ঢাকা, মঙ্গলবার 29 September 2020, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

সা ক্ষা ৎ কা র -মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ,আমীরে শরিয়ত বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন

 

আমরা নিজেদের গণতান্ত্রিক দেশ দাবি করি। কিন্তু সেখানে যদি গণমাধ্যমেরই স্বাধীনতা না থাকে তাহলে দেশকে কিভাবে গণতান্ত্রিক দেশ বলা যাবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে এই নয় যে, যা খুশি তা বলে যাবো বা প্রচার করবো। আবার সত্যকে প্রকাশ করতে বাধা দেয়াটা গণতন্ত্রের শিষ্টাচারের মধ্যে পড়েনা।

সংগ্রাম : দেশের সংবাদপত্র এবং অন্যান্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে দেশ ও জনগণের জন্যে কতটা জরুরী মনে করেন?

মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ : সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা খুবই দরকার। বিশেষ করে আমরা গণতান্ত্রিক দেশ। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক একটি দেশ হিসেবে আমরা দাবি করি। এজন্য গণতন্ত্রের দাবিই এটি। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকবে নীতিগতভাবেই। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা না থাকলে সে দেশকে গণতান্ত্রিক দেশ বলা যায়না। এটা আমার বক্তব্য।  

সংগ্রাম : দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হলে গণমাধ্যমেও সংকট সৃষ্টি হয়। এর থেকে বেরিয়ে আাসর উপায় কি? 

মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ : রাজনৈতিক সংকট হতেই পারে। এ সংকট পরষ্পর একদল আরেকদলের সাথে যদি সম্প্রীতি বহাল রাখে তাহলে নিজেরা বৈঠক করেই এ সংকট দূর করতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক সংকট যদি সরকারের সঙ্গেই হয়ে যায় সেক্ষেত্রে সরকার যদি আন্তরিক না হয় তাহলে সে সংকট দূর করা কঠিন হয়ে যায়। সরকার যদি মনে করে অমুক দলকে আমরা সংকটে ফেলে রাখবো এবং এই ভয়ে তাদেরকে যদি স্বাধীনভাবে রাজনীতির ময়দানে বিচরণ করতে না দেয়, তখন সম্পূর্ণরূপে সংকট দূর করা সম্ভব নয়। গণমাধ্যম সংকটে পড়বে কিভাবে? সরকার যখন পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখবে তখনই তো সংকট পড়বে। গণমাধ্যম বলতে পত্রপত্রিকা বা মিডিয়াই তো বুঝায়। তবে স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে, আমার খেয়াল খূশি মতো আমি কথা বলবো, খেয়াল খুশি মতো কথা প্রচার করবো। সবারই একটি নৈতিকতাবোধ থাকতে হবে। 

সংগ্রাম: তথ্য-প্রযুক্তি আইন গণমাধ্যমের মাথার উপর ঝুলন্ত খাঁড়ার মত। আপনার অভিমত বলুন 

মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ : সরকারের কোনো পলিসির বিরুদ্ধে কিছু বললে সরকার এ্যাকশন নিতে পারবে। তথ্য প্রযুক্তি আইন, এটা যদি দেশকে বা দেশবাসীকে বিভ্রান্তি করা থেকে, বিশৃঙ্খলা করা থেকে রক্ষা করার জন্য হয়ে থাকে তাহলে তো এটা ভালো। আর যদি সরকার যদি শুধুমাত্র নিজের পলিসিকে, তার সেই পলিসি ভালো হোক মন্দ হোক, সুরক্ষা করার জন্য করা হয়ে থাকে তাহলে এটা কোনো অবস্থাতেই মঙ্গলজনক হতে পারে না। কারণ অনেক সময় সরকারের পলিসি কুরআন-সুন্নাহ মতো হয়না। সেক্ষেত্রে সেই পলিসির বিরোধীতা করা, বিরুদ্ধে কথা বলা ঈমানী দায়িত্ব। একইসাথে ঈমানের দাবিও। ঈমানের এই দাবি পূরণ করার জন্য তখন আলেম এবং মুসলমানদের কথা বলাটা ফরজ হয়ে যায়। 

সংগ্রাম : প্রশাসনসহ সর্বত্র দলীয়করণের একটি অভিযোগ উঠেছে-এটিকে আপনি কিভাবে দেখছেন 

মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ : আমরা বলছি বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও প্রধানমন্ত্রী বলেন বা দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, উনাদের তো আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী মনে করলে হবেনা। যে দেশে সব মতের লোক, সব দলের লোক বাস করছে। দলমত নির্বিশেষে সকলকেই তার ন্যায্য অধিকার পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু আওয়ামী লীগের নয়। শুধু আওয়ামী লীগের দিকে তাকালে হবেনা। দলমত সবার দিকে তাকাতে হবে। সকলেই যেন সবার অধিকার পায় সেভাবে দায়িত্বপালন করতে হবে। শুধু আওয়ামী লীগ সুবিধা পাবে অন্যরা সুবিধা পাবেনা, এটি যেন না হয়। 

সংগ্রাম : দেশে এখন নানাবিধ সমস্যা বিরাজমান। আপনার দৃষ্টিতে চলমান মূল সমস্যাগুলো কি কি? একইসাথে করণীয় কি? 

মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ : আমি যা দেখি এখন, দেশের দ্বীনি সমস্যাও আছে। রাজনীতিক সমস্যাও আছে। রাজনীতিক সমস্যা সামাজিক ও রাজনীতিভাবে মানুষ সমাধান করতে পারে। আমাদের দেশে সামাজিক বা রাজনীতিকভাবে অধিকার আদায়ের জন্য ভোটাভুটির সিস্টেম রয়েছে। বাস্তব অবস্থা হচ্ছে আমাদের দেশে সেই সিস্টেম মতো মানুষ এখন আর ভোট দিতে পারে না। দেখা যায়, ভোট না দিলেও শক্তিশালীরা তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দেয়। ভোট দেয়া না দেয়ার কোনো পরোয়াই করেনা। দেখা যায়, অনেকে ভোট দিতে পারে নাই, তাদেরতেও বলে দেয়া হচ্ছে এই বলে যে, আপনার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। একজনের ভোট আরেকজন দেয় কিভাবে? এটি দেশের জন্য খুবই বড় সমস্যা বলে আমি মনে করি। এটি ক্রমশ: দেশকে ভাবহ সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।  

আর দ্বীনি সমস্যা হচ্ছে তাবলীগ জামায়াতের সংকট। তাবলীগ জামায়াতের মধ্যে দুটি গ্রুপ হয়েছে। একটি গ্রুপকে ‘ওলামা গ্রুপ বা জোবায়ের বলা হয়। যারা সঠিক নীতি আদর্শের উপর রয়েছে।  আরেকটি গ্রুপকে এতাতী গ্রুপ বলা হয়। যারা মূলত হযরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) এর নীতি আদর্শের উপর নাই। এরা ভ্রষ্টতার মধ্যে আছে। সরকার ইচ্ছে করলে এ জিনিসটা মিটিয়ে দিতে পারে। এটি সরকারের একবারেই সহজ কাজ। কিন্তু সরকার কেন এই সংকট দূর করার চেষ্টা করছেনা সেটা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। 

সংগ্রাম : বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? 

মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ : গণতান্ত্রিক অধিকারই তো নেই। তাহলে আর কি থাকে। ভোটের মাধ্যমেই সব কিছু হয়ে থাকে। কিন্তু সেই পরিবেশই তো নেই। যিনি বসেছেন তো বসেছেনই। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত। এটি পলিটিক্যাল বিরাট একটি সংকট। একজনের ভোট আরেকজন দিয়ে দিচ্ছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে কিভাবে এটি হতে পারে?

সংগ্রাম : ১৭ই জানুয়ারি দৈনিক সংগ্রামের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠানটির সাংবাদিক-কর্মচারী ও পাঠকের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ : সংগ্রাম পত্রিকা সাংবাদিকতার জগতে সবচেয়ে সুন্দর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তারা সুন্দর একটি পলিসির উপর কায়েম আছে। ভবিষ্যতেও ইনশাআল্লাহ থাকবে। সংগ্রাম পত্রিকার প্রচার অভিযান ভবিষ্যতে আরও উজ্জ্বল হোক এই কামনা করি।

সাক্ষাৎকার গ্রহণে দৈনিক সংগ্রামের 

স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ জাফর ইকবাল

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ