মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঝিনাইদহে সিন্ডিকেট করে ওষুধের মূল্য আদায় ॥ নির্বিকার প্রশাসন

 ঝিনাইদহ সংবাদদাতা : ঝিনাইদহে ওষুধ বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে এমআরপি মূল্যে ওষুধ বিক্রি করায় বিপাকে পড়েছেন রোগী এবং তার স্বজনরা। এখানে কয়েকদিন আগেও শতকরা ৫ থেকে ১০ ভাগমূল্য ছাড়ে রোগীরা ওষুধ কিনতে পারলেও কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতিরি বেধে দেয়া নিয়মে ফার্মেসীগুলোকে ওষুধ বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিক্রেতা-ক্রেতা সবার মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে বুধবার দিনব্যাপী ভ্রাম্যমান আদালত এ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে। সেই অভিযান চলা কালে

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ছয় মাস বা এক বছর পর্যন্ত খেলেও তা স্বাস্থ্যের জন্য কোনো ক্ষতি করে না বলে দাবি করেছেন ঝিনাইদহ ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হাসান। তার ভাষ্যে, এটি মেডিকেল টেস্টে প্রমাণিত। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়া যাবে না, এমন বিধানও নেই।

 এ বক্তব্যের কারণে তার সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরফানুল হকের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, মেয়াদ শেষ হলে ওষুধ যে উপাদান দিয়ে তৈরি হয় তার গুণগতমান নষ্ট হয়ে যায়, যা খেলে মানবস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলা শহরের বিভিন্ন ফার্মেসিতে ৫-৭ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ বিক্রি হচ্ছিল। প্রায় এক মাস ধরে এই কমিশনে ওষুধ বেচা বন্ধ রেখেছেন বিক্রেতারা। এর বদলে তারা কোম্পানির এমআরপি দরে ওষুধ বিক্রি শুরু করেন, এতে রোগীর স্বজনদের নাভিশ্বাস ওঠে।

এমন নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার শহরের প্রায় ১৫টি ফার্মেসিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে যায়। অভিযানে তিনটি ফার্মেসিকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরফানুল হক। এসময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডল, জেলা ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরফানুল হক জানান, ফার্মেসিতে কমিশন বাদে এমআরপি রেটে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ঘটনার সত্যতা পেয়ে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় শহরের মাসুদ ফার্মাকে ২ হাজার টাকা, আক্তার ফার্মেসিকে ৫ হাজার ও তাজমহল ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই সময় অন্যদের সতর্ক করা হয়, ভবিষ্যতে যেন এমন অনিয়ম না করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরফানুল হক বলেন, ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান যে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়া যাবে বলেছেন তা তাকে প্রমাণ করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম বলেন, কোনোক্রমেই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়া যাবে না। মেয়াদ শেষ হলে ওষুধ যে উপাদান দিয়ে তৈরি হয় তার গুণগতমান নষ্ট হয়ে যায়, যা খেলে মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমনকি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কোন ওষুধের মেয়াদ কবে শেষ হবে, কতদিন গুণগতমান থাকবে তা কোম্পানিগুলো দেখেই তৈরি করে। ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তা কীভাবে কোন নির্দেশনায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়া যাবে বলেছেন সেটা আমার বোধগম্য নয়।

এদিকে ক্ষুব্ধ জনসাধারণ অভিযোগ করে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছামত দামে ওষুধ বিক্রি করে আসছেন বিক্রেতারা। কিন্তু ওষুধ প্রশাসন কোনো তদারকি করে না। পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় ৫-১০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু ঝিনাইদহে এর ব্যতিক্রম। সরকারের উচিত ওপর মহল থেকে এর তদারকি করা এবং যারা এর সাথে জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ