শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

হাজার বছরের পুরোন মসজিদ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা : হাজার বছরের পুরোন স্থাপত্য। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের দেওগাঁও দক্ষিণ পাড়ায় প্রাচীনতম এই মসজিদ সম্রাট আকবরের শাসনামলে ১২৩০ খ্রিষ্টাব্দে শেখ মোঃ মহসিন নামে এক দানশীল ব্যক্তি সংস্কার করেন। সংস্কারের সময় স্থাপিত শিলালিপি থেকে হিসাব করলে জানা যায় পৌনে ৯শ' বছর আগে তা সংস্কার করা হয়েছে। অতএব এর নির্মাণ আরও বহু বছর পূর্বেই। হাজার বছর পুরোন এই মসজিদকে ঘিরে আজও এলাকার মানুষের মধ্যে রয়েছে কৌতূহল। প্রাচীনতম এই মসজিদে দূর দূরান্ত থেকেও মানুষজন আসে নামাজ আদায় করার জন্য। সরেজমিনে দেখা যায়, চিকন ইটের মধ্যে চুনাবালি দিয়ে প্রায় ৩০ ইঞ্চি দেয়ালের উপর নির্মিত এ মসজিদটি ২২*২২ হাত পরিমাপে ১ কেয়ার জমির উপর অবস্থিত মসজিদটির মূল ভবন। এর মধ্যে ১০*২২ হাত পরিমাপে মূল মসজিদ এবং ১২ হাত রয়েছে বারান্দা । প্রথমে মসজিদটি ১তলা বিশিষ্ট হলেও আজ থেকে প্রায় ৮০ বৎসর পূর্বে স্থানীয় জনগণ নিচ তলায় মাটি খুঁরে সমমাপের ২টি কক্ষ বাহির করে। বর্তমানে মসজিদের উপর তলায় ২টি ও নিচতলায় ২টি কক্ষ রয়েছে। মসজিদের দক্ষিণ দিক দিয়ে দোতলায় উঠার সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ২০ বছর পূর্বে। ৩ গম্ভুজ বিশিষ্ট মসজিদটি দেখতে তেমন চাকচিক্য না হলেও তার নির্মাণ কৌশল নজর কারার মত। বর্তমানে মূল কক্ষটি বাদে ২য় তলার বারান্দায় স্থানীয় জনগণ টিন দিয়ে চাল নির্মাণ করেছে। প্রাচীনতম এই মসজিদে নামাজ আদায় করে দেওগাঁও সহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ। তবে সংস্কারের অভাবে নিচ তলার কক্ষগুলোতে বর্তমানে আর নামাজ আদায় করা হয় না। মসজিদটির উন্নয়নের জন্য জুলেখা খাতুন নামে এক মহিলা গত বছর ২ কেয়ার জমি দান করেছেন। এছাড়াও মসজিদের সম্পত্তি হিসেবে আরও ৬ কেয়ার জমি রয়েছে। এই জমির আয় দিয়েই ইমাম-মোয়াজ্জিন ও মসজিদের খরচ মেটানো হয়। তবে প্রাচীন এই নিদর্শন টিকিয়ে রাখার জন্য এবং এর উন্নয়ন বা সংস্কার কল্পে আজ পর্যন্ত কোন সরকারী সাহায্য পাওনা যায়নি বলে জানিয়েছেন, স্থানীয় মুসল্লিরা। অবশ্য মসজিদের উত্তর পার্শ্বে সৌদি সরকারের একক অনুদানে প্রায় ১০ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫০ন্ড৩০ ফুট আয়তনের মসজিদের নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর উত্তর পার্শ্বে রয়েছে ৩ কেয়ার জমির উপর নির্মিত স্থানীয় ঈদগাহ। যা তৎকালীন সময়ে জমিদারের কারাগার ছিল বলে স্থানীয় জনগন জানিয়েছে। ঈদগাহর উত্তর পার্শ্বে বিশাল পুকুরটি সবার নজর কারে। যা জমিদারদের নির্দশন বহন করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ