শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে নানা সমস্য\ পাঠদান ব্যাহত

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা : মাধবপুর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় ২২ হাজার শিশু অন্তত প্রাথমিক শিক্ষা থেকেও হচ্ছে বঞ্চিত। ম্যানেজিং কমিটির অব্যবস্থাপনা, শিক্ষক সংকট, শিক্ষা উপকরণসহ শ্রেণী কক্ষের অপ্রতুলতা, প্রভৃতি সমস্যা রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার শিক্ষার হার শতকরা ৪২.১২। হবিগঞ্জ জেলার মধ্যে শিক্ষার এ হার তুলনামূলক ভাল হলেও সমগ্র দেশের তুলনায় তা মোটেও সন্তোষজনক নয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, মাধবপুর উপজেলায় স্কুল গমনোপযোগী শিশু মোট ৪৬,০৮৭জন। কিন্তু ভর্তির হার শতকরা ৯২.২০ হলেও ঝরে পড়ার হার শতকরা ২০-২৪ ভাগ। উপজেলার সর্বমোট ১৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সরকারী বিদ্যালয় রয়েছে ৯৭টি, আনরেজিস্টার্ড বেসরকারী বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০টি, রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৩৬টি, ৯টি কমিউনিটি বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্টেন ২২টি এবং অন্যান্য ৪টি। আর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২২টি যার ১টি সরকারি ও ১টি গার্লস। উপজেলায় কলেজ রয়েছে ৪টি এবং মাদরাসা ৫টি। এমনিতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এ সংখ্যা ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ২৮৮ টি গ্রামের প্রায় ২,৯১,২৩৫ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই উপজেলার জন্য নিতান্তই নগণ্য। তার উপর নানা সমস্যায় জর্জরিত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাধবপুর উপজেলায় শিক্ষাপ্রসারে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারছে সচেতন মহলে তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার জগদীশপুর ইউপি'র খড়কী পশ্চিম অঞ্চলের নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন থাকলেও উপজেলাতে বানেশ্বর ইউপি'র নয়াতিশপুর (ঘাগড়াবাড়ী), শাহজাহানপুর ইউপি'র নাজিরপুর, জগদীশপুর ইউপি'র রসুলপুর, শ্যামপুর ও বৈকন্ঠপুর বাগানের মত এরকম অনেক জনবহুল গ্রামে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ভাঙ্গারপাড় রাজাপুর এলাকার বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ৭ বৎসর যাবৎ বন্ধ রয়েছে। যে কারণে ওই এলাকার স্কুলগমনোপযোগী ছেলেমেয়েরা বঞ্চিত হচ্ছে অন্তত প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণেরও সুযোগ থেকে। সম্প্রতি সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের পদ সংখ্যা বৃদ্ধি করে মাধবপুর উপজেলায় মোট ৯৬জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করে। ইতিমধ্যে তাদের প্রায় ৯০জন কর্মস্থলে যোগদান করেন। নতুন নিয়োগকৃতদেরসহ মাধবপুর উপজেলায় সরকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাদের পদ রয়েছে ৫৯৪টি। তবে বর্তমানে ৫৭১জন কর্মরত থাকায় ২৩টি পদ খালি রয়েছে। তন্মধ্যে ৩২জন শিক্ষক পি.টি.আইতে রয়েছেন আর ডেপুটেশনে রয়েছেন অনেক শিক্ষক/শিক্ষিকাগণ । তাছাড়া কর্মরত শিক্ষক/শিক্ষিকাদের মধ্যেও অনেকেই পাঠদানে নিয়মিত নন বলে অভিযোগ অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের। ম্যানেজিং কমিটি গঠনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার কারণে তদারকির অভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। এছাড়া উপজেলার ২২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দ্বারা দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসছিল বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম। দৈনিক সংগ্রাম সহ বিভিন্ন পত্রিকায় এ ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশের পর সম্প্রতি বেশক'টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলেও প্রেমদাময়ী বালিকা, মাধবপুর পাইলট, ছাতিয়াইন, আউলিয়াবাদ, শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়গুলোসহ' ৬টি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিয়োগদান এখনও প্রক্রিয়াধীনই রয়েগেছে। এমতাবস্থায় উপজেলার উক্ত বিদ্যালয়গুলোসহ অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোর সুষ্ঠু শিক্ষাদান কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে মাধবপুর পৌরসদরের সন্নিকটে অবস্থিত সৈয়দ সঈদ উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ সহ মনতলা শাহজালাল কলেজ, ধর্মঘর কলেজ, চৌমুহনি খুর্শিদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজকেও নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার ভেতরে চালিয়ে যেতে হচ্ছে তার শিক্ষা কার্যক্রম। সরেজমিনে দেখা যায়, চৌমুহনি খুর্শিদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ১৭জন শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে নিয়োগ রয়েছে মাত্র ৪জনের। তবে আরো ১১জন খন্ডকালীন শিক্ষক দ্বারা পাঠক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কলেজটি। মাধবপুর সৈয়দ সঈদ উদ্দিন কলেজের বাংলা, ইংরেজী, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, কম্পিউটার শিক্ষক ও গ্রন্থাগারিকের পদ শূন্য রয়েছে বহুদিন ধরেই। এছাড়া ধর্মঘড় কলেজের অধ্যক্ষ এর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রইচ আলী পরিচালনা করছেন কলেজটি। উক্ত কলেজের প্রায় পাঁচশতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র ১৩ জন শিক্ষকের পদ কিন্তু তার মধ্যেও ৩টি পদ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে শূন্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ