ঢাকা, শুক্রবার 7 August 2020, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

এবার নাইজেরিয়ায় ইদুর থেকে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন ভাইরাস, ৭০ জনের মৃত্যু

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই নতুন প্রাণঘাতি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।নতুন এই ভাইরাসের নাম লাস ভাইরাস।এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে নাইজেরিয়ায় এবং এর উৎপত্তি ইঁদুর থেকে।ইতোমধ্যে লাসা ভাইরাস জ্বরে ৭০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।গত মাসের (জানুয়ারি) মাঝামাঝি থেকে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে থাকে।বৃহস্পতিবার দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (এনসিডিসি) বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে।খবর আল-জাজিরার।

করোনাভাইরাসের মহামারিতে বিশ্ববাসী যখন দিশেহারা ঠিক সেই সময় এই নতুন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলো।এরই মধ্যে এই ভাইরাসে প্রাণ গেছে ১৪৮৩ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন ৬৫ হাজার মানুষ। এর মধ্যে যেখান থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে কেবল সেই উহানেই আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৫২ হাজার মানুষ। ভাইরাসটি ইতোমধ্যে বিশ্বের কমপক্ষে ২৬টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

এমন অবস্থায় ইঁদুর থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় নতুন আতঙ্ক দেখা দিলো। 

এনসিডিসি জানিয়েছে, নাইজেরিয়ার তিনটি প্রদেশে লাসা জ্বর ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশটির তিন প্রদেশে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অন্ডো, ডেলটা ও কাদুনা রাজ্যে চারজন স্বাস্থ্যকর্মী নতুন করে লাসা জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝির তুলনায় নাইজেরিয়ায় লাসায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ৪৭২ জনের লাসা জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসকরা বলছেন, খাবার, মলমূত্র ও গৃহস্থালি জিনিসপত্রের মাধ্যমে মানুষের শরীরে লাসা জ্বর ছড়ায়। ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই জ্বর প্রাণঘাতী নয়। এতে আক্রান্ত হলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাথাব্যথা, মুখে ঘা, মাংসপেশিতে ব্যথা ও ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ হয়। এছাড়া এই জ্বরে আক্রান্ত রোগীর অনেক সময় হার্ট ও কিডনি অচল হয়ে যায়।

লাসা জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে ৬ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত আলাদা স্থানে রাখতে হয়। কারণ এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে গেলেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, লাসা জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম দিকে চিকিৎসার জন্য এন্টিভাইরাল রিবাভিরিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় মাত্র ৫টি ল্যাবরেটরি স্থাপন করে এই রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালানো হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

১৯৬৯ সালে উত্তর নাইজেরিয়ার লাসা শহরে প্রথম শনাক্ত করা হয় বলে এ রোগের নাম দেয়া হয়েছে লাসা। ইবোলা ও মারবার্গ ভাইরাসের গোত্রভুক্ত লাসা জ্বর।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ