বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

মানবিক কারণেই খালেদা জিয়ার মুক্তি জরুরী

স্টাফ রিপোর্টার: মানবিক কারণেই কারাবন্দী দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি জরুরী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকারের অন্যকোনো রাজনীতি না করে শুধুমাত্র তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় নিয়েই তাকে মুক্তি দেয়া উচিৎ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাথে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে টেলিফোনের আলাপের বিষয়ে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কিনা প্রশ্ন করা হলে গতকাল শুক্রবার রাতে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, উনি (ওবায়দুল কাদের) কি বলেছেন এটা উনাকে জিজ্ঞাসা করলে, উনাকে বললে বেটার হবে। এখন প্রশ্ন একটাই যে, দেশনেত্রীকে এই মুহূর্তে তার শরীরের যে অবস্থা, গুরুতর অবণতি হয়েছে তার ট্রিটমেন্টের জন্য তাকে বাইরে বিদেশে পাঠানোর জন্য তার পরিবার থেকেই আপনার আবেদন জানানো হয়েছে। সরকারের এখন আর এগুলো নিয়ে বা অন্য কারো এগুলো নিয়ে অন্যকোনো রাজনীতি না করে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাকে মুক্তি দেয়াটা অত্যন্ত জরুরী বলে আমি মনে করি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের কথা পরিস্কার, ম্যাডামের মুক্তির দাবিটা নিয়ে আমরা আজকে নয়, গত ২ বছর ধরেই আমরা কোর্টে যাচ্ছি, কথা বলছি, রাস্তায় নামছি, চিৎকার করছি। সারা দেশবাসী এই মুহূর্তে ম্যাডামের মুক্তির দাবি করছে। একই সঙ্গে আজকে তার (খালেদা জিয়া) পরিবারও করছে। কয়েকদিন আগেই তারা (পরিবার) লিখিতভাবে বিএসএমএমইউ‘র ভাইস চ্যান্সলরকে তার এডভান্স ট্রিটমেন্টের জন্য তারা চিঠি দিয়েছেন। আর বাকী প্রশ্নগুলো সব অবান্তর থাকে, এগুলো আর প্রশ্ন থাকে না। তিনি জানান, চেয়ারপার্সনের আইনজীবীদের সাথে তার মামলার বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
গতকাল সকালে ধানমন্ডির দলের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আমার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন, আলাপ হয়েছে। তাদের দলের পক্ষ থেকে তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছেন। আমি যেন বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করি।
এদিকে আগামী সাপ্তাহে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবার আবেদন করবে তার আইনজীবীরা। স্থায়ী কমিটির সাথে বৈঠকের পর সুপ্রিমকোর্টের প্রবীন আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এই কথা সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, আমরা আবার ম্যাডামের জামিনের দরখাস্ত করবো। আশা করি, অন্ততঃ দেশবাসীকে আমাদের হাইকোর্ট বিভাগ এমন একটি ইঙ্গিত দেবেন যে, না দেশে বিচার ব্যবস্থা আছে, বিচার ব্যবস্থা না থাকলে বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা জামিন দিতাম না। আমরা বিশ্বাস করি, হাইকোর্ট দেশের জনগনের শেষ আশ্রয়স্থল। সেখানে আমরা এবার জামিনের আবেদন যদি করি অবশ্যই আমরা জামিন লাভ করবো।
কবে নাগাদ জামিন আবেদন করবেন জানতে চাইলে প্রবীন আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, সিনিয়র ল‘ইয়ার্সের সঙ্গে আলাপ করে এজ আরলি এজ পোসেবল- মে বি নেকস্ট উইক, উইক আফটার আমরা আবেদন করবো।
গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে গিতকাল বিকেলে জাতীয় স্থায়ী কমিটিসহ সিনিয়র আইনজীবীদের এই বৈঠক হয়। লন্ডন থেকে স্কাইপেতে যুক্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মির্জা ফখরুল ছাড়াও বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ