শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আ’লীগ গণতন্ত্র হরণ বিরোধীদের নিধন এবং লুণ্ঠনের কাজই করছে -রিজভী

গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃত্ববাদী বাকশালী শাসন, গণতন্ত্র হরণ, বিরোধী দল নিধন এবং অর্থনীতি লুণ্ঠনের কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে দুটো ইশতেহার তৈরি করে। এর একটি ‘ঘোষিত’, আরেকটি ‘অব দ্য রেকর্ড’ ইশতেহার। ঘোষিত ইশতেহারে ভালো ভালো কথা থাকলেও, ক্ষমতায় আসার পর সেই ইশতেহারটির বদলে অব দ্য রেকর্ড ইশতেহারের বাস্তবায়ন দেখা যায়। সেই ইশতেহার হলো কর্তৃত্ববাদী বাকশালী শাসন, গণতন্ত্র হরণ, বিরোধী দল নিধন এবং অর্থনীতি লুণ্ঠন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে এখন অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্র ও সমাজের সবখানেই এখন অনিয়ম আর দুর্নীতি। এই সরকারের উন্নয়ন? কাদের উন্নয়ন কিংবা কাদের জন্য উন্নয়ন? আসলে পর্বত-প্রমাণ দুর্নীতিই এদের উন্নয়ন। তাই জনগণের স্বাধীনতার জন্য আজ আমাদের শ্লোগান ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’।
দেশে অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, দেশে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। নারী ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ এখন নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরটি ঘোষণা করেছেন তার পিতার নামে। মানুষের ধারণা ছিল, তার পিতার সম্মানে হলেও মানুষকে একটু স্বস্তি ও নিরাপত্তা দেবেন। বন্ধ করবেন ব্যাংক ডাকাতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের মহোৎসব। বন্ধ করবেন বিরোধী প্রতিপক্ষের প্রতি কুৎসা রটানো। তবে প্রতিদিন হতাশার খবর ছাড়া আর কিছুই নেই। রিজভী বলেন, উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি, দেশজুড়ে নানা অপরাধের সংঘটনকারী অধিকাংশই ক্ষমতাসীনদের লোক।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্টে বলা হচ্ছে, দেশের শীর্ষ তিন জন গ্রাহক যদি কোনও কারণে ঋণ খেলাপি হন, তাহলে দেশের ২১ ব্যাংক মূলধন সংরক্ষণে ব্যর্থ হবে। আর মাত্র সাত জন শীর্ষ গ্রাহক খেলাপি হলে ৩৫টি ব্যাংক এবং ১০ জন শীর্ষ গ্রাহক খেলাপি হলে ৩৭টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়বে। এত ভয়ঙ্কর খবরের পর যখন নিশিরাতের সরকারের অর্থমন্ত্রী নিজেকে বিশ্বের এক নম্বর অর্থমন্ত্রী দাবি করেন তখন জনগণের বুঝতে বাকি থাকে না, যে এই সরকারের সবটাই শুভঙ্করের ফাঁকি।
দুদক এসব দেখে না উল্লেখ করে রিজভী বলেন, কারণ এদের গোড়া সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রসারিত। তারা ক্ষমতায় বসেছেন, কেবল লুটেপুটে-চেটেপুটে খেতে। দেশের বারোটা বাজুক বা তেরোটা বাজুক তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। রিজভী অভিযোগ, দেশে মানুষের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে একমাত্র নিরাপদে জনগণের ভোট ডাকাতি ছাড়া, আর খুন-গুম ছাড়া দেশে কিংবা বিদেশে কোথাও সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা মনে করে, ভোট ও বিবেক দুটোই কিনে ফেলেছে। বিএসএফ বাংলাদেশিদের হত্যা করলেও সরকার ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছে না।
রিজভী বলেন, বানিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী বলেছেন-পিঁয়াজের দাম স্থিতিশীল হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। বানিজ্যমন্ত্রীকে বলতে চাই-বৈশাখ গেল, জৈষ্ঠ্য গেল, দেখতে দেখতে পৌষ-মাঘ সবই গেল, কিন্তু পিঁয়াজের দাম কমলো না। এখন শীতকাল, পিঁয়াজসহ শাকসবজীর সময়, অথচ শুধু পিঁয়াজই নয়, সকল শাকসবজীর দামই লাগামহীন ঘোড়ার মতো মানুষের নাগাল থেকে ছুটে চলছে। শাকসবজী ছাড়াও নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের মূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার নাগালের বাইরে। অথচ মধ্যরাতের সরকারের বানিজ্যমন্ত্রী নি:সঙ্কোচে বললেন, পিঁয়াজের দাম স্থিতিশীল হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। গবুচন্দ্র মন্ত্রীদের বক্তব্য-বিবৃতিতে মানুষ এখন অতিষ্ঠ। তাহলে কি কথাই এই সরকারের উন্নয়ন ? কাদের উন্নয়ন কিংবা কাদের জন্য উন্নয়ন ? আসলে পর্বত-প্রমান দুর্নীতিই এদের উন্নয়ন। বাস্তবতা হলো, এই স্বাধীন দেশে এখন জনগণ পরাধীন। তাই জনগণের স্বাধীনতার জন্য আজ আমাদের শ্লোগান ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ