছিল বেশি।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মূল ভূখ-ে আরও ১ হাজার ৭৪৯ জনের শরীরে নতুন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।  আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ হাজার ৮২৪ জন।

সব মিলিয়ে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ১৮৫ জনে। আর অন্তত ২৮টি দেশ ও অঞ্চলে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

সোমবার চীনে মোট ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে নতুন এ করোনা ভাইরাসে, এর মধ্যে হুবেই প্রদেশেই মারা গেছেন ১৩২ জন। তাতে চীনের মূল ভূখ-ে নতুন করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২০০৪ জনে।

হংকংয়ে  নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দ্বিতীয় ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বুববার। তাতে চীনের মূল ভূখ-ের বাইরে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ছয়জনে। আর সব মিলিয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২০১০ জনে।

মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। নিউমোনিয়ার মত লক্ষণ নিয়ে নতুন এ রোগ ছড়াতে দেখে চীনা কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

ঠিক কীভাবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। তবে ধারণা করা হচ্ছে, উহানের একটি সি ফুড মার্কেটে কোনো প্রাণী থেকে এ ভাইরাস প্রথম মানুষের দেহে আসে। তারপর মানুষ থেকে ছড়াতে থাকে মানুষে।

সার্স ও মার্স পরিবারের সদস্য নতুন এ করোনা ভাইরাসের নাম দেওয়া হয়েছে নভেল করোনা ভাইরাস। আর এর সংক্রমণে ফ্লুর মত উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে উহানসহ কয়েকটি শহর গত জানুয়ারি থেকেই কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এ সপ্তাহের শুরুতে পুরো হুবেই প্রদেশে যানবাহন চলাচলের ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

জরুরি সেবার গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো ধরনের যানবাহন বের না করতে বলা হয়েছে বাসিন্দাদের। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কলকারাখানা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

চীন চিকিৎসকরা বলছেন, এই কড়াকড়ির ফলেই কমে আসছে নতুন সংক্রমণ। হুবেইয়ের বাইরে অন্য এলাকাগুলোতে নতুন রোগীর সংখ্যা গত ১৫ দিন ধরেই কমছে। 

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা ঠিক হবে না।

করোনা ভাইরাস আতঙ্কের মাঝে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকা সেই প্রমোদতরীর প্রায় ৫০০ আরোহী জাহাজ থেকে তীরে নামা শুরু করেছেন। ডায়মন্ড প্রিন্সেসে এতদিন আটকে থাকা ৫০০ যাত্রীই সুস্থ, তাদের কারও মধ্যে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েনি।

প্রমোদতরীটিতে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এর যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল।

বুধবার প্রমোদতরীটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ ও জাপানি কর্মকর্তারা ‘অল ক্লিয়ার’ ছাড়পত্র পাওয়া যাত্রীদের জাহাজ ছেড়ে নেমে আসার অনুমতি দেন।

যাত্রীদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের কোনো আলামত না পাওয়ায় বুধবার থেকে তাদের নামার অনুমতি দেয়া হয়। তারা জাহাজ থেকে নামতে শুরু করেছেন। এতদিন পর গন্তব্যে যাওয়ার অনুমতি মেলায় যাত্রীরা খুশি।

ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ডায়মন্ড প্রিন্সেস থেকে হংকংয়ে নেমে যাওয়া ৮০ বছর বয়সী এক যাত্রী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রমোদতরীটিকে ইয়োকোহামা বন্দরে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এর পর থেকে প্রমোদতরীর প্রায় ৩ হাজার ৭০০ যাত্রীর মধ্যে অন্তত ৫৪২ জন ভাইরাসটির সংক্রমণের শিকার হন। সংখ্যার দিক থেকে চীনের মূলভূখ-ের বাইরে এই জাহাজটিতেই সবচেয়ে বেশি লোক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন।

আক্রান্তদের শনাক্তের পর জাহাজ থেকে নামিয়ে নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়। জাহাজটির আরও কিছু যাত্রীর শরীরে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া না গেলেও তারা আক্রান্তদের সঙ্গে একই কেবিনে থাকায় তাদের আরও কিছুদিন কোয়ারেন্টিন রাখা হবে।

ডায়মন্ড প্রিন্সেস যাত্রী হয়েছিলেন বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশের লোক। এই জাহাজটি বিশ্বব্যাপী সংক্রমণ ছড়ানোর উৎস হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

জাহাজে কোয়ারেন্টিন অবস্থার কঠিন পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন যাত্রীরা। প্রথমে তাদের নিজ নিজ কেবিনে পৃথক অবস্থায় থাকতে হয়, পরে তাদের জাহাজের ডেকে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়। চীনের উহান শহর থেকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি। ভাইরাসটি বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে চীনেই দুই হাজার চারজন মারা গেছেন। আর বিশ্বে মারা গেছেন দুই হাজার ৯ জন। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরেও বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ