মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় গণফোরাম

স্টাফ রিপোর্টার: গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়াকে মানবিক কারণে দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। গণফোরামের কার্যনির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া- বয়স্কা মহিলা। উনাকে যেভাবে রাখা হয়েছে এটা কী মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়? মানবিক কারণে তো বিবেচনা করতে পারেন, এ সরকার যদি বিবেচনা করে তাহলে খুবই ভালো হয়। কারণ সামনের দিন আসছে যেদিন গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি একইসাথে বাংলাদেশে উচ্চারিত হবে-এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। যেটা অতীতে আমরা বাংলাদেশে দেখেছি যেমন করে উচ্চারিত হয়েছিলো বিভিন্ন সময়ে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে এমন মন্তব্য করেন গণফোরামের কার্যনির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এই দাবি জানান। সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারী হামিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে-গণফোরামের কার্যনির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, দলের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিকসহ নেতৃবন্দ বক্তব্য রাখেন। এ সময় গণফোরামের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ প্রায় অর্ধশত কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, আমাদের লিডার ড. কামাল হোসেন। পার্লামেন্টে কোনো কোনো মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আমি তাকে বলি, আপনি ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে কি জানেন? আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে শুরু করে উনসত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোতে সংবিধান রচনা করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দিন দায়িত্ব দিয়েছিলেন ড. কামাল হোসেনকে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার সাথে সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হয়ে যান। তারপর ড. কামাল হোসেনও গ্রেফতার হন। ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের হরিপুর কারাগারে ছিলেন, তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হয়েছিলো, তার বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠনও হয়েছিলো, তার বিরুদ্ধে কারাদন্ডের সমস্ত ব্যবস্থা পাকিস্তান সরকার নিশ্চিত করেছিলো।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন জানলেন ৫ ডিসেম্বর ড. কামাল হোসেন পাকিস্তানে বন্দি আছেন, তাকে সাথে করে নিয়ে আসলেন, তাকে বিমানে নিয়ে পাকিস্তান থেকে লন্ডন, লন্ডন থেকে ক্যালকাটা হয়ে বাংলাদেশে আসলেন। উনি সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। আমিও সেই কমিটির একজন সদস্য ছিলাম। শুধু তাই নয়, আপনারা কী জানেন? বাংলাদেশ যেদিন জাতিসংঘে অন্তর্ভুক্ত হয়, বাংলাদেশ যেদিন জাতিসংঘের স্বীকৃতি লাভ করে সেদিন জাতিসংঘ প্রাঙ্গণে অন্যান্যদেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনকারী ছিলেন ড. কামাল হোসেন। তার সম্বন্ধে কথা যদি বলেন, আপনাদের বিরুদ্ধে কথা বলার নেই। খালি রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করবো- আপনাদের এই মস্তিস্ক বিকৃত খুব তাড়াতাড়ি আল্লাহ যেন হেফাজত করেন। মহান আল্লাহর কাছে বলি- তাদের মাথা যেন ঠিক করে দেন।

দলের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার যা শুরু করেছে তা জনগণের অর্থের অপচয় মাত্র। আজ যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন তিনি নিজেও লজ্জা পেতেন তাদের কর্মকান্ড দেখে। তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে দূরে সরে গেছে। এই সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন দেশ মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন থেকে দূরে সরে যাবে। তাই ওদেরকে হটিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নাই। বছরব্যাপী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের কঠোর সমালোচনা করেছেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। পাশাপাশি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ২০১৮ সালে আপনি বলেছিলেন, আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা। নির্বাচনে কারচুপি করে ক্ষমতায় থাকব না। অথচ দিনের ভোট রাতে দিয়ে ক্ষমতায় আছেন, বঙ্গবন্ধুকে আপনি অপমান করেছেন। বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়ার কোনো অধিকার আওয়ামী লীগের নেই।

গণফোরামের এ নেতা বলেন, বাংলাদেশের যুবারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান অর্জন করেছে। কিন্তু সরকার বললেন, এটি মুজিববর্ষের সেরা উপহার। আরেকটি কথা বলেন না, মুজিববর্ষের সেরা উপহার ঢাকা দুই সিটির ভোটডাকাতির মেয়র নির্বাচন। দুইজন মেয়র আপনারা উপহার দিয়েছেন, তাতে জনগণের কোনো সমর্থন নেই। এটাও মুজিববর্ষের সেরা উপহার হতে পারে।

মুজিববর্ষের আরও সমালোচনা করে তিনি বলেন, মুজিববর্ষ পালন করেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু পৃথিবীর কোনো দেশে বছরের ছয়মাস আগে থেকে বছরব্যাপীৃআবার বছরের পরেও আরও কতদিন মুজিববর্ষ পালন করবেন? আজকে যদি শেখ মুজিব জীবিত থাকতেন, তিনিও তো লজ্জা পেতেন। হাজার হাজার লাখ কোটি খরচ করে, ব্যানার-ফেসটুন লাগিয়ে, কীসব স্লোগান দিচ্ছেন? স্লোগানগুলো দেখলে মনে হয়, আপনারা জাতির সঙ্গে মশকরা করছেন।

তিনি বলেন, মুজিববর্ষের সেরা উপহার বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সর্বনাশ, ব্যাংক-বীমা শিল্পের সর্বনাশ, গার্মেন্ট সেক্টরের সর্বনাশ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। আপনারা হলেন ছাড়পোকা, আওয়ামী লীগ সরকার ছাড়পোকা, রক্তচোষা পোকা। আওয়ামী লীগ সরকার বিচার বিভাগ ধ্বংস করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয়করণ করেছে, নির্বাচন কমিশনকে নষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সুব্রত বলেন, এটা হচ্ছে একটা নষ্ট সরকার, ভ- সরকার, চোর সরকার, ডাকাত সরকারক। এখন ১৬ কোটি মানুষের দায়িত্ব অতিদ্রুত এই সরকারকে বিতাড়িত করা।

বাংলাদেশে একটি আজব সরকার ক্ষমতা দখল করে তা দীর্ঘস্থায়ী করার রাজচালাকি করে চলেছে বলে মন্তব্য করেন সুব্রত। এ বিষয়ে তার বক্তব্য, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য গণফোরাম রাজপথে নেমেছে। যতদিন এই সরকারকে ঝেঁটিয়ে বিদায় না করতে পারব, ততদিন গণফোরামের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ