শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

স্বর্ণালংকার কারখানার নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) : হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসদরের বনিক পট্টি এলাকাসহ বাজারের বিভিন্ন স্বর্ণালংকারের কারখানাগুলো থেকে নির্গত হচ্ছে বিষাক্ত ধোঁয়া। আর দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। সরেজমিন দেখা যায়, মাধবপুর পৌরসদরের বিভিন্ন এলাকাসহ বনিক পট্টিতে রয়েছে প্রায় শতাধিক স্বর্ণালংকারের শোরুম, দোকান ও কারখানা। এসব কারখানায় স্বর্ণ গলানোর কাজে ব্যবহার করা হয় বিষাক্ত গ্যাস ও এসিড। এসব এসিড তরল অবস্থায় ব্যবহার করা হলেও তা গ্যাস রূপেই নির্গত হচ্ছে। অথচ উন্মুক্তভাবে এ বিষাক্ত গ্যাস নির্গমনে এসব কারখানায় নেই কোন পরিকল্পিত ব্যবস্থা। ফলে একদিকে যেমন এ গ্যাস ছড়িয়ে বাতাসে মিশে মাধবপুরের পরিবেশ হচ্ছে দূষিত অপরদিকে এসব কারখানায় নিয়োজিত শ্রমিকদের উপর পড়ছে বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব। তারা আক্রান্ত হচ্ছে ক্যান্সারসহ নানা ধরনের রোগে। মাধবপুর পৌর সদরের দু'একটি স্বর্ণালংকার কারখানাতে যদিও পাইপ লাইনের সাহায্যে ধোয়া ও গ্যাস নির্গমনের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কিন্তু কম উচ্চতায় এবং বাজারের আবাসন এলাকায় হওয়ায় মাধবপুরের আবহাওয়ায় সেগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব বরং আরও বেশি পড়ছে বলে ধারণা মাধবপুর বাজারের অনেক বাসিন্দার। পাইপ লাইনগুলো দিয়ে কারখানাগুলোর নির্গত ধোয়ায় সকাল-বিকাল বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বনিক পট্টিসহ মাধবপুর বাজারের অধিকাংশ আকাশ ধোয়াচ্ছন্ন দেখা যায়। তাছাড়া এ উন্মুক্ত পাইপগুলোর পাশেই বেশকটি উঁচু বাসভবন থাকায় পাইপের নির্গত ধোঁয়া সরাসরি ভবনের দরজা-জনালা দিয়ে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ ভবনগুলোর বাসিন্দাদের। কারখানার পাশে অবস্থিত এমনই একটি ভবনের এক বাসিন্দা জানান, সারাদিনতো বটেই সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত কারখানা এ পাইপগুলো থেকে নির্গত ধোয়ায় ভবনের প্রায় প্রত্যেকটি কক্ষ অন্ধকার হয়ে যায়, আর এ ধোয়ার সংস্পর্শে সবারই চোখ জ্বালা-পোড়া করে সারাক্ষণ এমনকি চোখ দিয়ে পানি ঝড়তে থাকে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবিএম ইব্রাহিমের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই প্রকার এসিড মিশ্রিত ধোঁয়া মানুষের ফুসফুসের জন্য বেশ ক্ষতিকর এবং অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার সৃষ্টির জন্যও দায়ী এই বিষাক্ত গ্যাস। তাই তিনি এধরনের গ্যাস বায়ুমন্ডলে যাতে না ছড়ায় তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ