শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

ছায়াবৃক্ষ নিধন : চা বাগানগুলো হুমকির মুখে

হবিগঞ্জে ৫টি চা-বাগান রয়েছে। এর মধ্যে ২টি ন্যাশনাল টি কোম্পানির এবং ৩টি ব্যক্তি মালিকানাধীন। এশিয়ার বৃহত্তম চা-বাগান সুরমা বাগানের আয়তন প্রায় ৫ হাজার একর। নিয়মিত শ্রমিক ২২৮০ জন। আর ১০৫৫ হেক্টর বিস্তৃত তেলিয়াপারা চা-বাগানের জনসংখা ৭০০০। রেজিস্টার্ড শ্রমিক ১১০০ জন। গত বছর এ বাগানে চা উৎপাদিত হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার কে.জি, যা টার্গেট হতে প্রায় ৭৫ হাজার কেজি কম। নোয়াপারা চা-বাগানের আয়তন ৬৮৮ হেক্টর আর ৮২০ জন রেজিস্টার্ড শ্রমিকসহ মোট জনসংখা প্রায় ৪০০০। গত বছর এর উৎপাদন টার্গেট ৬ লক্ষ কেজি থাকলেও প্রাপ্তি সাড়ে ৫ লাখ কেজি। বৈকন্ঠপুর চা-বাগানের আয়তন ৯৫৫ হেক্টর, রেজিস্টার্ড শ্রমিক ৪০৪ জন এবং মোট জনসংখা প্রায় ১৩০০। বাৎসরিক উৎপাদন ১ লাখ ৩০ হাজার কেজি। এই ৫ টি চা-বাগানে কর্মরত সর্বমোট প্রায় ৪৫০০ শ্রমিকের মধ্যে অধিকাংশই নারী। সরেজমিন দেখা গেছে, মাধবপুরের ৫টি চা-বাগান হতে বাৎসরিক সর্বমোট প্রায় ২০ লাখ কেজি চা উৎপাদন করা হয় যার সিংহভাগই বিদেশে রপ্তানি করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমানে চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ৫০ মিলিয়ন কেজি। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ ও বিদেশে রপ্তানির করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা পালন করে মাধবপুর উপজেলার এই চা-বাগানগুলি। কিন্তু ছায়াবৃক্ষ পাঁচার, চা-চাষের আবাদি জমিতে মুলাসহ অন্যান্য ফসল চাষ, আর নানা সমস্যায় জর্জরিত আদিবাসী চা-শ্রমিকদের জীবন, সবমিলিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের ১৬৩টি চা-বাগানের মধ্যে সুবৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ এই ৫টি বাগানের চা উৎপাদন শিল্প। খড়া ও প্রতিকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি এই চা-বাগানগুলির চা উৎপাদনে চরম বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হল অনবরত ছায়াবৃক্ষ পাঁচার। এই চা বাগানগুলো থেকে রাতে দিনে পাঁচার হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজারিত ছায়াবৃক্ষ। বিশেষ করে সুরমা চা বাগান ও তেলিয়াপাড়া চা বাগান এলাকায় গাছ চোরচক্র ইদানিং বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সুরমা চা বাগানটির সাড়ে ৫ হাজার একর এলাকায় রয়েছে ৫০ জন পাহাড়াদার। তবুও চোরের হাত থেকে ছায়াবৃক্ষ রক্ষা করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়ক দিয়ে পাঁচার হচ্ছে এসব গাছ। ফলে চা গাছের কুড়িও রোদে পুরে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে চা উৎপাদনের হার গিয়েছে কমে আর গুণগত মানও হারাচ্ছে দিনে দিনে। নোয়াপারা চা-বাগানের ব্যাবস্থাপক ফখরুল ইসলাম ফরিদির কাছে চা-উৎপাদনের টার্গেট পুরন না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি সংগ্রাম প্রতিনিধিকে জানান, মূলত খরা ও খারাপ আবহাওয়াই এর কারণ। অপরদিকে ইদানিং চা-বাগানগুলিতে অব্যবহৃত জমির পাশাপাশি চা-গাছ কর্তন করেও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মুলা চাষের প্রবণতা। চা বাগানের শত শত একর জমিতে চা গাছের বদলে চাষ করা হচ্ছে মুলা। বাগানের চা-গাছ কর্তন চা-চাষের উপযোগী জমিতে মুলা বা অন্যান্য ফসল আবাদ করায় হ্রাস পাচ্ছে চা-বাগানগুলোর আয়তন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ