বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনার কোয়াক ডাক্তার ও অবৈধ ওষুধ

খুলনা অফিস : গ্রামে-গঞ্জের গ্রাম্য ডাক্তাররা হাতে কেটে ওষুধ বিক্রি করেন। নিজেরা রোগী দেখেন আবার নিজেরাই তাদের ওষুধ দেন। গ্রাম্য ডাক্তারদের পাশাপাশি ফার্মেসীগুলোতেও সাধারণ মানুষ গিয়ে রোগের কথা বলে ওষুধ কিনে নেয়। রেজিষ্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ বা প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি নিষিদ্ধ থাকলেও তৃণমূলে সেটি বাস্তবায়ন হতে দেখা যায় খুব কম। আর এ ধরনের ওষুধ বিক্রেতাও কোয়াক(গ্রাম্য) ডাক্তাররা কোম্পানীর বৈধ প্রতিনিধির কাছ থেকে ওষুধ না নিয়ে খুলনার সর্ববৃহৎ ওষুধ বাজার হেরাজ মার্কেট থেকে কম দামে বিভিন্ন নিম্নমানের কোম্পানীর ওষুধ কিনে নিয়ে তাদের ফার্মেসী বা চেম্বারে বিক্রি করে থাকেন। বিশেষ করে হেরাজ মার্কেটের দোতলার কিছু নির্দিষ্ট দোকান থেকে বিক্রয় নিষিদ্ধ ফিজিশিয়ান স্যাম্পল এবং নিম্নমানের কোম্পানীর ওষুধগুলো যেমন কিনে নিচ্ছেন গ্রামের ডাক্তাররা তেমনি নকল ও ভেজাল ওষুধেও ছেয়ে গেছে গ্রাম-গঞ্জের ওষুধের দোকানগুলো। একদিকে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রি করে এক শ্রেণির ডাক্তার আইন লংঘন করছেন অপরদিকে সেগুলো কিনে হাতে কেটে বিক্রি করছেন ওষুধের দোকানী ও গ্রাম্য ডাক্তাররা। সেই সাথে কম দামে নকল ও ভেজাল ওষুধ বিক্রির ফলে গ্রামের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এক প্রকার ঝুঁকির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

খুলনার সর্ববৃহৎ ওষুধের মার্কেট নগরীর ক্লে রোডের হেরাজ মার্কেট। এ মার্কেটে দু’শতাধিক দোকান থাকলেও দোতলার অধিকাংশ দোকানেই বিক্রি হয় কিছু নিষিদ্ধ ওষুধ। বৃহস্পতিবার দিনভর সেখানে অবস্থান করে এমন চিত্রই মিলেছে। বিভিন্ন মফস্বল এলাকা থেকে ওষুধের দোকানদার এবং কোয়াক ডাক্তাররা ব্যাগ নিয়ে এসে বিভিন্ন দোকান থেকে তালিকা ধরে ধরে ওষুধ কিনছেন।

সরোজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, কিছু হার্বাল ওষুধ যেমন ঘরে বসে তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছে তেমনি নেশাজাতীয় কিছু ওষুধও বিক্রি করা হচ্ছে দেদারছে। চলছে যৌন উত্তেজক কিছু ওষুধও। কেউ কেউ বিক্রয় নিষিদ্ধ ফিজিশিয়ান স্যাম্পল লেখাটি ব্লেড বা ছুরি দিয়ে কেটে সেগুলো বাজারজাত করছেন। স্যাম্পল ওষুধে স্বাস্থ্য ঝুঁকি না থাকলেও এটি যেমন আইনত দন্ডনীয় অপরাধ তেমনি অন্যান্য নকল, ভেজাল, নেশাজাতীয় এবং যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির ফলে স্বাস্থ্যসেবায় ঝুঁকির পাশাপাশি যুব সমাজকে ধংসের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। নিজেদের সামান্য স্বার্থের জন্য একটি জাতিতে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ যেমন দায়ী তেমনি তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিরবতাও এগুলো ক্রমান্বয়ে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠছে।

ওষুধ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ কেমিষ্টস্ এন্ড ড্রাগিষ্টস্ সমিতিকেও এ ব্যাপারে মাঝে-মধ্যে ভূমিকা নিতে দেখা গেলেও পরে আবার থমকে যায়। আজ থেকে মাস ছয়েক আগে নগরীর হেরাজ মার্কেটের দোতলার রোকেয়া ফার্মেসীতে লক্ষাধিক টাকার নকল ওষুধ ধরা পড়ার পর দোকান মালিক সমিতি সেটিকে কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে ওষুধগুলো জব্দও করা হয়েছিল। কিন্তু পরে সে ওষুধগুলো কোথায় যায় তার হিসাব নেই কারো কাছে। হেরাজ মার্কেটের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দোতলার মসজিদ মার্কেট এবং ক্লে রোড সংলগ্ন দোতলা স্যাম্পল মার্কেট হিসেবে পরিচিত। কোন কোন দোকানে নকল ওষুধ কেটে স্যাম্পল হিসেবে বিক্রি করা হয়। যেগুলো মানুষের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ